ঢাকা ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীলঙ্কার দুই জেলে কে নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে- ওসি মহেশখালী এস আলম বাসের ধাক্কায় টমটম উল্টে নারীর মৃত্যু উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সমাবেশের ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা, আসামী ১১৪, গ্রেফতার ২ উখিয়ার পর রামু : নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা সভাপতির ঘোষনা অনুযায়ী বাইক শো ডাউন ও মিছিল আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী ​টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তা ও ৬ দফা নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন’-এর বৈঠক ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি এ্যালায়েন্স’কক্সবাজার জেলা কমিটি ঘোষণা কাউন্সিলর একরাম হত্যা: হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে কক্সবাজারের মেয়ে ইয়াশনা ইকতার এসএসসি ফল প্রকাশের সাম্ভব্য তারিখ জানা গেল বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন পারিবারিক কলহের জেরে মা-বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করে ছেলে : পুলিশ কোনো একসময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবির বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

মৃত মায়ের পাশ ছাড়েনি হাতি শাবক

কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো অসুস্থ এক বন্য মা-হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে, মৃত্যুর পরও মায়ের দেহ ছেড়ে যায়নি তার ছোট্ট শাবক। মৃতদেহ ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান নেয় আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতির একটি দল। শাবক হাতিটির করুণ ডাকে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রোববার সকালে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মীরা। শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন।

তার ভাষ্য, মৃত বন্য হাতিটির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। গত এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, রামু উপজেলার ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার পাহাড়ি বনাঞ্চল ও লোকালয়ের আশপাশে অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল তাকে।

স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে মা হাতিটি তার ছোট শাবককে সঙ্গে নিয়ে লোকালয়ের আশপাশে ঘুরছিল। শুক্রবার রাতেও হাতিটি তার বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে বিষয়টি তিনি বন বিভাগকে জানান।

তার ভাষ্য, “সকালে গিয়ে দেখি হাতিটা মারা গেছে। ছোট্ট শাবকটা মৃত মায়ের পাশ ছাড়ছিল না। মানুষ কাছে গেলেই ভয় পেয়ে করুণ সুরে চিৎকার করছিল। দৃশ্যটা খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মা হাতির মৃতদেহ ঘিরে আশপাশের পাহাড়ে আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতিকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ধারণা করছেন, দলটি মৃত হাতিটিকে পাহারা দিচ্ছিল।

রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন নিশ্চিত করেছেন, খবর পেয়ে রোববার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে হাতিটিকে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলামের মতে, পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়, খাদ্য সংকট ও মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্য হাতিগুলো ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এতে যেমন মানুষ আতঙ্কে থাকছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণীরাও।

তার ভাষ্য, “মা হাতির নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে শাবকের অসহায় ডাক যেন আবারও মনে করিয়ে দিল- বন হারালে শুধু গাছ নয়, হারিয়ে যায় প্রাণের সম্পর্কও।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কার দুই জেলে কে নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে- ওসি মহেশখালী

মৃত মায়ের পাশ ছাড়েনি হাতি শাবক

আপডেট সময় : ১২:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো অসুস্থ এক বন্য মা-হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে, মৃত্যুর পরও মায়ের দেহ ছেড়ে যায়নি তার ছোট্ট শাবক। মৃতদেহ ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান নেয় আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতির একটি দল। শাবক হাতিটির করুণ ডাকে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রোববার সকালে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মীরা। শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন।

তার ভাষ্য, মৃত বন্য হাতিটির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। গত এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, রামু উপজেলার ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার পাহাড়ি বনাঞ্চল ও লোকালয়ের আশপাশে অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল তাকে।

স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে মা হাতিটি তার ছোট শাবককে সঙ্গে নিয়ে লোকালয়ের আশপাশে ঘুরছিল। শুক্রবার রাতেও হাতিটি তার বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে বিষয়টি তিনি বন বিভাগকে জানান।

তার ভাষ্য, “সকালে গিয়ে দেখি হাতিটা মারা গেছে। ছোট্ট শাবকটা মৃত মায়ের পাশ ছাড়ছিল না। মানুষ কাছে গেলেই ভয় পেয়ে করুণ সুরে চিৎকার করছিল। দৃশ্যটা খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মা হাতির মৃতদেহ ঘিরে আশপাশের পাহাড়ে আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতিকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ধারণা করছেন, দলটি মৃত হাতিটিকে পাহারা দিচ্ছিল।

রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন নিশ্চিত করেছেন, খবর পেয়ে রোববার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে হাতিটিকে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলামের মতে, পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়, খাদ্য সংকট ও মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্য হাতিগুলো ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এতে যেমন মানুষ আতঙ্কে থাকছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণীরাও।

তার ভাষ্য, “মা হাতির নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে শাবকের অসহায় ডাক যেন আবারও মনে করিয়ে দিল- বন হারালে শুধু গাছ নয়, হারিয়ে যায় প্রাণের সম্পর্কও।”