বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদো অং মার্মা পাড়ার বৌদ্ধবিহার মাঠ থেকে জাফর আলম প্রকাশ বাবুল (৫৫) নামে এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বৌদ্ধবিহারের সিঁড়ির পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহত বাবুল বাইশারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল চিতার পাড়া এলাকার মৃত ওসমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বৌদ্ধবিহারের সিঁড়িতে রক্তের দাগও দেখা গেছে। খবর পেয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শওকত জামিল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে কোনো এক সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বৌদ্ধবিহারের রক্ষণাবেক্ষণকারী সাবেক ইউপি সদস্য ধুংচাই তাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শওকত জামিল জানান, বৌদ্ধবিহারের ভেতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় অংখ্যচিং মার্মা নামে একজনকে পাওয়া গেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের স্বজনরা জানান, বাবুলের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল বলে তাদের জানা নেই। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শওকত জামিল জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাইশারী সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা নিরাপত্তা জোরদার করেন। টহল কমান্ডার সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সত্যজিৎ জানান, মরদেহ উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী: 























