ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে: আইজিপি ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্কবার্তা দিল মার্কিন দূতাবাস সারা দেশে টানা পাঁচদিন বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে না পারলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না: নাহিদ ইসলাম বিয়ের বাড়ি সাজাতে গিয়ে নিভে গেল সাইফুলের জীবন প্রদীপ বিজিবির ৪টি পৃথক অভিযান : ২ লাখ ৯৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ দ্রুত গলছে এভারেস্টের হিমবাহ, দায়ী মানুষের প্রস্রাবও লোহাগাড়ায় টিউশনিতে যাওয়ার পথে শিক্ষকের ওপর হামলা, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ৮ মা’ম’লার আ’সা’মী শহরের শীর্ষ ছি’ন’তা’ইকা’রী বাবু আটক কক্সবাজারে জন্মাষ্টমী উদযাপন : শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ মানবসমাজকে সম্প্রীতির শিক্ষা দেয় কক্সবাজারে ২ হাজার আইফোন, শতাধিক ল্যাপটপসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার কক্সবাজারে অসুস্থ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত হয়নি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য সংসদে দুই হাত তুলে দোয়া করলেন জামায়াত আমির

সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ১২ সেনা আহত

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে মোট ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গতকাল শুক্রবার এ হামলা ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)। মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসের বেশ কয়েকটি রি-ফুয়েলিং বিমানও বিধ্বস্ত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে ২ হাজার ৩২১ জন মার্কিন সৈন্য রয়েছে। তারা সৌদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা এবং মার্কিন সামরিক বিমানের কার্যক্রমে সহায়তা দেয়। রিয়াদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে কিছু সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যারা প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি এবং থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মতো সরঞ্জাম পরিচালনা করে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।

এর আগে ১ মার্চ প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। এতে আহত হয়েছিলেন কয়েকজন মার্কিন সেনা। তাদের মধ্যে সার্জেন্ট বেঞ্জামিন এন. পেনিংটন (২৬) নামের এক সেনা কয়েক দিন আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাস ধরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা।

সূত্র : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, এপি

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ১২ সেনা আহত

আপডেট সময় : ১২:০৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে মোট ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গতকাল শুক্রবার এ হামলা ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)। মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসের বেশ কয়েকটি রি-ফুয়েলিং বিমানও বিধ্বস্ত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে ২ হাজার ৩২১ জন মার্কিন সৈন্য রয়েছে। তারা সৌদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা এবং মার্কিন সামরিক বিমানের কার্যক্রমে সহায়তা দেয়। রিয়াদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে কিছু সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যারা প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি এবং থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মতো সরঞ্জাম পরিচালনা করে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।

এর আগে ১ মার্চ প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। এতে আহত হয়েছিলেন কয়েকজন মার্কিন সেনা। তাদের মধ্যে সার্জেন্ট বেঞ্জামিন এন. পেনিংটন (২৬) নামের এক সেনা কয়েক দিন আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাস ধরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা।

সূত্র : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, এপি