ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোক্তা-অধিকারের অভিযান: চকরিয়ায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা টেকনাফে জাল কাগজপত্রে ভোটার হওয়ার আবেদন, যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড টেকনাফে এসআরবির অভিযান ৫ লক্ষ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ একজন আদর্শ শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত? ছোলামুড়ি বিক্রির আড়ালে মাদক কারবার, ইয়াবাসহ আটক করলো পুলিশ কবি অমিত চৌধুরীর নাগরিক শোক সভা ৩১ অক্টোবর থানচিতে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫ লামায় ১৩ ইটভাটাকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা টেকনাফে বিজিবি ও এসআরবি’র যৌথ অভিযান: ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ কউক’র উদ্যোগে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন- কক্সবাজারের মাস্টার প্ল্যান চুড়ান্ত হচ্ছে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জমিতে বন্দিশিবির ও সামরিক ঘাঁটি বানাচ্ছে আরাকান আর্মি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জরিমানা ব্যাংক-বিমা, সিগারেট ও মোবাইল ফোনসহ ১১ খাতে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক মানবতাবিরোধী অপরাধ : ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

হা হা রিয়েক্টের কারণেই হামলা: এক মায়ের মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় ‘জয় বাংলা’ লেখা ঘিরে কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনা অবশেষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গড়িয়েছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনায় ছৈয়দা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ছৈয়দা বেগম রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ছব্বির আহমদের স্ত্রী।

শনিবার (১৭ মে) রাত ৮টার দিকে টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একদল নেতাকর্মীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা থানায় এজাহার দিলেও মামলা হয়নি। এরপর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শনিবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগ নেতা ইউনুস ‘হা হা’ রিয়েক্ট দিলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউনুসকে আটক করে মারধর শুরু করে। এসময় এনজিওকর্মী এসএম ইমরান তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম ছেলেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিহতের সন্তানরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছাত্রদল নেতা জিসান ও অ্যাম্বুলেন্স চালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ছৈয়দা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে ছাত্রলীগ নেতা ইউনুসকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে অভিযুক্ত বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।

তার ভাষ্য, “ওই নারী হাসপাতালে মারা গেছেন। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোক্তা-অধিকারের অভিযান: চকরিয়ায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা

হা হা রিয়েক্টের কারণেই হামলা: এক মায়ের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১২:৫৫:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় ‘জয় বাংলা’ লেখা ঘিরে কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনা অবশেষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গড়িয়েছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনায় ছৈয়দা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ছৈয়দা বেগম রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ছব্বির আহমদের স্ত্রী।

শনিবার (১৭ মে) রাত ৮টার দিকে টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একদল নেতাকর্মীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা থানায় এজাহার দিলেও মামলা হয়নি। এরপর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শনিবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগ নেতা ইউনুস ‘হা হা’ রিয়েক্ট দিলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউনুসকে আটক করে মারধর শুরু করে। এসময় এনজিওকর্মী এসএম ইমরান তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম ছেলেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিহতের সন্তানরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছাত্রদল নেতা জিসান ও অ্যাম্বুলেন্স চালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ছৈয়দা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে ছাত্রলীগ নেতা ইউনুসকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে অভিযুক্ত বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।

তার ভাষ্য, “ওই নারী হাসপাতালে মারা গেছেন। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”