ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে যাচ্ছেন উখিয়া-টেকনাফের এমপি শাহজাহান চৌধুরী রোহিঙ্গা যুবককে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই মৃত মায়ের পাশ ছাড়েনি হাতি শাবক ঈদ-উল-আযহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮ টায়-প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসক টেকনাফে বিয়ার-মদসহ আটক ৩ মহেশখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু প্রেমে অমর হলেন জিন্নাত— প্রেমিকের বিয়ের আসরে বিষপান, একদিন পর মৃত্যু ওসি-এসআইয়ের গাফেলতি! থানায় অভিযোগের জেরে চলা বিরোধে বলি উখিয়ার সেই মা খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর ঈদগড়ে খাটের নিচে আগ্নেয়াস্ত্র, যুবক আটক পদত্যাগ করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত মায়ের জানাজায় সরওয়ার-আনোয়ারীর কড়া বার্তা তিন নারীর শরীরে পেঁচানো ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর!

ওসি-এসআইয়ের গাফেলতি! থানায় অভিযোগের জেরে চলা বিরোধে বলি উখিয়ার সেই মা

উখিয়ার টাইপালং গ্রামে দেয়ালে জয়বাংলা স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল এক মায়ের প্রাণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতেই পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না।

নিহত সৈয়দা খাতুনের (৫০) পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাতে তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান ও তাঁর বন্ধু ইউনুসের ওপর হামলা চালায় একদল লোক। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সৈয়দা খাতুনও মারধরের শিকার হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জামায়াত নেতা ছৈয়দ আহমদের ভাষ্য, গত ৩০ এপ্রিল টাইপালং মাদ্রাসা ও আশপাশের দেয়ালে ‘জয়বাংলা’ ও ‘খেলা শুরু’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়।

পরদিন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম কয়েকজন তরুণের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

ছৈয়দ আহমদ বলেন, অভিযোগের পর অভিযুক্ত পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। “আমরা আতঙ্কে ছিলাম। আমার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়,” বলেন তিনি।

থানায় দেওয়া অভিযোগের কপিতে নিহতের ছেলে আব্দুর রহমানের নামও রয়েছে। তাঁর দাবি, “আব্দুল করিম, মিজান সিকদার ও তাঁদের সহযোগীরা আমাদের ওপর হামলা চালান। আমার মা বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।”

নিহতের ছেলে ইমরান বলেন, “আমার চোখের সামনে মাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দিনের পর দিন বাড়িছাড়া ছিলাম।”

ঘটনার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ‘হা-হা’ প্রতিক্রিয়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইউনুসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁকে পুলিশ হেফাজতেও নেওয়া হয়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ছাড়া পেয়ে ইউনুস বলেন, “আমাকে ছাত্রলীগ সমর্থক বলে মারধর করা হয়েছে।”

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, ইউনুস কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। যাচাই শেষে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দেয়ালে স্লোগান লেখার ঘটনায় ৬ মে উখিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন টাইপালং মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুর রহিম। স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই ইনুমং মারমা কার্যকর কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। বরং অভিযুক্ত পরিবারগুলোকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।

স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ মামুন বলেন, “পুলিশ সময়মতো নিরপেক্ষ তদন্ত করলে আজ একজন মাকে মরতে হতো না।”

যদিও এসআই ইনুমং মারমা বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমানও দাবি করেন, দেয়ালে স্লোগান লেখার ঘটনা ও নারী নিহত হওয়ার ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নেই।

রবিবার টাইপালংয়ে সৈয়দা খাতুনের জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী দোষীদের বিচারের দাবি জানান। একই দাবি করেন জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারীও।

অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তাঁর ছেলে জিসান সিকদার সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের জড়ানো হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম ও তাঁর ছেলে আকাশসহ কয়েকজন অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

সৈয়দা খাতুন হত্যার বিচারের দাবিতে রবিবার উখিয়ায় সড়ক অবরোধ ও কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়। তবে রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ওসি-এসআইয়ের গাফেলতি! থানায় অভিযোগের জেরে চলা বিরোধে বলি উখিয়ার সেই মা

আপডেট সময় : ১১:২১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

উখিয়ার টাইপালং গ্রামে দেয়ালে জয়বাংলা স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল এক মায়ের প্রাণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতেই পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না।

নিহত সৈয়দা খাতুনের (৫০) পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাতে তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান ও তাঁর বন্ধু ইউনুসের ওপর হামলা চালায় একদল লোক। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সৈয়দা খাতুনও মারধরের শিকার হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জামায়াত নেতা ছৈয়দ আহমদের ভাষ্য, গত ৩০ এপ্রিল টাইপালং মাদ্রাসা ও আশপাশের দেয়ালে ‘জয়বাংলা’ ও ‘খেলা শুরু’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়।

পরদিন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম কয়েকজন তরুণের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

ছৈয়দ আহমদ বলেন, অভিযোগের পর অভিযুক্ত পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। “আমরা আতঙ্কে ছিলাম। আমার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়,” বলেন তিনি।

থানায় দেওয়া অভিযোগের কপিতে নিহতের ছেলে আব্দুর রহমানের নামও রয়েছে। তাঁর দাবি, “আব্দুল করিম, মিজান সিকদার ও তাঁদের সহযোগীরা আমাদের ওপর হামলা চালান। আমার মা বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।”

নিহতের ছেলে ইমরান বলেন, “আমার চোখের সামনে মাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দিনের পর দিন বাড়িছাড়া ছিলাম।”

ঘটনার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ‘হা-হা’ প্রতিক্রিয়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইউনুসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁকে পুলিশ হেফাজতেও নেওয়া হয়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ছাড়া পেয়ে ইউনুস বলেন, “আমাকে ছাত্রলীগ সমর্থক বলে মারধর করা হয়েছে।”

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, ইউনুস কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। যাচাই শেষে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দেয়ালে স্লোগান লেখার ঘটনায় ৬ মে উখিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন টাইপালং মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুর রহিম। স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই ইনুমং মারমা কার্যকর কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। বরং অভিযুক্ত পরিবারগুলোকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।

স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ মামুন বলেন, “পুলিশ সময়মতো নিরপেক্ষ তদন্ত করলে আজ একজন মাকে মরতে হতো না।”

যদিও এসআই ইনুমং মারমা বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমানও দাবি করেন, দেয়ালে স্লোগান লেখার ঘটনা ও নারী নিহত হওয়ার ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নেই।

রবিবার টাইপালংয়ে সৈয়দা খাতুনের জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী দোষীদের বিচারের দাবি জানান। একই দাবি করেন জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারীও।

অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তাঁর ছেলে জিসান সিকদার সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের জড়ানো হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম ও তাঁর ছেলে আকাশসহ কয়েকজন অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

সৈয়দা খাতুন হত্যার বিচারের দাবিতে রবিবার উখিয়ায় সড়ক অবরোধ ও কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়। তবে রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।