ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিশু ওয়াহিদ হ-ত্যা: বিক্ষোভে ফুঁসছে চকরিয়া, আসামিদের পক্ষে দাঁড়াবে না আইনজীবীরা কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত মিয়ানমার-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াবা পাচারের সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ঈদগাঁওয়ের যুবকের মৃত্যু, আহত ১ কুতুবদিয়ায় জামায়াত আমীর আনোয়ারী – ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে” চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার রায় : ১ মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর চায় পরিবার আপত্তিকর ভিডিও প্রচারের অভিযোগে কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষার্থী বহিষ্কার জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী মেসিকে কি লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল শিশু আয়াত হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবিরের মৃত্যুদন্ড সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে ভুল ইংরেজিতে নারী এমপির বক্তব্য আলোচিত সেই শিশুধর্ষণ মামলার রায় আজ পেকুয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই লবণ শ্রমিকের বসতঘর, ক্ষতি ৫ লাখ টাকার কম্বোডিয়ায় সাইবার প্রতারণার জাল: চার দিনে ফিরলেন ২২১ বাংলাদেশি হ্যাটট্রিক-রেকর্ড- ইতিহাস; আবেগে ভেজা চোখ- স্বপ্নের মত শুরু আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা

৭ জেলেকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং নয়াপাড়া ও শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদী থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে সাতজন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আটক জেলেরা হলেন, সাবরাং নয়াপাড়া এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান, নুরুল ইসলামের ছেলে আবদুল মতলব, মকবুল আহমেদের ছেলে গুরা মিয়া, আব্দুস সালামের ছেলে মো. হাসান এবং শাহপরীরদ্বীপ ডেইলপাড়ার আহমদ আলী, নুরুল আবসার ও আবদুর রহিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে জেলেরা নাফ নদে মাছ ধরতে যান। দুপুরে মাছ ধরে ফেরার পথে হঠাৎ করে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের নৌকাসহ জিম্মি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ জানান, “জেলেরা নিয়মিত মাছ ধরতে নদীতে যান। আজও ভোরে তারা মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে যায়।”

আটক জেলে আহমদ আলীর স্ত্রী মুন্নি আক্তার বলেন, “আমার স্বামীসহ তিনজনকে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা খুব গরিব মানুষ। সে মাছ ধরে যা আয় করে, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। তাকে না পেলে আমরা বাঁচব কিভাবে?”

নৌকার মালিক আব্দুস শুক্কুর বলেন, “আমার নৌকায় নিয়ে তারা মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিওপি কমান্ডারকে বিস্তারিত জানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যাচাই শেষে জেলেদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ বলেন, “জেলেদের আটকের খবর পাওয়া গেছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে কোস্ট গার্ড ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।”

এ ঘটনায় জেলেদের স্বজনদের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সীমান্তে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিশু ওয়াহিদ হ-ত্যা: বিক্ষোভে ফুঁসছে চকরিয়া, আসামিদের পক্ষে দাঁড়াবে না আইনজীবীরা

৭ জেলেকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং নয়াপাড়া ও শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদী থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে সাতজন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আটক জেলেরা হলেন, সাবরাং নয়াপাড়া এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান, নুরুল ইসলামের ছেলে আবদুল মতলব, মকবুল আহমেদের ছেলে গুরা মিয়া, আব্দুস সালামের ছেলে মো. হাসান এবং শাহপরীরদ্বীপ ডেইলপাড়ার আহমদ আলী, নুরুল আবসার ও আবদুর রহিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে জেলেরা নাফ নদে মাছ ধরতে যান। দুপুরে মাছ ধরে ফেরার পথে হঠাৎ করে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের নৌকাসহ জিম্মি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ জানান, “জেলেরা নিয়মিত মাছ ধরতে নদীতে যান। আজও ভোরে তারা মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে যায়।”

আটক জেলে আহমদ আলীর স্ত্রী মুন্নি আক্তার বলেন, “আমার স্বামীসহ তিনজনকে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা খুব গরিব মানুষ। সে মাছ ধরে যা আয় করে, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। তাকে না পেলে আমরা বাঁচব কিভাবে?”

নৌকার মালিক আব্দুস শুক্কুর বলেন, “আমার নৌকায় নিয়ে তারা মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিওপি কমান্ডারকে বিস্তারিত জানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যাচাই শেষে জেলেদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ বলেন, “জেলেদের আটকের খবর পাওয়া গেছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে কোস্ট গার্ড ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।”

এ ঘটনায় জেলেদের স্বজনদের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সীমান্তে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।