ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ ট্রাম্পের নেভি-ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে সাগরে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস শখের মাছ চাষে বিষ প্রয়োগ, লাখ টাকার ক্ষতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের মৃত্যু হোয়াইক্যংয়ে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে চালক নিহত, নারীসহ আহত ৫ আজ মহালয়া, দেবীপক্ষের সূচনায় শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু কক্সবাজারে বিপাকে সেই টুকু দ্য আগলি, স্কুটিতেও গুণেছেন ১৮ হাজার জরিমানা! সৌদি আরবে মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর দেশে এলো মনছুর আলমের মরদেহ, সকাল ১১টায় জানাজা গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচন ঘিরে ইউএনওর ৮ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে ৯ অক্টোবরের সংবাদ! কক্সবাজারের সমালোচনা হোক, অপপ্রচার নয় রামুতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার যৌতুকের বলি চকরিয়ার গৃহবধূ মরিয়ম অপপ্রচার দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যাবে না-কচ্ছপিয়ার বিএনপি নেতা আবছার “কথা”আর কথা বলবে না

মাতামুহুরীতে ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় একটি বাড়িতে ডাকাতির সময় গৃহবধূ ও তাঁর ১৫বছর বয়সী কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন তোফাজ্জল হোসেন (২৩), কেফায়েত হোসেন (২৭), রেজাউল করিম (৩৬), মেহেদী হাসান (২৪), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)। তাঁরা সবাই একই উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, সোমবার গভীর রাতে ৮ থেকে ১০জনের অস্ত্রধারী একদল ডাকাত জানালার গ্রিল কেটে বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। ওই সময় বাড়িতে গৃহবধূ, এক কিশোরী ও শিশু বাড়িতে একা ছিলেন। এ সুযোগে ডাকাতদল অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমারি ও শোকেসের চাবি জোর করে নিয়ে নেয়। ডাকাতদলের সদস্যরা আলমারি থেকে নগদ ৫০হাজার টাকা লুট করে। পরনে থাকা একটি সোনার চেইন, এক জোড়া কানের দোল ও একটি আংটিও লুট করে । এরপর গৃহবধূ ও কিশোরী মেয়েকে হাত-পা, মুখ চেপে ধরে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।

এরপর স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগীর পরিবার তাঁদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনার পরপরই চকরিয়া থানা-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার জড়িত সন্দেহে ৬জন আটক করেছে।

স্থানীয় দুজন নারী বললেন, ‘ডাকাতি করে নারীদের ধর্ষণ করার এ রকম ঘটনা জীবনে প্রথম দেখলাম। আমরা এখন ঘরের ভেতরও নিরাপদ না। কীভাবে ঘরে বসবাস করব, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।’

গৃহবধূর ভাই জানালেন, ‘বোনের বাড়িতে ডাকাতদল ডাকাতি সংগঠিত করে চলে গেলে তাঁকে ফোন করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সেখানে যাই। তাঁদের মুখে ডাকাতি, ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের কথা শুনি। স্থানীয় লোকজন পুলিশকে অবহিত করে। মূলত আমার বোনের জামাই চট্টগ্রামের আড়তের ব্যবসা রয়েছে। তাই বোন ও দুই কন্যা বাড়িতে একা থাকতেন।’

এ ব্যাপারে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিত দাস বলেন, ‘জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতদল। ভুক্তভোগী পরিবার ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। তাঁদের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে। এ ঘটনার পরপরই জড়িত সন্দেহে ৬জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছেন।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ

মাতামুহুরীতে ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬

আপডেট সময় : ০৬:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় একটি বাড়িতে ডাকাতির সময় গৃহবধূ ও তাঁর ১৫বছর বয়সী কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন তোফাজ্জল হোসেন (২৩), কেফায়েত হোসেন (২৭), রেজাউল করিম (৩৬), মেহেদী হাসান (২৪), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)। তাঁরা সবাই একই উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, সোমবার গভীর রাতে ৮ থেকে ১০জনের অস্ত্রধারী একদল ডাকাত জানালার গ্রিল কেটে বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। ওই সময় বাড়িতে গৃহবধূ, এক কিশোরী ও শিশু বাড়িতে একা ছিলেন। এ সুযোগে ডাকাতদল অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমারি ও শোকেসের চাবি জোর করে নিয়ে নেয়। ডাকাতদলের সদস্যরা আলমারি থেকে নগদ ৫০হাজার টাকা লুট করে। পরনে থাকা একটি সোনার চেইন, এক জোড়া কানের দোল ও একটি আংটিও লুট করে । এরপর গৃহবধূ ও কিশোরী মেয়েকে হাত-পা, মুখ চেপে ধরে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।

এরপর স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগীর পরিবার তাঁদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনার পরপরই চকরিয়া থানা-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার জড়িত সন্দেহে ৬জন আটক করেছে।

স্থানীয় দুজন নারী বললেন, ‘ডাকাতি করে নারীদের ধর্ষণ করার এ রকম ঘটনা জীবনে প্রথম দেখলাম। আমরা এখন ঘরের ভেতরও নিরাপদ না। কীভাবে ঘরে বসবাস করব, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।’

গৃহবধূর ভাই জানালেন, ‘বোনের বাড়িতে ডাকাতদল ডাকাতি সংগঠিত করে চলে গেলে তাঁকে ফোন করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সেখানে যাই। তাঁদের মুখে ডাকাতি, ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের কথা শুনি। স্থানীয় লোকজন পুলিশকে অবহিত করে। মূলত আমার বোনের জামাই চট্টগ্রামের আড়তের ব্যবসা রয়েছে। তাই বোন ও দুই কন্যা বাড়িতে একা থাকতেন।’

এ ব্যাপারে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিত দাস বলেন, ‘জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতদল। ভুক্তভোগী পরিবার ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। তাঁদের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে। এ ঘটনার পরপরই জড়িত সন্দেহে ৬জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছেন।’