ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’ পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফে দুই বোটসহ ৭ জেলে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি পেকুয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষ: দুই যাত্রীর মৃত্যু কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত হলেন সাংবাদিক আবুল কাশেম রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে ইইউর সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী মনছুর আটক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি কাজল -রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাদক ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির হেড কোয়ার্টার শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক: শিক্ষামন্ত্রী গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্তে ১১ স্কাইডাইভার ও পাইলট নিহত চকরিয়ার দুই মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ, ‎সন্ধান চায় পরিবার

মৃত মায়ের পাশ ছাড়েনি হাতি শাবক

কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো অসুস্থ এক বন্য মা-হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে, মৃত্যুর পরও মায়ের দেহ ছেড়ে যায়নি তার ছোট্ট শাবক। মৃতদেহ ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান নেয় আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতির একটি দল। শাবক হাতিটির করুণ ডাকে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রোববার সকালে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মীরা। শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন।

তার ভাষ্য, মৃত বন্য হাতিটির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। গত এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, রামু উপজেলার ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার পাহাড়ি বনাঞ্চল ও লোকালয়ের আশপাশে অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল তাকে।

স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে মা হাতিটি তার ছোট শাবককে সঙ্গে নিয়ে লোকালয়ের আশপাশে ঘুরছিল। শুক্রবার রাতেও হাতিটি তার বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে বিষয়টি তিনি বন বিভাগকে জানান।

তার ভাষ্য, “সকালে গিয়ে দেখি হাতিটা মারা গেছে। ছোট্ট শাবকটা মৃত মায়ের পাশ ছাড়ছিল না। মানুষ কাছে গেলেই ভয় পেয়ে করুণ সুরে চিৎকার করছিল। দৃশ্যটা খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মা হাতির মৃতদেহ ঘিরে আশপাশের পাহাড়ে আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতিকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ধারণা করছেন, দলটি মৃত হাতিটিকে পাহারা দিচ্ছিল।

রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন নিশ্চিত করেছেন, খবর পেয়ে রোববার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে হাতিটিকে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলামের মতে, পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়, খাদ্য সংকট ও মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্য হাতিগুলো ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এতে যেমন মানুষ আতঙ্কে থাকছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণীরাও।

তার ভাষ্য, “মা হাতির নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে শাবকের অসহায় ডাক যেন আবারও মনে করিয়ে দিল- বন হারালে শুধু গাছ নয়, হারিয়ে যায় প্রাণের সম্পর্কও।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি!

মৃত মায়ের পাশ ছাড়েনি হাতি শাবক

আপডেট সময় : ১২:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো অসুস্থ এক বন্য মা-হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে, মৃত্যুর পরও মায়ের দেহ ছেড়ে যায়নি তার ছোট্ট শাবক। মৃতদেহ ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান নেয় আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতির একটি দল। শাবক হাতিটির করুণ ডাকে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

রোববার সকালে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মীরা। শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন।

তার ভাষ্য, মৃত বন্য হাতিটির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। গত এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, রামু উপজেলার ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার পাহাড়ি বনাঞ্চল ও লোকালয়ের আশপাশে অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল তাকে।

স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে মা হাতিটি তার ছোট শাবককে সঙ্গে নিয়ে লোকালয়ের আশপাশে ঘুরছিল। শুক্রবার রাতেও হাতিটি তার বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে বিষয়টি তিনি বন বিভাগকে জানান।

তার ভাষ্য, “সকালে গিয়ে দেখি হাতিটা মারা গেছে। ছোট্ট শাবকটা মৃত মায়ের পাশ ছাড়ছিল না। মানুষ কাছে গেলেই ভয় পেয়ে করুণ সুরে চিৎকার করছিল। দৃশ্যটা খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মা হাতির মৃতদেহ ঘিরে আশপাশের পাহাড়ে আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতিকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ধারণা করছেন, দলটি মৃত হাতিটিকে পাহারা দিচ্ছিল।

রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন নিশ্চিত করেছেন, খবর পেয়ে রোববার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে হাতিটিকে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলামের মতে, পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়, খাদ্য সংকট ও মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্য হাতিগুলো ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এতে যেমন মানুষ আতঙ্কে থাকছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণীরাও।

তার ভাষ্য, “মা হাতির নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে শাবকের অসহায় ডাক যেন আবারও মনে করিয়ে দিল- বন হারালে শুধু গাছ নয়, হারিয়ে যায় প্রাণের সম্পর্কও।”