ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা যুবককে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই মৃত মায়ের পাশ ছাড়েনি হাতি শাবক ঈদ-উল-আযহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮ টায়-প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসক টেকনাফে বিয়ার-মদসহ আটক ৩ মহেশখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু প্রেমে অমর হলেন জিন্নাত— প্রেমিকের বিয়ের আসরে বিষপান, একদিন পর মৃত্যু ওসি-এসআইয়ের গাফেলতি! থানায় অভিযোগের জেরে চলা বিরোধে বলি উখিয়ার সেই মা খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর ঈদগড়ে খাটের নিচে আগ্নেয়াস্ত্র, যুবক আটক পদত্যাগ করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত মায়ের জানাজায় সরওয়ার-আনোয়ারীর কড়া বার্তা তিন নারীর শরীরে পেঁচানো ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর! ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

মৃত মায়ের পাশ ছাড়েনি হাতি শাবক

কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো অসুস্থ এক বন্য মা-হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে, মৃত্যুর পরও মায়ের দেহ ছেড়ে যায়নি তার ছোট্ট শাবক। মৃতদেহ ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান নেয় আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতির একটি দল। শাবক হাতিটির করুণ ডাকে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রোববার সকালে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মীরা। শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন।

তার ভাষ্য, মৃত বন্য হাতিটির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। গত এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, রামু উপজেলার ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার পাহাড়ি বনাঞ্চল ও লোকালয়ের আশপাশে অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল তাকে।

স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে মা হাতিটি তার ছোট শাবককে সঙ্গে নিয়ে লোকালয়ের আশপাশে ঘুরছিল। শুক্রবার রাতেও হাতিটি তার বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে বিষয়টি তিনি বন বিভাগকে জানান।

তার ভাষ্য, “সকালে গিয়ে দেখি হাতিটা মারা গেছে। ছোট্ট শাবকটা মৃত মায়ের পাশ ছাড়ছিল না। মানুষ কাছে গেলেই ভয় পেয়ে করুণ সুরে চিৎকার করছিল। দৃশ্যটা খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মা হাতির মৃতদেহ ঘিরে আশপাশের পাহাড়ে আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতিকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ধারণা করছেন, দলটি মৃত হাতিটিকে পাহারা দিচ্ছিল।

রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন নিশ্চিত করেছেন, খবর পেয়ে রোববার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে হাতিটিকে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলামের মতে, পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়, খাদ্য সংকট ও মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্য হাতিগুলো ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এতে যেমন মানুষ আতঙ্কে থাকছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণীরাও।

তার ভাষ্য, “মা হাতির নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে শাবকের অসহায় ডাক যেন আবারও মনে করিয়ে দিল- বন হারালে শুধু গাছ নয়, হারিয়ে যায় প্রাণের সম্পর্কও।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত মায়ের পাশ ছাড়েনি হাতি শাবক

আপডেট সময় : ১২:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো অসুস্থ এক বন্য মা-হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে, মৃত্যুর পরও মায়ের দেহ ছেড়ে যায়নি তার ছোট্ট শাবক। মৃতদেহ ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান নেয় আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতির একটি দল। শাবক হাতিটির করুণ ডাকে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রোববার সকালে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মীরা। শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন।

তার ভাষ্য, মৃত বন্য হাতিটির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। গত এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, রামু উপজেলার ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার পাহাড়ি বনাঞ্চল ও লোকালয়ের আশপাশে অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল তাকে।

স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে মা হাতিটি তার ছোট শাবককে সঙ্গে নিয়ে লোকালয়ের আশপাশে ঘুরছিল। শুক্রবার রাতেও হাতিটি তার বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে বিষয়টি তিনি বন বিভাগকে জানান।

তার ভাষ্য, “সকালে গিয়ে দেখি হাতিটা মারা গেছে। ছোট্ট শাবকটা মৃত মায়ের পাশ ছাড়ছিল না। মানুষ কাছে গেলেই ভয় পেয়ে করুণ সুরে চিৎকার করছিল। দৃশ্যটা খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মা হাতির মৃতদেহ ঘিরে আশপাশের পাহাড়ে আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতিকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ধারণা করছেন, দলটি মৃত হাতিটিকে পাহারা দিচ্ছিল।

রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন নিশ্চিত করেছেন, খবর পেয়ে রোববার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে হাতিটিকে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলামের মতে, পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়, খাদ্য সংকট ও মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্য হাতিগুলো ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এতে যেমন মানুষ আতঙ্কে থাকছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণীরাও।

তার ভাষ্য, “মা হাতির নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে শাবকের অসহায় ডাক যেন আবারও মনে করিয়ে দিল- বন হারালে শুধু গাছ নয়, হারিয়ে যায় প্রাণের সম্পর্কও।”