ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২ দশকেরও বেশী সময় পর রামুর হাতে শিরোপা টেকনাফে অপহরণের দুই দিন পর রোহিঙ্গা কিশোরী উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক টেকনাফে মুক্তিপণ আদায়ের পরও অপহৃত ঈদগাঁওর ২ বাসিন্দা উদ্ধার পেকুয়ার শিলখালীতে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ২ মুরগির ওজনে কারসাজি : ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বলে বিক্রি, অন্য দোকানে ওজন ২ কেজি ২০০ গ্রাম বিষপান করে উখিয়া হাসপাতালে দিনমজুর মমতাজ : অ্যাম্বুলেন্স দিল না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জসিম উদ্দিন হেলাল কে ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে : দোয়া কামনা পরিবারের ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় অফিসারের নিয়োগকৃত পশ্চিম গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচন কমিটি বাতিল বাঁকখালী নদীকে সংকটাপন্ন ঘোষণা, দখলদার উচ্ছেদে হাইকোর্টের পুর্ণাঙ্গ রায় চট্রগ্রামে পুলিশের উপর হামলা: সন্ত্রাসী ‘বিহারী বগা’কে প্রধান করে ২৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা রান্নাঘর রেস্টুরেন্টসহ ৩ প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়া প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি শাহীন,সহ-সভাপতি সেলিম, সম্পাদক ফারুক কলেজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইমতিয়াজের মৃত্যু সীমান্তে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার ১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল

পেকুয়ার সেই মা-মেয়ের মুক্তি

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগের পর থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া সেই মা-মেয়ের মুক্তি মিলেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। এর আগে গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দিয়েছিলেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মা-মেয়েকে থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নানা প্রশ্নও ওঠে। পরবর্তীতে শনিবার সেই মামলাটি বাতিল করে দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ফলে মুক্তি পান ওই মা-মেয়ে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তাদের জামিন দেয়া হয়নি, বরং বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) এবং তার মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জান্নাতকে (২৩) শনিবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দেয়া এক মাসের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে খালাস দেন। পরে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, থানায় পুলিশের মারধরে রেহেনা মোস্তফা রানু ও তার মেয়ে জুবাইদা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পেছনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের পেকুয়া সদরের কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদার জন্মের এক বছরের মাথায় তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি মায়ের কাছেই বড় হন। ২০১৩ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ পাওয়ার জন্য তিনি চাচা ও ফুফুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারা সম্পত্তির ভাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে জুবাইদা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পেকুয়া থানার এসআই বিপ্লবকে।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলার সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই বিপ্লব জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু ঘুষ নেয়ার পরও তিনি তার চাচা ও ফুফুদের প্রভাবে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এ ঘটনায় গত বুধবার থানায় গিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর জুবাইদা ও তার মাকে থানার ভেতরে মারধর করা হয়। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ঘটনায় বক্তব্য নেয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহীদুল আলম এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনে সাড়া দেননি।

সুত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

২ দশকেরও বেশী সময় পর রামুর হাতে শিরোপা

পেকুয়ার সেই মা-মেয়ের মুক্তি

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগের পর থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া সেই মা-মেয়ের মুক্তি মিলেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। এর আগে গত বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দিয়েছিলেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মা-মেয়েকে থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নানা প্রশ্নও ওঠে। পরবর্তীতে শনিবার সেই মামলাটি বাতিল করে দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ফলে মুক্তি পান ওই মা-মেয়ে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তাদের জামিন দেয়া হয়নি, বরং বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) এবং তার মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জান্নাতকে (২৩) শনিবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দেয়া এক মাসের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে খালাস দেন। পরে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, থানায় পুলিশের মারধরে রেহেনা মোস্তফা রানু ও তার মেয়ে জুবাইদা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পেছনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের পেকুয়া সদরের কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদার জন্মের এক বছরের মাথায় তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি মায়ের কাছেই বড় হন। ২০১৩ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ পাওয়ার জন্য তিনি চাচা ও ফুফুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারা সম্পত্তির ভাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে জুবাইদা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পেকুয়া থানার এসআই বিপ্লবকে।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলার সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই বিপ্লব জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু ঘুষ নেয়ার পরও তিনি তার চাচা ও ফুফুদের প্রভাবে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এ ঘটনায় গত বুধবার থানায় গিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর জুবাইদা ও তার মাকে থানার ভেতরে মারধর করা হয়। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ঘটনায় বক্তব্য নেয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহীদুল আলম এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনে সাড়া দেননি।

সুত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর