ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্বের ফ্রি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন চলছে নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী পেকুয়ায় খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত লোহাগাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে নারীর মৃত্যু লামার ফাইতংয়ে ৫ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা হলদিয়া পালং বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মেম্বারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারে রাত ৮টায় শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ গর্জনিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

মৃত মায়ের পাশ ছাড়েনি হাতি শাবক

কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো অসুস্থ এক বন্য মা-হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে, মৃত্যুর পরও মায়ের দেহ ছেড়ে যায়নি তার ছোট্ট শাবক। মৃতদেহ ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান নেয় আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতির একটি দল। শাবক হাতিটির করুণ ডাকে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রোববার সকালে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মীরা। শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন।

তার ভাষ্য, মৃত বন্য হাতিটির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। গত এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, রামু উপজেলার ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার পাহাড়ি বনাঞ্চল ও লোকালয়ের আশপাশে অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল তাকে।

স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে মা হাতিটি তার ছোট শাবককে সঙ্গে নিয়ে লোকালয়ের আশপাশে ঘুরছিল। শুক্রবার রাতেও হাতিটি তার বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে বিষয়টি তিনি বন বিভাগকে জানান।

তার ভাষ্য, “সকালে গিয়ে দেখি হাতিটা মারা গেছে। ছোট্ট শাবকটা মৃত মায়ের পাশ ছাড়ছিল না। মানুষ কাছে গেলেই ভয় পেয়ে করুণ সুরে চিৎকার করছিল। দৃশ্যটা খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মা হাতির মৃতদেহ ঘিরে আশপাশের পাহাড়ে আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতিকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ধারণা করছেন, দলটি মৃত হাতিটিকে পাহারা দিচ্ছিল।

রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন নিশ্চিত করেছেন, খবর পেয়ে রোববার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে হাতিটিকে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলামের মতে, পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়, খাদ্য সংকট ও মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্য হাতিগুলো ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এতে যেমন মানুষ আতঙ্কে থাকছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণীরাও।

তার ভাষ্য, “মা হাতির নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে শাবকের অসহায় ডাক যেন আবারও মনে করিয়ে দিল- বন হারালে শুধু গাছ নয়, হারিয়ে যায় প্রাণের সম্পর্কও।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

মৃত মায়ের পাশ ছাড়েনি হাতি শাবক

আপডেট সময় : ১২:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো অসুস্থ এক বন্য মা-হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে, মৃত্যুর পরও মায়ের দেহ ছেড়ে যায়নি তার ছোট্ট শাবক। মৃতদেহ ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান নেয় আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতির একটি দল। শাবক হাতিটির করুণ ডাকে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রোববার সকালে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মীরা। শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন।

তার ভাষ্য, মৃত বন্য হাতিটির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। গত এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, রামু উপজেলার ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার পাহাড়ি বনাঞ্চল ও লোকালয়ের আশপাশে অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল তাকে।

স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে মা হাতিটি তার ছোট শাবককে সঙ্গে নিয়ে লোকালয়ের আশপাশে ঘুরছিল। শুক্রবার রাতেও হাতিটি তার বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে বিষয়টি তিনি বন বিভাগকে জানান।

তার ভাষ্য, “সকালে গিয়ে দেখি হাতিটা মারা গেছে। ছোট্ট শাবকটা মৃত মায়ের পাশ ছাড়ছিল না। মানুষ কাছে গেলেই ভয় পেয়ে করুণ সুরে চিৎকার করছিল। দৃশ্যটা খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মা হাতির মৃতদেহ ঘিরে আশপাশের পাহাড়ে আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতিকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ধারণা করছেন, দলটি মৃত হাতিটিকে পাহারা দিচ্ছিল।

রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন নিশ্চিত করেছেন, খবর পেয়ে রোববার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে হাতিটিকে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলামের মতে, পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়, খাদ্য সংকট ও মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্য হাতিগুলো ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এতে যেমন মানুষ আতঙ্কে থাকছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণীরাও।

তার ভাষ্য, “মা হাতির নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে শাবকের অসহায় ডাক যেন আবারও মনে করিয়ে দিল- বন হারালে শুধু গাছ নয়, হারিয়ে যায় প্রাণের সম্পর্কও।”