ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আমরা থামছি না’— ফাইনালের আগে হুঙ্কার আর্জেন্টিনার চকরিয়ার বন্যকবলিত এলাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী/ সরকার সবসময় জনগণের পাশে থাকবে একসঙ্গে মরার সিদ্ধান্ত নিয়ে যমুনায় ঝাঁপ দিলেন প্রেমিক, পালিয়ে গেলেন প্রেমিকা স্টেজ ভেঙে পড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু চৌধুরী বন্যার্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে সরকার : অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপজয়ীদের প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নশিপ রিং দেবে ফিফা বন্যা কবলিত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত এমপি কাজলের ডিও লেটার: রামুর ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি চন্দ্রিমায় আবু বক্কর মার্কেট দখলচেষ্টার মামলায় নুরুল ইসলাম ও আরাফাতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপহরণ, নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার তারেক রহমানের নির্দেশনায় কক্সবাজারে কৃষক দলের ত্রাণ বিতরণ সম্পন্ন, উপকৃত ২২০ পরিবার কক্সবাজারে জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণ ঝিলংজা ইউনিয়নে পাহাড় ধসে নিহত পরিবারে পাশে সরওয়ার সাইদ মিয়ানমারের উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার প্রাণহানির আশঙ্কা: জাতিসংঘ ২ দিনের সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার আসছেন শুক্রবার

অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের নারী শিক্ষায় মা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তিনি যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আমাদের মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ফ্রি করেছিলেন। আমরা অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সঙ্গে প্রাইমারিতে যেরকম স্টাইপেন দিচ্ছি, একইভাবে উচ্চ শিক্ষায় যারা ভালো রেজাল্ট করবে সেই সব মেয়েদের আমরা স্কলারশিপ দেব।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও শিক্ষার উন্নয়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার থেকে পর্যায়ক্রমিকভাবে বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণি থেকে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিশুকে নতুন স্কুল ড্রেস দেব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা মিডডে মিলের ওপর কাজ করছি। যেন বাচ্চারা আরো ভালো খাবার খেতে পারে।

শিক্ষকদের প্রতি শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মানুষ করার কারিগর আপনারা। তাই খেয়াল রাখতে হবে কোনো শিশু যেন নির্দয় হয়ে বেড়ে না ওঠে সেটি প্রাণী হোক বা পশু-পাখির প্রতি হোক। কারো প্রতি যেন তারা নির্দয় না হয়। তাই শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলবেন আপনারা। দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক দরকার । আর এই মানবিক সৈনিক আপনারা গড়ে তুলবেন। আর শিশুরা মানবিক মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠলে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সূচনা বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

এ সময় দেশ জুড়ে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের মাঝেই খুদে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ এর পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথি সারিতে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া তাদের প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা প্রতি বছর বর্ষাকালে একটি করে গাছ লাগাবে। গাছটা ও বড় হবে, সঙ্গে তোমরাও বড় হবে। গাছই হবে তোমাদের বন্ধু । গাছের নিচে বসে ক্লান্তি দূর হবে, শান্তি পাবে।

স্কুল পরিষ্কার রাখতে শিশুদের প্রতি আহ্বান শিশুদের নিজেদের স্কুল পরিষ্কার রাখতে ও ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে একে অপরকে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির অধীনে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্ৰে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্থাপিত স্টল পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এর আগে সেখানে একটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ‘গ্রিন স্কুল’ বা সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন তিনি।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমরা থামছি না’— ফাইনালের আগে হুঙ্কার আর্জেন্টিনার

অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
দেশের নারী শিক্ষায় মা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তিনি যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আমাদের মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ফ্রি করেছিলেন। আমরা অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সঙ্গে প্রাইমারিতে যেরকম স্টাইপেন দিচ্ছি, একইভাবে উচ্চ শিক্ষায় যারা ভালো রেজাল্ট করবে সেই সব মেয়েদের আমরা স্কলারশিপ দেব।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও শিক্ষার উন্নয়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার থেকে পর্যায়ক্রমিকভাবে বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণি থেকে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিশুকে নতুন স্কুল ড্রেস দেব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা মিডডে মিলের ওপর কাজ করছি। যেন বাচ্চারা আরো ভালো খাবার খেতে পারে।

শিক্ষকদের প্রতি শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মানুষ করার কারিগর আপনারা। তাই খেয়াল রাখতে হবে কোনো শিশু যেন নির্দয় হয়ে বেড়ে না ওঠে সেটি প্রাণী হোক বা পশু-পাখির প্রতি হোক। কারো প্রতি যেন তারা নির্দয় না হয়। তাই শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলবেন আপনারা। দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক দরকার । আর এই মানবিক সৈনিক আপনারা গড়ে তুলবেন। আর শিশুরা মানবিক মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠলে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সূচনা বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

এ সময় দেশ জুড়ে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের মাঝেই খুদে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ এর পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথি সারিতে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া তাদের প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা প্রতি বছর বর্ষাকালে একটি করে গাছ লাগাবে। গাছটা ও বড় হবে, সঙ্গে তোমরাও বড় হবে। গাছই হবে তোমাদের বন্ধু । গাছের নিচে বসে ক্লান্তি দূর হবে, শান্তি পাবে।

স্কুল পরিষ্কার রাখতে শিশুদের প্রতি আহ্বান শিশুদের নিজেদের স্কুল পরিষ্কার রাখতে ও ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে একে অপরকে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির অধীনে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্ৰে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্থাপিত স্টল পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এর আগে সেখানে একটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ‘গ্রিন স্কুল’ বা সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন তিনি।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক