ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতারবাড়িতে জ্বিন তাড়ানোর নামে শরীরে আগুন, ৪ দিন পর বৃদ্ধের মৃত্যু অটোরিক্সাকে বাঁচাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দূর্ঘটনার শিকার যাত্রীবাহী বাস ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার ইয়াবাসহ মরিচ্যায় ২ পাচারকারী আটক সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে জেইউসি’র আলোচনা সভা ​গুরুতর রোগে আক্রান্ত রুমালিয়াছড়ার সৈয়দ আলম: টাকার অভাবে আটকে আছে চিকিৎসা, বাঁচতে চান তিনি টেকনাফে ব্যবসায়ীকে আইনশৃংখলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মাতারবাড়িতে ব্যবসায়ির মোবাইল চুরি, চুরি করা মোবাইল নিয়ে অনলাইন ব্ল্যাক মেইলিংয়ের অভিযোগ মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর ঈদগাঁও নদীতে মিলল পল্লব দে’র মরদেহ মহেশখালীতে মাইকিং করে বনকর্মীদের উপর হামলা: আহত একাধিক আর্জেন্টিনাকে ‘কাঁদানো’ রেনার্ড আবার আসছেন বিশ্বকাপে চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত পরিবার বলছে বলাৎকার করে হ’ত্যা : চকরিয়ায় নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩ রামুতে গোয়ালঘরের ময়লার স্তূপ থেকে অস্ত্র উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে

তিন নারীর শরীরে পেঁচানো ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা

বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ যাত্রী। বয়সে একজন বৃদ্ধা, সঙ্গে আরও এক নারী। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে চড়ে তারা যাচ্ছিলেন কক্সবাজারের রামুর দিকে। আচরণেও ছিল না কোনো অস্বাভাবিকতা। কিন্তু শরীরের ভেতরে লুকিয়ে ছিল মাদকের বিশাল এক চালান।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রামুতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ এর অভিযানে ধরা পড়ে এমনই একটি সংঘবদ্ধ নারী চক্র। দুই দফা ঝটিকা অভিযানে গ্রেফতার করা হয় তিন নারীকে। উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা।

র‍্যাবের তথ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু সড়কের হাইটুপি (বুথপাড়া) এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন একটি ইজিবাইক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রথমে কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। পরে নারী র‍্যাব সদস্যরা দেহ তল্লাশি শুরু করলে বেরিয়ে আসে কালো পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে বিশেষ কৌশলে শরীরের সঙ্গে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছিল ইয়াবার বান্ডিল। লাইলি ও গুল বাহারের শরীর থেকে উদ্ধার হয় ৩৮টি বান্ডিল। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রামু চৌমহনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় হাজেরা খাতুনকে। তার শরীর থেকেও উদ্ধার হয় আরও ২২টি বান্ডিল। সব মিলিয়ে ৬০টি বান্ডেল থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা। জব্দ করা হয় তাদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনও।

রোববার সকোলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জালিয়াছড়ি গ্রামের লাইলি বেগম (২৬), গুল বাহার (৩৫) এবং হাজেরা খাতুন (৬৫)।

র‌্যাব কর্মকর্তা আ. ম. ফারুকের ভাষ্য , “তারা একটি সুসংগঠিত নারী মাদক পাচার চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিলেন।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা পাচারে নারী ও বৃদ্ধাদের ব্যবহার করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কারণ নারী যাত্রীদের অনেক সময় সন্দেহের তালিকার বাইরে রাখা হয়। সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে মাদক কারবারিরা।

র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক জানিয়েছেন, আটক নারীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।

তিনি নিশ্চিত করেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মামলা দায়ের করে রামু থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেছেন, সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ সড়কে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বড় নেটওয়ার্ক শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতারবাড়িতে জ্বিন তাড়ানোর নামে শরীরে আগুন, ৪ দিন পর বৃদ্ধের মৃত্যু

তিন নারীর শরীরে পেঁচানো ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ যাত্রী। বয়সে একজন বৃদ্ধা, সঙ্গে আরও এক নারী। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে চড়ে তারা যাচ্ছিলেন কক্সবাজারের রামুর দিকে। আচরণেও ছিল না কোনো অস্বাভাবিকতা। কিন্তু শরীরের ভেতরে লুকিয়ে ছিল মাদকের বিশাল এক চালান।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রামুতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ এর অভিযানে ধরা পড়ে এমনই একটি সংঘবদ্ধ নারী চক্র। দুই দফা ঝটিকা অভিযানে গ্রেফতার করা হয় তিন নারীকে। উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা।

র‍্যাবের তথ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু সড়কের হাইটুপি (বুথপাড়া) এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন একটি ইজিবাইক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রথমে কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। পরে নারী র‍্যাব সদস্যরা দেহ তল্লাশি শুরু করলে বেরিয়ে আসে কালো পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে বিশেষ কৌশলে শরীরের সঙ্গে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছিল ইয়াবার বান্ডিল। লাইলি ও গুল বাহারের শরীর থেকে উদ্ধার হয় ৩৮টি বান্ডিল। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রামু চৌমহনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় হাজেরা খাতুনকে। তার শরীর থেকেও উদ্ধার হয় আরও ২২টি বান্ডিল। সব মিলিয়ে ৬০টি বান্ডেল থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা। জব্দ করা হয় তাদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনও।

রোববার সকোলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জালিয়াছড়ি গ্রামের লাইলি বেগম (২৬), গুল বাহার (৩৫) এবং হাজেরা খাতুন (৬৫)।

র‌্যাব কর্মকর্তা আ. ম. ফারুকের ভাষ্য , “তারা একটি সুসংগঠিত নারী মাদক পাচার চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিলেন।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা পাচারে নারী ও বৃদ্ধাদের ব্যবহার করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কারণ নারী যাত্রীদের অনেক সময় সন্দেহের তালিকার বাইরে রাখা হয়। সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে মাদক কারবারিরা।

র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক জানিয়েছেন, আটক নারীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।

তিনি নিশ্চিত করেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মামলা দায়ের করে রামু থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেছেন, সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ সড়কে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বড় নেটওয়ার্ক শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।