কক্সবাজারের কৃতী কিশোরী তাওয়াক্কুল নূর চৌধুরী স্নেহা জাতীয় শিশু-কিশোর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর জুডো বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে কক্সবাজারের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
ছোটবেলা থেকেই স্নেহার স্বপ্ন ছিল জাতীয় পর্যায়ে খেলে মাননীয় মন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করা। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে জাতীয় পর্যায়ে পদক অর্জনের মাধ্যমে তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা এবং পরিবারের নিরন্তর উৎসাহ।
খেলাধুলার পাশাপাশি স্নেহা সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সমানভাবে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। শৈশব থেকেই নৃত্য, লোকসঙ্গীত, নজরুলসংগীত, দেশাত্মবোধক গান, হামদ-নাত, কবিতা আবৃত্তি ও ছড়াগান প্রতিযোগিতায় থানা, জেলা, বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছে। যন্ত্রসংগীতে গিটার বাজিয়ে জেলা পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন করেছে। চিত্রাঙ্কন, যা তার প্রথম ভালোবাসা, সেই অঙ্কন প্রতিযোগিতায়ও কৃতিত্বের সঙ্গে অংশ নিয়ে মাননীয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের গৌরব অর্জন করেছে।
বর্তমানে তিনি কারাতে ও জুডো—উভয় খেলায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করছেন। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এ অর্জিত ব্রোঞ্জ পদক তার ক্রীড়াজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তাওয়াক্কুল নূর চৌধুরী স্নেহার বাবা ন. জ. ম. এজাজ আল হাবিব চৌধুরী একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং মা নূর-ই জান্নাত সিলভী একজন এনজিও কর্মকর্তা। তাঁদের স্থায়ী নিবাস কক্সবাজার সদর উপজেলার হাসপাতাল সড়কের হাবিবা মঞ্জিল।
তিনি একটি শিক্ষানুরাগী ও সুশিক্ষিত পরিবারের সন্তান। তাঁর দাদা মরহুম আলহাজ্জ প্রফেসর নুরুল আলম চৌধুরী, দাদী আলহাজ্জ ছালেহা বেগম, নানা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলহাজ্জ ফেরদৌস আহমেদ এবং নানী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা আলেয়া বেগম।
পরিবার, শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের বিশ্বাস, তাওয়াক্কুল নূর চৌধুরী স্নেহা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য আরও সাফল্য ও সম্মান বয়ে আনবে। তার এই অর্জনে কক্সবাজারের ক্রীড়াঙ্গন, শুভানুধ্যায়ী এবং স্বজনদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।
সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে তাওয়াক্কুল নূর চৌধুরী স্নেহা বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে পদক জয় এবং মাননীয় মন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করা ছিল আমার ছোটবেলার স্বপ্ন। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এই অর্জনের পেছনে আমার বাবা-মা, কোচ, শিক্ষক এবং শুভানুধ্যায়ীদের অবদান অপরিসীম। আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই সাফল্য আমাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের হয়ে আরও বড় সাফল্য অর্জন করে দেশের জন্য স্বর্ণপদক জিততে চাই। সবার কাছে আমার জন্য দোয়া কামনা করছি।”
নিজস্ব প্রতিবেদক: 






















