ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্বোধনের অপেক্ষায় পেকুয়ার নোয়াখালী সেতু, স্বস্তিতে কয়েক হাজার মানুষ রামুতে মায়ের হাতে ২ মাসের শিশু জবাই : মা আটক আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা : হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান ছাড়া ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়: নাহিদ ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস সোনার ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছাড়াল আগামী ১২ আগস্ট বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব সমুদ্র শহরের ‘চন্দন ডাক্তার’কে হারানোর এক বছর, আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এসএসসিতে কক্সবাজার জেলায় প্রথম নাবিহা নওরিন কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে বদরখালী কলোনীজেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে থেকে গোল্ডেন A+ পেল সাদিয়া আফরিন কনক ‎এসএসসি পরীক্ষায় রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুলের সাফল্য: শতভাগ পাস, ৮ জন জিপিএ-৫ ‎ সাংবাদিককে হুমকি : মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নিন্দা ও প্রতিবাদ এসএসসি পরীক্ষায় সাংবাদিক কন্যা তানিশার সাফল্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর পিপি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন এড. রেজা

তিন নারীর শরীরে পেঁচানো ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা

বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ যাত্রী। বয়সে একজন বৃদ্ধা, সঙ্গে আরও এক নারী। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে চড়ে তারা যাচ্ছিলেন কক্সবাজারের রামুর দিকে। আচরণেও ছিল না কোনো অস্বাভাবিকতা। কিন্তু শরীরের ভেতরে লুকিয়ে ছিল মাদকের বিশাল এক চালান।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রামুতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ এর অভিযানে ধরা পড়ে এমনই একটি সংঘবদ্ধ নারী চক্র। দুই দফা ঝটিকা অভিযানে গ্রেফতার করা হয় তিন নারীকে। উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা।

র‍্যাবের তথ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু সড়কের হাইটুপি (বুথপাড়া) এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন একটি ইজিবাইক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রথমে কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। পরে নারী র‍্যাব সদস্যরা দেহ তল্লাশি শুরু করলে বেরিয়ে আসে কালো পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে বিশেষ কৌশলে শরীরের সঙ্গে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছিল ইয়াবার বান্ডিল। লাইলি ও গুল বাহারের শরীর থেকে উদ্ধার হয় ৩৮টি বান্ডিল। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রামু চৌমহনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় হাজেরা খাতুনকে। তার শরীর থেকেও উদ্ধার হয় আরও ২২টি বান্ডিল। সব মিলিয়ে ৬০টি বান্ডেল থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা। জব্দ করা হয় তাদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনও।

রোববার সকোলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জালিয়াছড়ি গ্রামের লাইলি বেগম (২৬), গুল বাহার (৩৫) এবং হাজেরা খাতুন (৬৫)।

র‌্যাব কর্মকর্তা আ. ম. ফারুকের ভাষ্য , “তারা একটি সুসংগঠিত নারী মাদক পাচার চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিলেন।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা পাচারে নারী ও বৃদ্ধাদের ব্যবহার করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কারণ নারী যাত্রীদের অনেক সময় সন্দেহের তালিকার বাইরে রাখা হয়। সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে মাদক কারবারিরা।

র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক জানিয়েছেন, আটক নারীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।

তিনি নিশ্চিত করেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মামলা দায়ের করে রামু থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেছেন, সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ সড়কে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বড় নেটওয়ার্ক শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্বোধনের অপেক্ষায় পেকুয়ার নোয়াখালী সেতু, স্বস্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

তিন নারীর শরীরে পেঁচানো ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ যাত্রী। বয়সে একজন বৃদ্ধা, সঙ্গে আরও এক নারী। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে চড়ে তারা যাচ্ছিলেন কক্সবাজারের রামুর দিকে। আচরণেও ছিল না কোনো অস্বাভাবিকতা। কিন্তু শরীরের ভেতরে লুকিয়ে ছিল মাদকের বিশাল এক চালান।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রামুতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ এর অভিযানে ধরা পড়ে এমনই একটি সংঘবদ্ধ নারী চক্র। দুই দফা ঝটিকা অভিযানে গ্রেফতার করা হয় তিন নারীকে। উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা।

র‍্যাবের তথ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু সড়কের হাইটুপি (বুথপাড়া) এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন একটি ইজিবাইক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রথমে কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। পরে নারী র‍্যাব সদস্যরা দেহ তল্লাশি শুরু করলে বেরিয়ে আসে কালো পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে বিশেষ কৌশলে শরীরের সঙ্গে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছিল ইয়াবার বান্ডিল। লাইলি ও গুল বাহারের শরীর থেকে উদ্ধার হয় ৩৮টি বান্ডিল। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রামু চৌমহনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় হাজেরা খাতুনকে। তার শরীর থেকেও উদ্ধার হয় আরও ২২টি বান্ডিল। সব মিলিয়ে ৬০টি বান্ডেল থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা। জব্দ করা হয় তাদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনও।

রোববার সকোলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জালিয়াছড়ি গ্রামের লাইলি বেগম (২৬), গুল বাহার (৩৫) এবং হাজেরা খাতুন (৬৫)।

র‌্যাব কর্মকর্তা আ. ম. ফারুকের ভাষ্য , “তারা একটি সুসংগঠিত নারী মাদক পাচার চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিলেন।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা পাচারে নারী ও বৃদ্ধাদের ব্যবহার করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কারণ নারী যাত্রীদের অনেক সময় সন্দেহের তালিকার বাইরে রাখা হয়। সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে মাদক কারবারিরা।

র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক জানিয়েছেন, আটক নারীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।

তিনি নিশ্চিত করেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মামলা দায়ের করে রামু থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেছেন, সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ সড়কে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বড় নেটওয়ার্ক শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।