ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতামুহুরীতে ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬ কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী সফরের চুড়ান্ত সূচী নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আবারও প্রাণহানি : মারা গেল রোহিঙ্গা যুবক ৫ দিন আগে খুঁড়েছিলেন কবর / ঘুমে প্রাণ গেল তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের, শোকে কাতর এলাকাবাসী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৩১ তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো টেকনাফের স্কুল শিক্ষকের প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল পেশকারপাড়ার রাস্তায় পড়ে থাকা বিচ্ছিন্ন মানব পা কার? ‎ বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি টেকনাফে চাঁদা দাবির অভিযোগে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে অপহৃত ৫ কিশোর উদ্ধার বিশ্ব মহাসাগর দিবস উপলক্ষে সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি রামুতে প্রিতম শর্মা নামের কিশোরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার, আদালতে জামিন ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে বাধ্য করতে আইন করবে সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে পেকুয়ায় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

মাতামুহুরীতে ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় একটি বাড়িতে ডাকাতির সময় গৃহবধূ ও তাঁর ১৫বছর বয়সী কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন তোফাজ্জল হোসেন (২৩), কেফায়েত হোসেন (২৭), রেজাউল করিম (৩৬), মেহেদী হাসান (২৪), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)। তাঁরা সবাই একই উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, সোমবার গভীর রাতে ৮ থেকে ১০জনের অস্ত্রধারী একদল ডাকাত জানালার গ্রিল কেটে বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। ওই সময় বাড়িতে গৃহবধূ, এক কিশোরী ও শিশু বাড়িতে একা ছিলেন। এ সুযোগে ডাকাতদল অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমারি ও শোকেসের চাবি জোর করে নিয়ে নেয়। ডাকাতদলের সদস্যরা আলমারি থেকে নগদ ৫০হাজার টাকা লুট করে। পরনে থাকা একটি সোনার চেইন, এক জোড়া কানের দোল ও একটি আংটিও লুট করে । এরপর গৃহবধূ ও কিশোরী মেয়েকে হাত-পা, মুখ চেপে ধরে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।

এরপর স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগীর পরিবার তাঁদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনার পরপরই চকরিয়া থানা-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার জড়িত সন্দেহে ৬জন আটক করেছে।

স্থানীয় দুজন নারী বললেন, ‘ডাকাতি করে নারীদের ধর্ষণ করার এ রকম ঘটনা জীবনে প্রথম দেখলাম। আমরা এখন ঘরের ভেতরও নিরাপদ না। কীভাবে ঘরে বসবাস করব, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।’

গৃহবধূর ভাই জানালেন, ‘বোনের বাড়িতে ডাকাতদল ডাকাতি সংগঠিত করে চলে গেলে তাঁকে ফোন করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সেখানে যাই। তাঁদের মুখে ডাকাতি, ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের কথা শুনি। স্থানীয় লোকজন পুলিশকে অবহিত করে। মূলত আমার বোনের জামাই চট্টগ্রামের আড়তের ব্যবসা রয়েছে। তাই বোন ও দুই কন্যা বাড়িতে একা থাকতেন।’

এ ব্যাপারে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিত দাস বলেন, ‘জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতদল। ভুক্তভোগী পরিবার ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। তাঁদের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে। এ ঘটনার পরপরই জড়িত সন্দেহে ৬জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছেন।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতামুহুরীতে ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬

মাতামুহুরীতে ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬

আপডেট সময় : ০৬:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় একটি বাড়িতে ডাকাতির সময় গৃহবধূ ও তাঁর ১৫বছর বয়সী কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন তোফাজ্জল হোসেন (২৩), কেফায়েত হোসেন (২৭), রেজাউল করিম (৩৬), মেহেদী হাসান (২৪), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)। তাঁরা সবাই একই উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, সোমবার গভীর রাতে ৮ থেকে ১০জনের অস্ত্রধারী একদল ডাকাত জানালার গ্রিল কেটে বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। ওই সময় বাড়িতে গৃহবধূ, এক কিশোরী ও শিশু বাড়িতে একা ছিলেন। এ সুযোগে ডাকাতদল অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমারি ও শোকেসের চাবি জোর করে নিয়ে নেয়। ডাকাতদলের সদস্যরা আলমারি থেকে নগদ ৫০হাজার টাকা লুট করে। পরনে থাকা একটি সোনার চেইন, এক জোড়া কানের দোল ও একটি আংটিও লুট করে । এরপর গৃহবধূ ও কিশোরী মেয়েকে হাত-পা, মুখ চেপে ধরে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।

এরপর স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগীর পরিবার তাঁদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনার পরপরই চকরিয়া থানা-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার জড়িত সন্দেহে ৬জন আটক করেছে।

স্থানীয় দুজন নারী বললেন, ‘ডাকাতি করে নারীদের ধর্ষণ করার এ রকম ঘটনা জীবনে প্রথম দেখলাম। আমরা এখন ঘরের ভেতরও নিরাপদ না। কীভাবে ঘরে বসবাস করব, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।’

গৃহবধূর ভাই জানালেন, ‘বোনের বাড়িতে ডাকাতদল ডাকাতি সংগঠিত করে চলে গেলে তাঁকে ফোন করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সেখানে যাই। তাঁদের মুখে ডাকাতি, ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের কথা শুনি। স্থানীয় লোকজন পুলিশকে অবহিত করে। মূলত আমার বোনের জামাই চট্টগ্রামের আড়তের ব্যবসা রয়েছে। তাই বোন ও দুই কন্যা বাড়িতে একা থাকতেন।’

এ ব্যাপারে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিত দাস বলেন, ‘জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতদল। ভুক্তভোগী পরিবার ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। তাঁদের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে। এ ঘটনার পরপরই জড়িত সন্দেহে ৬জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছেন।’