রামুতে প্রিতম শর্মা নামের এক কিশোরকে মারধর, ২৪ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখা এবং পরবর্তীতে একটি মিথ্যা মামলায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ১৭ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক প্রিতম শর্মাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে আদালতে হাজির করার দিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া তেলিপট্টি এলাকার বাসিন্দা মৃদুল শর্মার ছেলে প্রিতম শর্মা রামু চৌমুহনী এলাকায় নাস্তা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে পরিচিত কয়েকজন কিশোর-যুবকের সঙ্গে দেখা হলে তিনি সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কথা বলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় স্থানীয় একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে উখিয়ারঘোনা টিলাপাড়া এলাকার ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ জুনায়েদের সঙ্গে কয়েকজন যুবকের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রিতম সেখান থেকে নিজ বাড়িতে চলে যান।
পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে একটি সিসিটিভি ফুটেজে প্রিতমকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখতে পেয়ে জুনায়েদ ক্ষুব্ধ হন। পরে ২০ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে প্রিতমের বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, পরে প্রিতমকে রামু থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখা হয় এবং পরে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, আদালতে পাঠানোর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু কাউছার থানার ভেতরে প্রিতমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতে প্রেরণের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রিতমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে এবং একই দিনে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন।
ঘটনার পর বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নির্দেশনায় পরিবারটিকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সংগঠনের রামু উপজেলা কমিটির সদস্য সৌমিক চৌধুরী প্রাচীর পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “প্রিতমের বিরুদ্ধে মারামারির একটি মামলা ছিল। তার প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়নি।”
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ জুনায়েদ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু কাউছারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রিতমের জামিনের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো নিরীহ অপ্রাপ্তবয়স্ককে যেন রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 
























