ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের নেভি-ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে সাগরে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস শখের মাছ চাষে বিষ প্রয়োগ, লাখ টাকার ক্ষতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের মৃত্যু হোয়াইক্যংয়ে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে চালক নিহত, নারীসহ আহত ৫ আজ মহালয়া, দেবীপক্ষের সূচনায় শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু কক্সবাজারে বিপাকে সেই টুকু দ্য আগলি, স্কুটিতেও গুণেছেন ১৮ হাজার জরিমানা! সৌদি আরবে মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর দেশে এলো মনছুর আলমের মরদেহ, সকাল ১১টায় জানাজা গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচন ঘিরে ইউএনওর ৮ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে ৯ অক্টোবরের সংবাদ! কক্সবাজারের সমালোচনা হোক, অপপ্রচার নয় রামুতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার যৌতুকের বলি চকরিয়ার গৃহবধূ মরিয়ম অপপ্রচার দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যাবে না-কচ্ছপিয়ার বিএনপি নেতা আবছার “কথা”আর কথা বলবে না রামুতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত : নদীর তুফান দল চ্যাম্পিয়ন

টোল ইজারার কাগজে টেম্পারিংয়ের অভিযোগ, অতিরিক্ত টোল আদায়ে বিপাকে তিন ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর-গজালিয়া সড়কের বান্দরবান সীমানা এলাকায় জেলা পরিষদের টোল পয়েন্ট নিয়ে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ইজারা নথি টেম্পারিং ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের ফলে বিপাকে পড়েছেন আজিজনগর, গজালিয়া ও ফাইতং ইউনিয়নের কৃষিপণ্য ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়রা জানান, এ সড়ক দিয়ে তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষিপণ্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়। টোল পয়েন্টে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে আজিজনগর-গজালিয়া সড়কের টোল পয়েন্টটি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে এক বছরের জন্য ১ লাখ ৭২ হাজার ২০০ টাকায় জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মূল ইজারা বিজ্ঞপ্তির কাগজ টেম্পারিং করে ১ লাখ ৭২ হাজার ২০০ টাকার স্থলে ৩ লাখ ৪০ হাজার ২০০ টাকা দেখানো হয়েছে। একইভাবে ভ্যাট ২৫ হাজার ৮৩০ টাকার স্থলে ৫১ হাজার ৩০ টাকা এবং আয়কর ১৭ হাজার ২২০ টাকার স্থলে ৩৪ হাজার ২০ টাকা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই কাগজ দেখিয়ে ইজারাদার জামাল উদ্দিন টোল পয়েন্টটি আরও এক ব্যক্তির কাছে ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় উপ-ইজারা দিয়েছেন। তবে জেলা পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

এদিকে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উপ-ইজারাদার নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টোল আদায় করছেন। তাদের দাবি, জেলা পরিষদের পণ্যের তালিকা অনুযায়ী জাম্বুরা প্রতি ১০০ পিসে ৮ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ৪০ টাকা। লেবু প্রতি ১০০ পিসে ৩ টাকা নির্ধারিত থাকলেও নেওয়া হচ্ছে ২৫ টাকা। পান খাঁচি প্রতি ১৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

ব্যবসায়ী মো. ফরিদ বলেন, “আমার ২০০টি জাম্বুরা থেকে ৭৫ টাকা নেওয়া হয়েছে, যেখানে ১৬ টাকা নেওয়ার কথা। এভাবে কী ব্যবসা করা যায়?”

আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন মহরম বলেন, “পণ্যের টোল বেশি নেওয়ার বিষয়ে অনেকেই আমাকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। আশা করছি, জেলা পরিষদ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার জামাল উদ্দিন বলেন, “আমি কোনো টেম্পারিং করিনি। যদি করে থাকি, জেলা পরিষদ আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তাতে আপনাদের কী সমস্যা?”

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “অফিশিয়ালি সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার সুযোগ নেই। পণ্যের টোল বেশি নিলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে একটি লিখিত অভিযোগ থাকলে সুবিধা হয়।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নেভি-ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে

টোল ইজারার কাগজে টেম্পারিংয়ের অভিযোগ, অতিরিক্ত টোল আদায়ে বিপাকে তিন ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৮:০৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর-গজালিয়া সড়কের বান্দরবান সীমানা এলাকায় জেলা পরিষদের টোল পয়েন্ট নিয়ে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ইজারা নথি টেম্পারিং ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের ফলে বিপাকে পড়েছেন আজিজনগর, গজালিয়া ও ফাইতং ইউনিয়নের কৃষিপণ্য ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়রা জানান, এ সড়ক দিয়ে তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষিপণ্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়। টোল পয়েন্টে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে আজিজনগর-গজালিয়া সড়কের টোল পয়েন্টটি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে এক বছরের জন্য ১ লাখ ৭২ হাজার ২০০ টাকায় জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মূল ইজারা বিজ্ঞপ্তির কাগজ টেম্পারিং করে ১ লাখ ৭২ হাজার ২০০ টাকার স্থলে ৩ লাখ ৪০ হাজার ২০০ টাকা দেখানো হয়েছে। একইভাবে ভ্যাট ২৫ হাজার ৮৩০ টাকার স্থলে ৫১ হাজার ৩০ টাকা এবং আয়কর ১৭ হাজার ২২০ টাকার স্থলে ৩৪ হাজার ২০ টাকা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই কাগজ দেখিয়ে ইজারাদার জামাল উদ্দিন টোল পয়েন্টটি আরও এক ব্যক্তির কাছে ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় উপ-ইজারা দিয়েছেন। তবে জেলা পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

এদিকে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উপ-ইজারাদার নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টোল আদায় করছেন। তাদের দাবি, জেলা পরিষদের পণ্যের তালিকা অনুযায়ী জাম্বুরা প্রতি ১০০ পিসে ৮ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ৪০ টাকা। লেবু প্রতি ১০০ পিসে ৩ টাকা নির্ধারিত থাকলেও নেওয়া হচ্ছে ২৫ টাকা। পান খাঁচি প্রতি ১৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

ব্যবসায়ী মো. ফরিদ বলেন, “আমার ২০০টি জাম্বুরা থেকে ৭৫ টাকা নেওয়া হয়েছে, যেখানে ১৬ টাকা নেওয়ার কথা। এভাবে কী ব্যবসা করা যায়?”

আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন মহরম বলেন, “পণ্যের টোল বেশি নেওয়ার বিষয়ে অনেকেই আমাকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। আশা করছি, জেলা পরিষদ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার জামাল উদ্দিন বলেন, “আমি কোনো টেম্পারিং করিনি। যদি করে থাকি, জেলা পরিষদ আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তাতে আপনাদের কী সমস্যা?”

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “অফিশিয়ালি সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার সুযোগ নেই। পণ্যের টোল বেশি নিলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে একটি লিখিত অভিযোগ থাকলে সুবিধা হয়।”