ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের  কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা: আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ বঙ্গোপসাগরে ঝড়ে ট্রলারডুবি, তিন দিনেও উদ্ধার হননি পটুয়াখালীর ৬ জেলে ডুবে আছে রেললাইন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ কক্সবাজারে কেন ভয়ংকর হয়ে উঠছে বর্ষা ১৯ অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস ভারী বৃষ্টির কারণে ১৬ হাজার রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত: ইউএনএইচসিআর মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে একসঙ্গে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে খবর আসে স্বামীর লাশ পড়ে আছে বাসায় কক্সবাজারসহ তিন জেলায় বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে পেকুয়ার কয়েক’শ বসতি রামুতে ​শ্রী শ্রী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির দখলের অভিযোগ শহীদ জিয়া স্মৃতি গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রবাসী কিংস চট্টগ্রাম চ্যাম্পিয়ন সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের সংকটের শঙ্কা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ১০ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ হাজার- আরসিপি

বঙ্গোপসাগরে ঝড়ে ট্রলারডুবি, তিন দিনেও উদ্ধার হননি পটুয়াখালীর ৬ জেলে

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার নিখোঁজ ছয় জেলের সন্ধান মেলেনি। একই ঘটনায় পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাঁরা হলেন গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ফোরকান হাওলাদার (৪৫) ও তাঁর ছেলে সাইদুল ইসলাম (১৯); আল আমিন (৪৫); পানপট্টি ইউনিয়নের হারুন মিয়া (৪০) ও এমাদুল (৩০) এবং সদর ইউনিয়নের পাক্ষিয়া গ্রামের আকাশ (২২)।

এর আগে গত রোববার পায়রা সমুদ্রবন্দরসংলগ্ন এলাকা থেকে ১০০–১৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১১ মাঝিমাল্লার মধ্যে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ৬ জন নিখোঁজ হন।

ওই ঘটনায় উদ্ধার ব্যক্তিরা হলেন ট্রলারমালিক এমাদুল সিকদার (৩৮), নাজমুল (২২), সাকিল (২১), বায়জীদ (২২) ও রাকিব (২১)। এর মধ্যে এমাদুল সিকদার ও রাকিব গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

এমাদুল সিকদার বলেন, গত শনিবার রাতে ১১ জন মাঝিমাল্লাকে নিয়ে তিনি সাগরে মাছ ধরতে যান। পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকা থেকে পাঁচ–ছয় ঘণ্টা ট্রলার চালিয়ে গভীর সাগরে পৌঁছে তাঁরা জাল ফেলেন। গত রোববার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ দমকা বাতাসে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।

এমাদুলের ভাষ্য, দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের ইঞ্জিন বা কেবিনে থাকা তিনজন বের হতে পারেননি। বাইরে থাকা আটজনের মধ্যে তিনজন ট্রলারের একটি অংশ ধরে ভেসে থাকেন। তিনি ও আরও পাঁচজন মাছ ধরার ভাসমান বয়া ধরে সাগরে ভাসতে থাকেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ভোরে পাশ দিয়ে যাওয়া একটি মাছ ধরার ট্রলারের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করেন।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় ট্রলারের মালিকের বাবা ইদ্রিস সিকদার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এতে ছয়জন নিখোঁজ এবং পাঁচজন জীবিত উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গলাচিপা উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, দীর্ঘ সময় সাগরে ভাসমান থাকা এবং লবণপানি পেটে যাওয়ায় এমাদুল সিকদার ও রাকিবকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর ইজাজুল হক বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের 

বঙ্গোপসাগরে ঝড়ে ট্রলারডুবি, তিন দিনেও উদ্ধার হননি পটুয়াখালীর ৬ জেলে

আপডেট সময় : ০১:২১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার নিখোঁজ ছয় জেলের সন্ধান মেলেনি। একই ঘটনায় পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাঁরা হলেন গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ফোরকান হাওলাদার (৪৫) ও তাঁর ছেলে সাইদুল ইসলাম (১৯); আল আমিন (৪৫); পানপট্টি ইউনিয়নের হারুন মিয়া (৪০) ও এমাদুল (৩০) এবং সদর ইউনিয়নের পাক্ষিয়া গ্রামের আকাশ (২২)।

এর আগে গত রোববার পায়রা সমুদ্রবন্দরসংলগ্ন এলাকা থেকে ১০০–১৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১১ মাঝিমাল্লার মধ্যে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ৬ জন নিখোঁজ হন।

ওই ঘটনায় উদ্ধার ব্যক্তিরা হলেন ট্রলারমালিক এমাদুল সিকদার (৩৮), নাজমুল (২২), সাকিল (২১), বায়জীদ (২২) ও রাকিব (২১)। এর মধ্যে এমাদুল সিকদার ও রাকিব গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

এমাদুল সিকদার বলেন, গত শনিবার রাতে ১১ জন মাঝিমাল্লাকে নিয়ে তিনি সাগরে মাছ ধরতে যান। পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকা থেকে পাঁচ–ছয় ঘণ্টা ট্রলার চালিয়ে গভীর সাগরে পৌঁছে তাঁরা জাল ফেলেন। গত রোববার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ দমকা বাতাসে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।

এমাদুলের ভাষ্য, দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের ইঞ্জিন বা কেবিনে থাকা তিনজন বের হতে পারেননি। বাইরে থাকা আটজনের মধ্যে তিনজন ট্রলারের একটি অংশ ধরে ভেসে থাকেন। তিনি ও আরও পাঁচজন মাছ ধরার ভাসমান বয়া ধরে সাগরে ভাসতে থাকেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ভোরে পাশ দিয়ে যাওয়া একটি মাছ ধরার ট্রলারের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করেন।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় ট্রলারের মালিকের বাবা ইদ্রিস সিকদার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এতে ছয়জন নিখোঁজ এবং পাঁচজন জীবিত উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গলাচিপা উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, দীর্ঘ সময় সাগরে ভাসমান থাকা এবং লবণপানি পেটে যাওয়ায় এমাদুল সিকদার ও রাকিবকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর ইজাজুল হক বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো