ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কে হচ্ছেন কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক? চকরিয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন: জড়িতদের আটকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম ফের রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হলেন সরওয়ার আলম আর স্কুলে যাওয়া হবে না ছোট্ট নূরের.. মেরিন ড্রাইভে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত ৬,আশঙ্কাজনক ২ ঘুমধুম সীমান্তে অনুপ্রবেশ, তিন আরকান আর্মি সদস্য আটক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছয় সিটি প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে হবে সিটি নির্বাচন : মির্জা ফখরুল চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মায়ের পর চলে গেল ছেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় সারজিস-হান্নানের নেতৃত্বে এনসিপির কমিটি রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনী – সন্ত্রাসীর গোলাগুলি, নিহত ১ রমজানে মহানবী (সা.)-এর দিনলিপি সিগারেট বা যে কোনো ধোঁয়া গ্রহন করলে রোজা ভাঙ্গবে কি? টেকনাফের সাগরতীরের পাহাড়ে আগুন: ৪ ঘন্টা পর নিয়ন্ত্রণে প্যারাবনে হাত দিলেই খবর আছে : এমপি আলমগীর ফরিদ

কুড়িয়ে আনা বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগিয়ে ইতিহাস গড়লো জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 218

দুর্বৃত্তের হামলায় দুই হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কলেজ শিক্ষার্থী তাসফিন ফেরদৌসকে নতুন জীবন দিল জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর কুড়িয়ে আনা সেই হাত সফলভাবে পুনঃস্থাপন করে দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চিকিৎসকরা।

গত ৯ নভেম্বর গাজীপুরের টঙ্গিতে খেলা শেষে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা তাসফিনের দুই হাত কবজি থেকে কেটে ফেলে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে টঙ্গী হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছতে সময় লেগে যায় ৬ ঘণ্টারও বেশি। ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন এবং নির্ধারিত প্রতিস্থাপন সময়ও অতিক্রান্ত।

তবু হাল ছাড়েননি চিকিৎসকরা। সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম শরীফের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞদের একটি দল টানা চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সাড়ে ২০ ঘণ্টা পর তাসফিনের বিচ্ছিন্ন হাত সফলভাবে জোড়া লাগাতে সক্ষম হন।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ইনস্টিটিউটের ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, এত দীর্ঘ সময় পরও বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের এ সফলতা চিকিৎসা বিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল এবং বাংলাদেশে এই প্রথম।

তাসফিন বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি আমার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হাত আবার ফিরে পাব। ডাক্তারদের আন্তরিক চেষ্টা আর আল্লাহর রহমতে এখন হাত নড়াচড়া করছে। ইনশাআল্লাহ পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আশা করছি।”

তার মা আফরোজা সুমি জানান, হাতটি প্রথমে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে এম্বুলেন্সে ওঠার সময় পাওয়া যায়। “ভেবেছিলাম ছেলে আর বাঁচবে না। আজ তার হাত আগের মতো হয়ে উঠছে—এটা আল্লাহর দয়া আর ডাক্তারদের অসাধারণ সেবার ফল,” বলেন তিনি।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, তারা নিয়মিতই বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন করছেন। কিন্তু সচেতনতার অভাবে রোগীরা অনেক সময় নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আসেন, ফলে জটিলতা বাড়ে। তিনি বলেন, “শরীরের যেকোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসতে হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা দিচ্ছি।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

কুড়িয়ে আনা বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগিয়ে ইতিহাস গড়লো জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

দুর্বৃত্তের হামলায় দুই হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কলেজ শিক্ষার্থী তাসফিন ফেরদৌসকে নতুন জীবন দিল জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর কুড়িয়ে আনা সেই হাত সফলভাবে পুনঃস্থাপন করে দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চিকিৎসকরা।

গত ৯ নভেম্বর গাজীপুরের টঙ্গিতে খেলা শেষে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা তাসফিনের দুই হাত কবজি থেকে কেটে ফেলে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে টঙ্গী হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছতে সময় লেগে যায় ৬ ঘণ্টারও বেশি। ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন এবং নির্ধারিত প্রতিস্থাপন সময়ও অতিক্রান্ত।

তবু হাল ছাড়েননি চিকিৎসকরা। সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম শরীফের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞদের একটি দল টানা চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সাড়ে ২০ ঘণ্টা পর তাসফিনের বিচ্ছিন্ন হাত সফলভাবে জোড়া লাগাতে সক্ষম হন।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ইনস্টিটিউটের ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, এত দীর্ঘ সময় পরও বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের এ সফলতা চিকিৎসা বিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল এবং বাংলাদেশে এই প্রথম।

তাসফিন বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি আমার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হাত আবার ফিরে পাব। ডাক্তারদের আন্তরিক চেষ্টা আর আল্লাহর রহমতে এখন হাত নড়াচড়া করছে। ইনশাআল্লাহ পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আশা করছি।”

তার মা আফরোজা সুমি জানান, হাতটি প্রথমে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে এম্বুলেন্সে ওঠার সময় পাওয়া যায়। “ভেবেছিলাম ছেলে আর বাঁচবে না। আজ তার হাত আগের মতো হয়ে উঠছে—এটা আল্লাহর দয়া আর ডাক্তারদের অসাধারণ সেবার ফল,” বলেন তিনি।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, তারা নিয়মিতই বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন করছেন। কিন্তু সচেতনতার অভাবে রোগীরা অনেক সময় নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আসেন, ফলে জটিলতা বাড়ে। তিনি বলেন, “শরীরের যেকোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসতে হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা দিচ্ছি।”