ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বছরে কয়েকবার উচ্ছেদ, তবুও যানজটের কারণ সেই বিদ্যুতের খুঁটি ‘জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব’ কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: মালিককে প্রধান আসামি করে পুলিশের মামলা টুপটুপ রিসোর্ট ট্র্যাজেডি : খোঁজ নেই নাহিদসহ পরিবারের ৪ জনের কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই, নিঃস্ব ১৩ পরিবার লোহাগাড়ায় এক কিশোরীর কান্ড আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে মরদেহগুলো : ডিএনএ টেস্টে সময় লাগবে ৪ সপ্তাহ মাইক্রোফোন হাতে শুরু ‘বিয়ের প্রথম সকাল’, নজর কাড়ল সাংবাদিক শামীমের পেশাদারিত্ব কক্সবাজার-৩ আসনের সর্বস্তরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা জানালেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল সোনাদিয়ায় দখল উচ্ছেদ করে জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা হবে- প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম টুপটুপের প্রচারণামূলক ভিডিও বানানো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর চাইলেন ক্ষমা! রামুতে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতারা  ‘টুপটুপে প্রাণহানির দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেনা’, তদন্তের দাবি শিবিরের

নেপালের বন্যার্তদের পাশে কাঠমান্ডুর রোহিঙ্গারা, নিজেদের সংকটের মধ্যেও মানবিক সহায়তা

নিজেদেরই নেই স্থায়ী ঠিকানা, নিশ্চিত জীবিকা কিংবা সন্তানদের পড়াশোনার স্বাভাবিক সুযোগ। তবুও নেপালের ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কাঠমান্ডুতে বসবাসরত রোহিঙ্গারা।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) কাঠমান্ডুতে থাকা পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা নিজেদের কমিউনিটির মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বন্যার্তদের জন্য খাদ্য, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে এগিয়ে যান।

তাদের দেওয়া সহায়তার মধ্যে রয়েছে ১০ বস্তা চাল, ৫০ কার্টন ওয়াই-ওয়াই নুডলস, ২৫ কার্টন বিস্কুট, ৬ বস্তা চিড়া, ৪ বস্তা ভুজা ও ২০ কার্টন পানি। পাশাপাশি নারী, পুরুষ ও শিশুদের পোশাক, জ্যাকেট, কম্বল, বালিশ, বিছানার সামগ্রী ও ত্রিপলও দেওয়া হয়েছে।

এসব সহায়তা গ্রহণ করেন নুয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান গণেশ কুমার নেপাল। রোহিঙ্গাদের এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি তাদের মানবিকতার প্রশংসা করেন।

রোহিঙ্গা কমিউনিটির পক্ষ থেকে মো. সেলিম, জাফর মিয়া, মো. সেলিম, মো. রফিক, মাওলানা আসমত উল্লাহ, শফিক আলম, আবু বক্কর, মোহাম্মদ বেলাল ও মো. আইয়ুব উদ্যোগটিতে যুক্ত ছিলেন।

মাওলানা আসমত উল্লাহ বলেন,“আমরা নিজেরাই গণহত্যা ও বাস্তুচ্যুতির কষ্ট নিয়ে এখানে আশ্রিত। নেপালের এই দুর্যোগ আমাদের ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। তাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।”

মো. সেলিম বলেন,“নেপালের মানুষ আমাদের সঙ্গে সবসময় বন্ধুসুলভ আচরণ করেছে। তাদের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব মনে হয়েছে। আশা করি, আমাদের এই উদ্যোগ দুই সম্প্রদায়ের সম্পর্ক আরও সুন্দর করবে।”

মোহাম্মদ বেলাল বলেন,“রোহিঙ্গাদের নিয়ে অনেক ভুল ধারণা ও প্রচারণা আছে। আমরা মনে করি, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই আমাদের আসল পরিচয় তুলে ধরা সম্ভব। মানবিকতার কোনো জাতি বা সীমান্ত নেই।”

কাঠমান্ডুতে বসবাসরত এই রোহিঙ্গাদের জীবনও নানা সংকটে ঘেরা। মিয়ানমারে সহিংসতা ও গণহত্যার মুখে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন তারা।

নেপালে থাকা রোহিঙ্গাদের অনেকেরই নেই স্থায়ী আবাসনের নিশ্চয়তা। নেই সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ। নিয়মিত চাকরির ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা বাধা। দিনমজুরি, কৃষিকাজ ও অন্যান্য অস্থায়ী কাজের ওপর নির্ভর করেই চলে অনেক পরিবারের জীবন। তাদের ভাষ্য, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তাও বর্তমানে খুব সীমিত।

নিজেদের এমন সংকটের মধ্যেও নেপালের দুর্যোগপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তারা।

রোহিঙ্গা কমিউনিটির সদস্যদের ভাষায়, নেপালের মানুষের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। দুর্যোগের সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করারও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিজেদের ঘর হারিয়ে একদিন যারা অন্যের দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন, আজ তারাই অন্যের দুর্দিনে বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

নেপালের বন্যার্তদের পাশে কাঠমান্ডুর রোহিঙ্গারা, নিজেদের সংকটের মধ্যেও মানবিক সহায়তা

আপডেট সময় : ১০:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজেদেরই নেই স্থায়ী ঠিকানা, নিশ্চিত জীবিকা কিংবা সন্তানদের পড়াশোনার স্বাভাবিক সুযোগ। তবুও নেপালের ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কাঠমান্ডুতে বসবাসরত রোহিঙ্গারা।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) কাঠমান্ডুতে থাকা পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা নিজেদের কমিউনিটির মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বন্যার্তদের জন্য খাদ্য, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে এগিয়ে যান।

তাদের দেওয়া সহায়তার মধ্যে রয়েছে ১০ বস্তা চাল, ৫০ কার্টন ওয়াই-ওয়াই নুডলস, ২৫ কার্টন বিস্কুট, ৬ বস্তা চিড়া, ৪ বস্তা ভুজা ও ২০ কার্টন পানি। পাশাপাশি নারী, পুরুষ ও শিশুদের পোশাক, জ্যাকেট, কম্বল, বালিশ, বিছানার সামগ্রী ও ত্রিপলও দেওয়া হয়েছে।

এসব সহায়তা গ্রহণ করেন নুয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান গণেশ কুমার নেপাল। রোহিঙ্গাদের এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি তাদের মানবিকতার প্রশংসা করেন।

রোহিঙ্গা কমিউনিটির পক্ষ থেকে মো. সেলিম, জাফর মিয়া, মো. সেলিম, মো. রফিক, মাওলানা আসমত উল্লাহ, শফিক আলম, আবু বক্কর, মোহাম্মদ বেলাল ও মো. আইয়ুব উদ্যোগটিতে যুক্ত ছিলেন।

মাওলানা আসমত উল্লাহ বলেন,“আমরা নিজেরাই গণহত্যা ও বাস্তুচ্যুতির কষ্ট নিয়ে এখানে আশ্রিত। নেপালের এই দুর্যোগ আমাদের ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। তাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।”

মো. সেলিম বলেন,“নেপালের মানুষ আমাদের সঙ্গে সবসময় বন্ধুসুলভ আচরণ করেছে। তাদের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব মনে হয়েছে। আশা করি, আমাদের এই উদ্যোগ দুই সম্প্রদায়ের সম্পর্ক আরও সুন্দর করবে।”

মোহাম্মদ বেলাল বলেন,“রোহিঙ্গাদের নিয়ে অনেক ভুল ধারণা ও প্রচারণা আছে। আমরা মনে করি, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই আমাদের আসল পরিচয় তুলে ধরা সম্ভব। মানবিকতার কোনো জাতি বা সীমান্ত নেই।”

কাঠমান্ডুতে বসবাসরত এই রোহিঙ্গাদের জীবনও নানা সংকটে ঘেরা। মিয়ানমারে সহিংসতা ও গণহত্যার মুখে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন তারা।

নেপালে থাকা রোহিঙ্গাদের অনেকেরই নেই স্থায়ী আবাসনের নিশ্চয়তা। নেই সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ। নিয়মিত চাকরির ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা বাধা। দিনমজুরি, কৃষিকাজ ও অন্যান্য অস্থায়ী কাজের ওপর নির্ভর করেই চলে অনেক পরিবারের জীবন। তাদের ভাষ্য, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তাও বর্তমানে খুব সীমিত।

নিজেদের এমন সংকটের মধ্যেও নেপালের দুর্যোগপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তারা।

রোহিঙ্গা কমিউনিটির সদস্যদের ভাষায়, নেপালের মানুষের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। দুর্যোগের সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করারও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিজেদের ঘর হারিয়ে একদিন যারা অন্যের দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন, আজ তারাই অন্যের দুর্দিনে বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত।