কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় ‘জয় বাংলা’ লেখা ঘিরে কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনা অবশেষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গড়িয়েছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনায় ছৈয়দা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ছৈয়দা বেগম রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ছব্বির আহমদের স্ত্রী।
শনিবার (১৭ মে) রাত ৮টার দিকে টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একদল নেতাকর্মীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা থানায় এজাহার দিলেও মামলা হয়নি। এরপর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শনিবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগ নেতা ইউনুস ‘হা হা’ রিয়েক্ট দিলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউনুসকে আটক করে মারধর শুরু করে। এসময় এনজিওকর্মী এসএম ইমরান তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম ছেলেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিহতের সন্তানরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার, ছাত্রদল নেতা জিসান ও অ্যাম্বুলেন্স চালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ছৈয়দা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে ছাত্রলীগ নেতা ইউনুসকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে অভিযুক্ত বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।
তার ভাষ্য, “ওই নারী হাসপাতালে মারা গেছেন। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
বিশেষ প্রতিবেদক 


















