ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুই বিতর্কিত অভিযান / যেকারণে কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৩ শতাধিক র‍্যাব সদস্য বদলি জরুরি ফ্লাইটে তারেক রহমানের দেশে ‘ফেরার’ গুঞ্জন! ইয়াবা পৌঁছে দিলেই ৩০ হাজার টাকা!বিজিবির হাতে আটক চালক-সিএনজি জব্দ.. ছুটির দিনেই সমাগম , চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে ভীড় কম টেকনাফের গোদারবিলে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবক আটক খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটময় : মির্জা ফখরুল ‘আমাদের দেশে ভিন্নমত প্রকাশ করলে তাকে শত্রু হিসেবে দেখা হয়’ শহরে দেশীয় তৈরি এলজি ও কার্তুজসহ ৩ যুবক গ্রেফতার ক্ষমতায় এলে বিএনপিসহ সবাইকে নিয়েই দেশ পরিচালনা করবো : জামায়াত আমির ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ ভারতের দিকে এগোচ্ছে, বাংলাদেশে যেমন থাকবে আবহাওয়া ‘বাংলাদেশে পাটভিত্তিক উৎপাদনে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী চীন’ প্রত্যর্পণ শুরু হবে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে দিয়ে: প্রেস সচিব ‘যে যুবক বেড়ে উঠেছে আল্লাহর ইবাদতে’ চকরিয়ায় দু’র্ধ’র্ষ ডা কা তি / লুটের শি কা র ৪ সাংবাদিক ও ২ রাজনীতিবিদ মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র-গোলাবারুদসহ কারিগর আটক

সোনাদিয়ায় ঝাউগাছ কেটে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে কটেজ, নীরব বনবিভাগ

মহেশখালীর সোনাদিয়ায় ঝাউ বাগানের গাছ কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে অবৈধ বহুতল কটেজ। সোনাদিয়ায় অবৈধ দখল থেকে ঝাউবন ও প্যারাবন রক্ষার লক্ষ্যে বন বিভাগ নতুনভাবে ‘সোনাদিয়া বন বিট’ চালু করেছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। বিট চালুর পর থেকেই ঝাউবন কেটে বনের জমি দখল করে অনুমোদনহীন কটেজ নির্মাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহল। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, ইতোমধ্যে কিছু কটেজ উচ্ছেদ করা হয়েছে; বাকিগুলোও দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ— বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় তিনতলা বিশিষ্ট কটেজসহ একাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে ভূমিদস্যুরা। তাদের আশঙ্কা, এসব স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ না হলে অচিরেই সোনাদিয়ার ঝাউবন প্রায় উজাড় হয়ে যাবে।

অভিযোগ রয়েছে— বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কুতুবজোম ইউনিয়নের দৈলারপাড়া কেন্দ্রিক কয়েকজন নেতা ও জনপ্রতিনিধি এসব কটেজ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত। অভিযুক্তদের একটি পক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সেন্টমার্টিনে যাতায়াতে সীমাবদ্ধতার কারণে সোনাদিয়ায় পর্যটকের চাপ বেড়েছে। “পর্যটকদের সুবিধা বিবেচনায় বন বিভাগের মৌখিক অনুমতি নিয়েই আমরা কটেজ নির্মাণ শুরু করেছি”— দাবি তাদের।

অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ঝাউবন ও প্যারাবন রক্ষার স্বার্থেই সোনাদিয়া বন বিট চালুর জন্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে বন বিভাগ কোনো সহযোগিতা করছে না; বরং রহস্যজনক নীরবতার কারণে বনের জমি দখল রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খুব শিগগিরই বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পাশাপাশি বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা এ ঘটনায় জড়িত কিনা তাও তদন্ত করা হবে বলে জানায় সূত্রটি।

পরিবেশকর্মী মো. সজীব, জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন বলেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তা সোনাদিয়ার বনকে বেহাল দেখিয়ে ভূমিদস্যুদের সাথে আতাতে গিয়ে অবৈধ সুবিধা নিচ্ছেন। তাদের নীরবতা ও সহযোগিতা ছাড়া নতুন বিট চালুর পরপরই এভাবে কটেজ নির্মাণ সম্ভব নয়। তাদের দাবি, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সোনাদিয়ার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা, সরকার ইতোমধ্যে সোনাদিয়াকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সে অবস্থায় সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করেও এসিএফ সানজিমুন হক ও গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা আয়ুব আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হেদায়েত উল্যাহ্ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সোনাদিয়ায় নতুন বিট চালু হয়েছে। যারা বিটের দায়িত্বে আছেন তাদের কাজ হচ্ছে যাতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না হয়— সে জন্য পাহারা দেওয়া এবং কোনো কারণে যদি কেউ কটেজ নির্মাণের চেষ্টা করে তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা যথাযথভাবে তাদের কাছ থেকে তথ্য পাইনি। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ে এখানে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অবৈধভাবে সরকারের জমি দখল করে এই কটেজ নির্মাণে শুধু মহেশখালী বা কক্সবাজার নয়; দেশের নানা প্রান্তের লোকজনও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থ জোগান দিয়ে এই কটেজ নির্মাণ ও জমি দখলের সাথে জড়িত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুই বিতর্কিত অভিযান / যেকারণে কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৩ শতাধিক র‍্যাব সদস্য বদলি

This will close in 6 seconds

সোনাদিয়ায় ঝাউগাছ কেটে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে কটেজ, নীরব বনবিভাগ

আপডেট সময় : ১২:৩৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

মহেশখালীর সোনাদিয়ায় ঝাউ বাগানের গাছ কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে অবৈধ বহুতল কটেজ। সোনাদিয়ায় অবৈধ দখল থেকে ঝাউবন ও প্যারাবন রক্ষার লক্ষ্যে বন বিভাগ নতুনভাবে ‘সোনাদিয়া বন বিট’ চালু করেছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। বিট চালুর পর থেকেই ঝাউবন কেটে বনের জমি দখল করে অনুমোদনহীন কটেজ নির্মাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহল। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, ইতোমধ্যে কিছু কটেজ উচ্ছেদ করা হয়েছে; বাকিগুলোও দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ— বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় তিনতলা বিশিষ্ট কটেজসহ একাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে ভূমিদস্যুরা। তাদের আশঙ্কা, এসব স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ না হলে অচিরেই সোনাদিয়ার ঝাউবন প্রায় উজাড় হয়ে যাবে।

অভিযোগ রয়েছে— বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কুতুবজোম ইউনিয়নের দৈলারপাড়া কেন্দ্রিক কয়েকজন নেতা ও জনপ্রতিনিধি এসব কটেজ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত। অভিযুক্তদের একটি পক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সেন্টমার্টিনে যাতায়াতে সীমাবদ্ধতার কারণে সোনাদিয়ায় পর্যটকের চাপ বেড়েছে। “পর্যটকদের সুবিধা বিবেচনায় বন বিভাগের মৌখিক অনুমতি নিয়েই আমরা কটেজ নির্মাণ শুরু করেছি”— দাবি তাদের।

অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ঝাউবন ও প্যারাবন রক্ষার স্বার্থেই সোনাদিয়া বন বিট চালুর জন্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে বন বিভাগ কোনো সহযোগিতা করছে না; বরং রহস্যজনক নীরবতার কারণে বনের জমি দখল রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খুব শিগগিরই বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পাশাপাশি বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা এ ঘটনায় জড়িত কিনা তাও তদন্ত করা হবে বলে জানায় সূত্রটি।

পরিবেশকর্মী মো. সজীব, জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন বলেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তা সোনাদিয়ার বনকে বেহাল দেখিয়ে ভূমিদস্যুদের সাথে আতাতে গিয়ে অবৈধ সুবিধা নিচ্ছেন। তাদের নীরবতা ও সহযোগিতা ছাড়া নতুন বিট চালুর পরপরই এভাবে কটেজ নির্মাণ সম্ভব নয়। তাদের দাবি, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সোনাদিয়ার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা, সরকার ইতোমধ্যে সোনাদিয়াকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সে অবস্থায় সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করেও এসিএফ সানজিমুন হক ও গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা আয়ুব আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হেদায়েত উল্যাহ্ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সোনাদিয়ায় নতুন বিট চালু হয়েছে। যারা বিটের দায়িত্বে আছেন তাদের কাজ হচ্ছে যাতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না হয়— সে জন্য পাহারা দেওয়া এবং কোনো কারণে যদি কেউ কটেজ নির্মাণের চেষ্টা করে তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা যথাযথভাবে তাদের কাছ থেকে তথ্য পাইনি। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ে এখানে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অবৈধভাবে সরকারের জমি দখল করে এই কটেজ নির্মাণে শুধু মহেশখালী বা কক্সবাজার নয়; দেশের নানা প্রান্তের লোকজনও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থ জোগান দিয়ে এই কটেজ নির্মাণ ও জমি দখলের সাথে জড়িত।