ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে: আইজিপি ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্কবার্তা দিল মার্কিন দূতাবাস সারা দেশে টানা পাঁচদিন বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে না পারলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না: নাহিদ ইসলাম বিয়ের বাড়ি সাজাতে গিয়ে নিভে গেল সাইফুলের জীবন প্রদীপ বিজিবির ৪টি পৃথক অভিযান : ২ লাখ ৯৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ দ্রুত গলছে এভারেস্টের হিমবাহ, দায়ী মানুষের প্রস্রাবও লোহাগাড়ায় টিউশনিতে যাওয়ার পথে শিক্ষকের ওপর হামলা, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ৮ মা’ম’লার আ’সা’মী শহরের শীর্ষ ছি’ন’তা’ইকা’রী বাবু আটক কক্সবাজারে জন্মাষ্টমী উদযাপন : শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ মানবসমাজকে সম্প্রীতির শিক্ষা দেয় কক্সবাজারে ২ হাজার আইফোন, শতাধিক ল্যাপটপসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার কক্সবাজারে অসুস্থ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত হয়নি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য সংসদে দুই হাত তুলে দোয়া করলেন জামায়াত আমির

মিয়ানমারের উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার প্রাণহানির আশঙ্কা: জাতিসংঘ

মিয়ানমারের উপকূলে রোহিঙ্গা শরণার্থী বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবির থেকে যাত্রা করা রোহিঙ্গারাও ছিলেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নৌকা দুটি যাত্রা শুরু করে। দুটি নৌকায় ৫০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগই জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবির থেকে আসা রোহিঙ্গারাও ছিলেন।

ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও সম্ভাব্য প্রাণহানির ঘটনায় সংস্থা দুটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর আশায় ছোট ছোট কাঠের নৌকায় চড়ে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করে থাকেন। মিয়ানমারে সহিংসতা এবং বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থীশিবিরের কঠিন জীবনযাপন তাঁদের এমন ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য এ পথ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সমুদ্রপথে পরিণত হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএম বলছে, সর্বশেষ ঘটনায় প্রায় ২৫০ আরোহী নিয়ে অন্য একটি নৌকা নিয়ে যাত্রার কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর প্রায় ২৮০ আরোহী নিয়ে আরেকটি নৌকা ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব নৌযাত্রা নিয়মিত মৌসুমের বাইরে হওয়ায় সে সময় সমুদ্রের পরিস্থিতি ছিল আরও বেশি প্রতিকূল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানের পর অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা অবৈধ অভিবাসী।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ রোহিঙ্গাদের সংকট আরও তীব্র করেছে। রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সংঘাতের মধ্যে রোহিঙ্গারা আটকা পড়েছেন।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরও আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন বা মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গত নভেম্বরে থাইল্যান্ড–মালয়েশিয়া সীমান্তের কাছে লাংকাবি উপকূলে রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় প্রায় ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মিয়ানমারের উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার প্রাণহানির আশঙ্কা: জাতিসংঘ

আপডেট সময় : ০৫:৪০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারের উপকূলে রোহিঙ্গা শরণার্থী বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবির থেকে যাত্রা করা রোহিঙ্গারাও ছিলেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নৌকা দুটি যাত্রা শুরু করে। দুটি নৌকায় ৫০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগই জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবির থেকে আসা রোহিঙ্গারাও ছিলেন।

ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও সম্ভাব্য প্রাণহানির ঘটনায় সংস্থা দুটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর আশায় ছোট ছোট কাঠের নৌকায় চড়ে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করে থাকেন। মিয়ানমারে সহিংসতা এবং বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থীশিবিরের কঠিন জীবনযাপন তাঁদের এমন ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য এ পথ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সমুদ্রপথে পরিণত হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএম বলছে, সর্বশেষ ঘটনায় প্রায় ২৫০ আরোহী নিয়ে অন্য একটি নৌকা নিয়ে যাত্রার কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর প্রায় ২৮০ আরোহী নিয়ে আরেকটি নৌকা ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব নৌযাত্রা নিয়মিত মৌসুমের বাইরে হওয়ায় সে সময় সমুদ্রের পরিস্থিতি ছিল আরও বেশি প্রতিকূল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানের পর অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা অবৈধ অভিবাসী।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ রোহিঙ্গাদের সংকট আরও তীব্র করেছে। রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সংঘাতের মধ্যে রোহিঙ্গারা আটকা পড়েছেন।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরও আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন বা মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গত নভেম্বরে থাইল্যান্ড–মালয়েশিয়া সীমান্তের কাছে লাংকাবি উপকূলে রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় প্রায় ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

সূত্র: রয়টার্স