বান্দরবানের লামায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৪৫ জন খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অর্জিত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লামার ক্রীড়াবিদদের অর্জন ও সাফল্যের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লামা থানার তদন্ত ওসি মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান আলী, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সোলায়মান আহমেদ, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা রাশেদুল হক রাসেল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব চৌধুরী মুহাম্মদ সুজন, মহামুনি শিশু সদনের প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিক কারাতে রেফারি সি মং, জাতীয় ক্রীড়াবিদ ও ২০১০ সালের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কারাতে খেলোয়াড় জয়প্রু মার্মাসহ সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতায় লামার কৃতিত্ব
৩০তম জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ লামার খেলোয়াড়রা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। পুরুষ বিভাগে সিংক্যউ একটি স্বর্ণ ও একটি তাম্রপদক, রেংহিন ম্রো একটি স্বর্ণ এবং ছেনথাইজ্য রাখাইন একটি স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
মহিলা বিভাগে রুইতুম স্রো, টুম্পং ম্রো, ছাইনুয়ই মার্মা ও সিংতাজাংপ্রু একটি করে রৌপ্যপদক অর্জন করেন।
সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপেও সাফল্য
১০ম সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২য় অনূর্ধ্ব সাউথ এশিয়ান কারাতে কাপ-২০২৬-এও লামার ক্রীড়াবিদরা সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন।
পুরুষ বিভাগে মেনপং ম্রো, রেংখন ম্রো, রেংওয়াই ম্রো ও ওয়েনথেন একটি করে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। রেংনিক ম্রো অর্জন করেন একটি তাম্রপদক।
মহিলা বিভাগে য়ুংপাও ম্রো দুটি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এছাড়া চামরু স্রো, হ্রাহানু স্রো ও এম্যাসিং মার্মা একটি করে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
অন্যদিকে উনুসাই মার্মা, উখিংওয়াং চাক ও সাইমেথুই মার্মা একটি করে রৌপ্যপদক অর্জন করেন। সিংতাজাংপ্রু একটি রৌপ্য ও একটি তাম্রপদক অর্জন করেন।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসেও লামার খেলোয়াড়দের সাফল্য
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬-এর মার্শাল আর্ট ইভেন্টেও লামার প্রতিযোগীরা কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। পুরুষ বিভাগে ক্লাময়া স্রো একটি রৌপ্য ও রেংচুম স্রো একটি তাম্রপদক অর্জন করেন। মহিলা বিভাগে মুংপাও স্রো একটি স্বর্ণপদক লাভ করেন।
এছাড়া নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের চ্যাম্পিয়ন ফুটবল দলের খেলোয়াড়দেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন—তামিম, ফাহিম, তাহিন, ফয়সাল, জায়েদ, সাইফ, শান্তিময় ত্রিপুরা, সুকান্ত ত্রিপুরা, শোভন ত্রিপুরা, শ্রাবন ত্রিপুরা, যারুং ত্রিপুরা, বীর ত্রিপুরা, নাঈম ও অন্তর।
দাবা প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী জান্নাতুল মাওয়া, দমেসিং মার্মা, নবেল চাকমা ও মো. সাজ্জাদুল ইসলামকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
খেলাধুলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, লামার প্রত্যন্ত এলাকার তরুণ-তরুণীরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করে এলাকার সুনাম বয়ে আনছেন। তাদের এ অর্জন লামার পাশাপাশি পুরো বান্দরবান জেলার জন্যও গর্বের বিষয়।
তারা বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে ওঠে। তাই নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা লামার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী ও আর্থিকসহ অন্যান্য সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, লামার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে না। এসব প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে উৎসাহিত করা এবং তাদের অর্জনের স্বীকৃতি দিতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
ভবিষ্যতেও লামার ক্রীড়াবিদদের পাশে থেকে তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লামার ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের ধারা আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
মো: ইমরান খান: 






















