ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশ পরিচয়ে হোটেল-রিসোর্টে চাঁদাবাজি: চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার চৌফলদণ্ডী ও ভারুয়াখালীকে কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস এমপি কাজলের লালদিঘি পাড় এলাকার ব্যবসায়ী বাহার ছড়ার সৈয়দ সওদাগরের ইন্তেকাল সীমান্তে ইয়াবার সর্ববৃহৎ চালান আটক : ৪২ কোটি টাকার ১৪ লাখ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ বন্যার্ত ১৪’শ মানুষের পাশে মুসলিম হ্যান্ডস্ ইন্টারন্যাশনাল যে কারণে তিন কিশোরের হাতে ফুটবল তুলে দিলেন কুতুবদিয়ার ইউএনও কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ২২ কক্সবাজার সিটি কলেজ জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শোয়াইব, সদস্য সচিব তারেক দাপ্তারিক চিঠিপত্রে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ বাদের সিদ্ধান্ত মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট চকরিয়ায় পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ: পারভেজের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সেনাবাহিনীর ফায়ারিং মহড়ায় দুই সৈনিক নিহত ৫৪ হাজার ইয়াবাসহ এপিবিএন সদস্য আটক, পরিচয় জানতেন না বাদী এবং ওসি, এপিবিএন অধিনায়ক বললেন জঘন্য কাজ পলিথিন-প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র

ভোলায় খুন করে চকরিয়ায় আত্মগোপন, আসামী বাঘা গ্রেপ্তার

বরিশালের ভোলার চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক আব্দুর রহিম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান ঘাতক মো. জাকির হোসেন প্রকাশ বাঘাকে (৩৬) অবশেষে গ্রেফতার হয়েছে র‌্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। সোমবার (৪ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে র‌্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদার মুরাপাড়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান তাকে গ্রেফতার করে। সেখানে লাল মিয়ার দোকানের পাশের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলো।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এসব তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, মো. জাকির হোসেন প্রকাশ বাঘার বাড়ি ভোলা জেলার রসুলপুর এলাকায়। তার পিতার নাম মো. জয়নাল বাঘা। ভোলা জেলার শশীভূষণ থানা এলাকার বহুল আলোচিত আব্দুর রহিম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি জাকির হোসেন বাঘা আত্মগোপনে ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়ে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দুর্গম এলাকায় পরিচয় গোপন করে অবস্থান নেয় সে। গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, আব্দুর রহিম হত্যার ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ ফেব্রুয়ারি। নিহত আমির হোসেনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে তা পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রথম দফায় হামলায় আমির হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে অভিযুক্তরা। এর জের ধরে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকে ঘাতক জাকির হোসেন বাঘা ও তার সহযোগীরা। শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহাসড়কে আমির হোসেনের বাবা আব্দুর রহিম ও তার সঙ্গে থাকা ভুট্টো পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে আঃ রহিমের মাথা, ঘাড় ও গলায় নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়। হামলার ভয়াবহতায় হাড় ও রক্তনালী বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ধূর্ততার সঙ্গে পালিয়ে বেড়ায় জাকির হোসেন বাঘা। র‍্যাব-১৫ এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানির একটি দল মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে।

র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুকের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হোসেন বাঘা হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ পরিচয়ে হোটেল-রিসোর্টে চাঁদাবাজি: চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

ভোলায় খুন করে চকরিয়ায় আত্মগোপন, আসামী বাঘা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০২:১৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বরিশালের ভোলার চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক আব্দুর রহিম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান ঘাতক মো. জাকির হোসেন প্রকাশ বাঘাকে (৩৬) অবশেষে গ্রেফতার হয়েছে র‌্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। সোমবার (৪ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে র‌্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদার মুরাপাড়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান তাকে গ্রেফতার করে। সেখানে লাল মিয়ার দোকানের পাশের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলো।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এসব তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, মো. জাকির হোসেন প্রকাশ বাঘার বাড়ি ভোলা জেলার রসুলপুর এলাকায়। তার পিতার নাম মো. জয়নাল বাঘা। ভোলা জেলার শশীভূষণ থানা এলাকার বহুল আলোচিত আব্দুর রহিম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি জাকির হোসেন বাঘা আত্মগোপনে ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়ে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দুর্গম এলাকায় পরিচয় গোপন করে অবস্থান নেয় সে। গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, আব্দুর রহিম হত্যার ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ ফেব্রুয়ারি। নিহত আমির হোসেনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে তা পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রথম দফায় হামলায় আমির হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে অভিযুক্তরা। এর জের ধরে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকে ঘাতক জাকির হোসেন বাঘা ও তার সহযোগীরা। শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহাসড়কে আমির হোসেনের বাবা আব্দুর রহিম ও তার সঙ্গে থাকা ভুট্টো পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে আঃ রহিমের মাথা, ঘাড় ও গলায় নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়। হামলার ভয়াবহতায় হাড় ও রক্তনালী বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ধূর্ততার সঙ্গে পালিয়ে বেড়ায় জাকির হোসেন বাঘা। র‍্যাব-১৫ এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানির একটি দল মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে।

র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুকের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হোসেন বাঘা হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।