ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কেরানীগঞ্জে ইয়াবা তৈরির ‘কারখানা’, ঢাকাসহ আশপাশে চলত সরবরাহ লোহাগাড়ায় মন্দির সংলগ্ন পুকুর থেকে তবলা বাদক অরুণ জলদাশের মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, উদ্ধার ১৮ নতুন দায়িত্বে ৩ মন্ত্রী ‘You have your home! We miss our home!’: মার্কিন বিশেষ দূতের সামনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আকুতি নতুন বাহারছড়ার মোস্তাক আহম্মদ আর নেই : জানাজা বাদ আছর ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ৫ আগস্ট রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক ড. কামরুজ্জামান সিনহা হত্যা মামলা: ছয় বছর পরও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আটক যুবক কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নোমানের গাড়িচালক দাবি স্থানীয়দের হলদিয়াপালং যুবদলের কমিটি বিতর্ক: সাত সদস্যের কমিটিতে মাদক মামলার আসামি! সড়ক নয়, যেন গর্তের সারি— লোহাগাড়ার দরবেশহাট ডিসি সড়কে সীমাহীন ভোগান্তি জানাজায় কান্নার কলরবে ইয়াসেরের বিদায় লতিফ সিদ্দিকী বললেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন’

দুর্গম এলাকায় টিকা ঘাটতি, বাড়ছে ঝুঁকি

মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সোনাদিয়ায় প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার বসবাস করে। এসব বাসিন্দাকে নৌপথে চ্যানেল পার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদরে যেতে হয়। অধিকাংশ পরিবার জীবিকার জন্য সাগরে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গমতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত সেখানে যান না। একই চিত্র কুতুবজোম, মাতারবাড়ী, ছোট মহেশখালী ও শামলাপুর ইউনিয়নেও। ফলে অনেক শিশু নিয়মিত টিকার আওতায় আসছে না।

দ্বীপের পরিবেশকর্মী আবদু খালেক বলেন, “প্রায় প্রতিটি পরিবারেই সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশু রয়েছে। গত দেড়-দুই বছরে এখানে হামের টিকা দেওয়া হয়নি।”

মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুল হক জানান, উপকূলীয় এলাকায় টিকা নিয়ে অপপ্রচার ও কুসংস্কারের কারণে এমআর ক্যাম্পেইন ব্যাহত হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি ইউনিট চালু করা হয়েছে।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সেলিম জানান, জোয়ারিয়ানালা, মিঠাছড়ি ও গর্জনিয়াসহ দুর্গম পাহাড়ি ইউনিয়নগুলোতে অন্তত ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

হাসপাতালে চাপ, বাড়ছে মৃত্যু :

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ১৩৮ শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ শয্যার হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৪২ জন। শয্যা সংকটে একেকটি বেডে তিন থেকে চারজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত দুই দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবার বয়স এক বছরের কম। শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ইনচার্জ শহিদুল আলম বলেন, মৃত শিশুদের হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া ছিল।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক রোগবিশেষজ্ঞ মো. শাহজাহান নাজির বলেন, “যেসব এলাকায় টিকার আওতা ৮৫ শতাংশের নিচে থাকে, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে একটি এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু সংক্রমিত হতে পারে।”

সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) মহিউদ্দিন আলমগীর জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৪ লাখ ৫ হাজার শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে মহেশখালী ও রামুতে ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এসব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পৃথক হাম ইউনিট চালু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে ইয়াবা তৈরির ‘কারখানা’, ঢাকাসহ আশপাশে চলত সরবরাহ

দুর্গম এলাকায় টিকা ঘাটতি, বাড়ছে ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৬:০২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সোনাদিয়ায় প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার বসবাস করে। এসব বাসিন্দাকে নৌপথে চ্যানেল পার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদরে যেতে হয়। অধিকাংশ পরিবার জীবিকার জন্য সাগরে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গমতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত সেখানে যান না। একই চিত্র কুতুবজোম, মাতারবাড়ী, ছোট মহেশখালী ও শামলাপুর ইউনিয়নেও। ফলে অনেক শিশু নিয়মিত টিকার আওতায় আসছে না।

দ্বীপের পরিবেশকর্মী আবদু খালেক বলেন, “প্রায় প্রতিটি পরিবারেই সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশু রয়েছে। গত দেড়-দুই বছরে এখানে হামের টিকা দেওয়া হয়নি।”

মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুল হক জানান, উপকূলীয় এলাকায় টিকা নিয়ে অপপ্রচার ও কুসংস্কারের কারণে এমআর ক্যাম্পেইন ব্যাহত হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি ইউনিট চালু করা হয়েছে।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সেলিম জানান, জোয়ারিয়ানালা, মিঠাছড়ি ও গর্জনিয়াসহ দুর্গম পাহাড়ি ইউনিয়নগুলোতে অন্তত ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

হাসপাতালে চাপ, বাড়ছে মৃত্যু :

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ১৩৮ শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ শয্যার হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৪২ জন। শয্যা সংকটে একেকটি বেডে তিন থেকে চারজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত দুই দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবার বয়স এক বছরের কম। শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ইনচার্জ শহিদুল আলম বলেন, মৃত শিশুদের হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া ছিল।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক রোগবিশেষজ্ঞ মো. শাহজাহান নাজির বলেন, “যেসব এলাকায় টিকার আওতা ৮৫ শতাংশের নিচে থাকে, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে একটি এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু সংক্রমিত হতে পারে।”

সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) মহিউদ্দিন আলমগীর জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৪ লাখ ৫ হাজার শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে মহেশখালী ও রামুতে ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এসব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পৃথক হাম ইউনিট চালু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।