টেকনাফ–উখিয়ার চলমান অপহরণ, মানবপাচার, সীমান্ত অপরাধ ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়া’-এর প্রতিনিধিদল। মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসকের নিকট ৬ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সীমান্ত এলাকার বর্তমান বাস্তবতা, সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনা, বিভিন্ন এলাকায় গোলাগুলির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্ট আতঙ্ক এবং শিলখালীতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা তুলে ধরেন। তারা বলেন, টেকনাফ-উখিয়ার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান এখন সময়ের দাবি।
সভায় উপস্থিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিশেষ করে টেকনাফ মডেল থানায় প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক সক্ষমতা সুনিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা আপনাদের আন্দোলন সম্পর্কে অবগত আছি। এই আন্দোলন ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। সম্প্রতি আমি নিজেও টেকনাফ পরিদর্শন করেছি। বাস্তবতা অবশ্যই কঠিন, তবে প্রশাসনকে জনগণ সহযোগিতা করলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ আরও সহজ হবে।”
প্রতিনিধিদলের ৬ দফা দাবি
প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের নিকট যে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন, তার প্রথমটি হলো— অপহরণ ও মানবপাচার দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থায়ী বিশেষ বাহিনী গঠন করা। দ্বিতীয়ত, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত বিজিবি ও পুলিশ জনবল বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন করা। তৃতীয়ত, নাফ নদী ও সাগরপথে ২৪ ঘণ্টা সমন্বিত নিরাপত্তা টহল নিশ্চিতকরণ এবং জালিয়ার দ্বীপে কোস্ট গার্ডের স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা।
চতুর্থ দাবিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নিশ্চিতের কথা বলা হয়। পঞ্চম দাবিতে সশস্ত্র অপরাধী, অপহরণ ও মানবপাচারকারী এবং মাদক-অস্ত্র চোরাচালানকারী চক্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।
সর্বশেষ ষষ্ঠ দাবিতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে টেকনাফ–উখিয়ার জন্য সমন্বিত বিশেষ নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
সভা শেষে নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলনের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, জনস্বার্থভিত্তিক ও অরাজনৈতিক। টেকনাফ-উখিয়ার মানুষের নিরাপত্তা ও ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষ এবার কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপ ও দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে চায়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: 























