ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার রামু উপজেলা বিআরডিবির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল বশর বাবু  জেদ্দা থেকে মদিনার পথে দুর্ঘটনা, সড়কে নিভে গেল লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, ২ লাখ পিস উদ্ধার ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ২৪ ঘণ্টায় তিন মরদেহ, দুই ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কক্সবাজারে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ কবি অমিত চৌধুরী পরলোকে : রাতে শেষকৃত্য কক্সবাজার মহাশশ্মানে বাংলাদেশকে আকাশ ব্যবহার করতে দিল না পাকিস্তান

হরমুজ প্রণালি থেকে যেভাবে বের হয়ে এলো বাংলার জয়যাত্রা

ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় চার মাস আটকে আটকে থাকার পর অবশেষে ৩১ জন নাবিক নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা। বাংলাদেশের সময় রোববার ভোর রাত তিনটার কিছু পরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন বা বিএসসি’র জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিলেও শিগগিরই দেশে ফিরছে না বলেও জানিয়েছে মালিকানা প্রতিষ্ঠান বিএসসি।

জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন সমুদ্রে আটকা থাকার কারণে জাহাজের তলদেশে শ্যাওলা জমা পড়েছে। এছাড়াও ফুজাইরাহ থেকে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা হবে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২৬শে জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি কয়েক দফায় চেষ্টা করেছে কিন্তু হরমুজ প্রণালি থেকে বের হতে পারেনি। বরং, এরপর থেকে জাহাজটি ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায়।

জাহাজটিতে নাবিক-ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু রয়েছেন। তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর চোখের সামনে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা, কখনো বিধ্বস্ত মিসাইলের ভাঙা অংশ এসে আশপাশের কোনো জাহাজে পড়তেও দেখছেন তারা।

অনেকটা বন্দিদশা থেকে সোমবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার বিষয়টিকে একটি দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রার অবসান হিসেবে দেখছেন জাহাজটিতে থাকা নাবিকেরা।

জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “আমাদের বন্দিদশা শেষ হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই একটি মৃত্যুকূপের ভেতর থেকে বের হয়ে এসেছি আমরা”।

এদিকে, বাংলার জয়যাত্রার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার ঘটনাকে বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন করছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সূত্র: BBC বাংলা

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র

হরমুজ প্রণালি থেকে যেভাবে বের হয়ে এলো বাংলার জয়যাত্রা

আপডেট সময় : ১০:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় চার মাস আটকে আটকে থাকার পর অবশেষে ৩১ জন নাবিক নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা। বাংলাদেশের সময় রোববার ভোর রাত তিনটার কিছু পরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন বা বিএসসি’র জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিলেও শিগগিরই দেশে ফিরছে না বলেও জানিয়েছে মালিকানা প্রতিষ্ঠান বিএসসি।

জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন সমুদ্রে আটকা থাকার কারণে জাহাজের তলদেশে শ্যাওলা জমা পড়েছে। এছাড়াও ফুজাইরাহ থেকে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা হবে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২৬শে জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি কয়েক দফায় চেষ্টা করেছে কিন্তু হরমুজ প্রণালি থেকে বের হতে পারেনি। বরং, এরপর থেকে জাহাজটি ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায়।

জাহাজটিতে নাবিক-ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু রয়েছেন। তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর চোখের সামনে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা, কখনো বিধ্বস্ত মিসাইলের ভাঙা অংশ এসে আশপাশের কোনো জাহাজে পড়তেও দেখছেন তারা।

অনেকটা বন্দিদশা থেকে সোমবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার বিষয়টিকে একটি দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রার অবসান হিসেবে দেখছেন জাহাজটিতে থাকা নাবিকেরা।

জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “আমাদের বন্দিদশা শেষ হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই একটি মৃত্যুকূপের ভেতর থেকে বের হয়ে এসেছি আমরা”।

এদিকে, বাংলার জয়যাত্রার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার ঘটনাকে বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন করছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সূত্র: BBC বাংলা