ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাছখেকোদের বাঁচাতে মরিয়া বিট কর্মকর্তা মান্নান ভোলায় খুন করে চকরিয়ায় আত্মগোপন, আসামী বাঘা গ্রেপ্তার হামের টিকা কেন দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে উখিয়া সীমান্তে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ১০০টিরও বেশি আসন লুট করে নিয়েছে বিজেপি: মমতা কক্সবাজার ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে বরণে নেতাকর্মীদের ঢল সংরক্ষিত বনে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য টেকনাফে গণধর্ষণ ও অপহরণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার মাটি খুঁড়ে ফের বিপুল মাদক-অস্ত্র পেলো নৌবাহিনী মাছের ব্যাগে ৩০ হাজার ইয়াবা, যুবক আটক উখিয়ায় হত্যা, অপহরণসহ একাধিক মামলার আসামী গ্রেফতার কক্সবাজারে শুরু হয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা পাচারকারীর ব্যাগে ৫০ হাজার ইয়াবা কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু, মোট ১৩ শিশুর মৃত্যু  নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি সাচিং প্রু জেরি

ভোলায় খুন করে চকরিয়ায় আত্মগোপন, আসামী বাঘা গ্রেপ্তার

বরিশালের ভোলার চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক আব্দুর রহিম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান ঘাতক মো. জাকির হোসেন প্রকাশ বাঘাকে (৩৬) অবশেষে গ্রেফতার হয়েছে র‌্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। সোমবার (৪ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে র‌্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদার মুরাপাড়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান তাকে গ্রেফতার করে। সেখানে লাল মিয়ার দোকানের পাশের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলো।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এসব তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, মো. জাকির হোসেন প্রকাশ বাঘার বাড়ি ভোলা জেলার রসুলপুর এলাকায়। তার পিতার নাম মো. জয়নাল বাঘা। ভোলা জেলার শশীভূষণ থানা এলাকার বহুল আলোচিত আব্দুর রহিম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি জাকির হোসেন বাঘা আত্মগোপনে ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়ে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দুর্গম এলাকায় পরিচয় গোপন করে অবস্থান নেয় সে। গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, আব্দুর রহিম হত্যার ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ ফেব্রুয়ারি। নিহত আমির হোসেনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে তা পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রথম দফায় হামলায় আমির হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে অভিযুক্তরা। এর জের ধরে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকে ঘাতক জাকির হোসেন বাঘা ও তার সহযোগীরা। শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহাসড়কে আমির হোসেনের বাবা আব্দুর রহিম ও তার সঙ্গে থাকা ভুট্টো পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে আঃ রহিমের মাথা, ঘাড় ও গলায় নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়। হামলার ভয়াবহতায় হাড় ও রক্তনালী বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ধূর্ততার সঙ্গে পালিয়ে বেড়ায় জাকির হোসেন বাঘা। র‍্যাব-১৫ এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানির একটি দল মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে।

র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুকের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হোসেন বাঘা হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলায় খুন করে চকরিয়ায় আত্মগোপন, আসামী বাঘা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০২:১৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বরিশালের ভোলার চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক আব্দুর রহিম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান ঘাতক মো. জাকির হোসেন প্রকাশ বাঘাকে (৩৬) অবশেষে গ্রেফতার হয়েছে র‌্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। সোমবার (৪ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে র‌্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদার মুরাপাড়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান তাকে গ্রেফতার করে। সেখানে লাল মিয়ার দোকানের পাশের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলো।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এসব তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, মো. জাকির হোসেন প্রকাশ বাঘার বাড়ি ভোলা জেলার রসুলপুর এলাকায়। তার পিতার নাম মো. জয়নাল বাঘা। ভোলা জেলার শশীভূষণ থানা এলাকার বহুল আলোচিত আব্দুর রহিম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি জাকির হোসেন বাঘা আত্মগোপনে ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়ে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দুর্গম এলাকায় পরিচয় গোপন করে অবস্থান নেয় সে। গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, আব্দুর রহিম হত্যার ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ ফেব্রুয়ারি। নিহত আমির হোসেনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে তা পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রথম দফায় হামলায় আমির হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে অভিযুক্তরা। এর জের ধরে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকে ঘাতক জাকির হোসেন বাঘা ও তার সহযোগীরা। শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহাসড়কে আমির হোসেনের বাবা আব্দুর রহিম ও তার সঙ্গে থাকা ভুট্টো পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে আঃ রহিমের মাথা, ঘাড় ও গলায় নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়। হামলার ভয়াবহতায় হাড় ও রক্তনালী বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ধূর্ততার সঙ্গে পালিয়ে বেড়ায় জাকির হোসেন বাঘা। র‍্যাব-১৫ এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানির একটি দল মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে।

র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুকের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হোসেন বাঘা হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।