ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বড় বাজারে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা,ফেনসিডিলসহ কয়েক প্রকার মাদক:নেপথ্যে “কিং”! কক্সবাজারে হারানো আইফোনসহ উদ্ধার করা ৫০ টি মোবাইল মালিকের কাছে হস্তান্তর বিজিবি-আরএসও গোলাগুলি, অস্ত্র-ইয়াবা উদ্ধার শুক্রবার কক্সবাজারে আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যাবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কক্সবাজারে সামাজিক সম্প্রীতি ও দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবহার বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজারে নির্মাণাধীন কালভার্টে মাটি ধসে নিহত ২ শ্রমিক দূষিত খাবারে বিশ্বজুড়ে বছরে প্রাণহানি ১৫ লাখ, সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা পেকুয়ায় বন্দুক, গুলি-কার্তুজসহ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার ঈদুল আজহার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১ জন ২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের স্মৃতির খোঁজে কক্সবাজারে জাপানি প্রতিনিধি দল কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আইভী কক্সবাজার রেল স্টেশনের সিকিউরিটি রাব্বানীর বিরুদ্ধে টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ পালংখালী সীমান্তে আরএসওর গুলি, ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার ভাবীর ঘাড়ে দা’র কোপ, দেবর ও শাশুড়ি আটক মাঝরাতে গুলির শব্দে কেঁপে উঠল হোয়াইক্যং, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটালেন বাসিন্দারা

রামুর ২২৫ বছরের আকাশছোঁয়া গাছটি ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা: রক্ষার দাবী স্থানীয়দের

আকাশছোঁয়া বিশাল গজারিগাছটির বয়স প্রায় ২২৫ বছর। উচ্চতা ৯২ ফুট। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের দুর্গম করইল্যামুরা পাহাড়ের গজারিগাছটি এলাকার মানুষের কাছে ‘আকাশ’ নামে পরিচিত। এ প্রাচীন মাতৃবৃক্ষটি ঘিরে পর্যটন স্পষ্ট গড়ে উঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা গোলাম কাদের (৭৫) বলেন, ‘জন্মের পর থেকে গজারিগাছটি দেখে আসছি। আগে গাছটির আশপাশে আরও কয়েক শ গর্জনগাছ ছিল। সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখন এ গাছের দিকেও নজর পড়েছে দখলদারদের। বন বিভাগ কিংবা প্রশাসনের উচিত, দ্রুত আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শতবর্ষী গজারিগাছটিকে রক্ষা করা।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, গজারিগাছটির গোড়ার দিকে বেড় (প্রস্থ) ২৮ ফুট। গাছটি এখনো ফল দিচ্ছে। বীজ থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন চারা। গাছের নিচে পাথরের একটি ফলক লাগানো রয়েছে। এতে লেখা, ‘আমায় বাঁচতে দিন। লোভাতুর মানুষ দেখলেই ভয়ে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। কুঠারাঘাতে, করাত দিয়ে কিংবা বিষ প্রয়োগে আমার অস্তিত্ব বিপন্ন করবেন না।’ বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০০৬ সালে ফলকটি স্থাপন করে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। দর্শনার্থীদের বসার জন্য গাছের ছায়ায় পাথরের গোলাকৃতি বেঞ্চ তৈরি করা হয়।

এলাকাবাসী বলেন, ১২ বছর আগেও এই করইল্যামুরা এলাকায় কয়েক হাজার গজারি ও গর্জনগাছ ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র গাছগুলো কাটে। তারা এখন শতবর্ষী গজারিগাছ আকাশকেও হত্যার চক্রান্ত করছে। আগে প্রতিদিন পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন গাছটি দেখতে যেতেন। গাছের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। এখন কেউ যাচ্ছেন না। গাছটি রক্ষা পেলে এলাকায় পর্যটক আসবে। তখন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হবে। ফলে দুর্গম ঈদগড় সড়কে গণডাকাতি, লুটপাট ও অপহরণ বন্ধ হবে। গাছটি সংরক্ষণের দাবী স্থানীয়দের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বড় বাজারে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা,ফেনসিডিলসহ কয়েক প্রকার মাদক:নেপথ্যে “কিং”!

রামুর ২২৫ বছরের আকাশছোঁয়া গাছটি ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা: রক্ষার দাবী স্থানীয়দের

আপডেট সময় : ০৭:১৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

আকাশছোঁয়া বিশাল গজারিগাছটির বয়স প্রায় ২২৫ বছর। উচ্চতা ৯২ ফুট। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের দুর্গম করইল্যামুরা পাহাড়ের গজারিগাছটি এলাকার মানুষের কাছে ‘আকাশ’ নামে পরিচিত। এ প্রাচীন মাতৃবৃক্ষটি ঘিরে পর্যটন স্পষ্ট গড়ে উঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা গোলাম কাদের (৭৫) বলেন, ‘জন্মের পর থেকে গজারিগাছটি দেখে আসছি। আগে গাছটির আশপাশে আরও কয়েক শ গর্জনগাছ ছিল। সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখন এ গাছের দিকেও নজর পড়েছে দখলদারদের। বন বিভাগ কিংবা প্রশাসনের উচিত, দ্রুত আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শতবর্ষী গজারিগাছটিকে রক্ষা করা।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, গজারিগাছটির গোড়ার দিকে বেড় (প্রস্থ) ২৮ ফুট। গাছটি এখনো ফল দিচ্ছে। বীজ থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন চারা। গাছের নিচে পাথরের একটি ফলক লাগানো রয়েছে। এতে লেখা, ‘আমায় বাঁচতে দিন। লোভাতুর মানুষ দেখলেই ভয়ে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। কুঠারাঘাতে, করাত দিয়ে কিংবা বিষ প্রয়োগে আমার অস্তিত্ব বিপন্ন করবেন না।’ বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০০৬ সালে ফলকটি স্থাপন করে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। দর্শনার্থীদের বসার জন্য গাছের ছায়ায় পাথরের গোলাকৃতি বেঞ্চ তৈরি করা হয়।

এলাকাবাসী বলেন, ১২ বছর আগেও এই করইল্যামুরা এলাকায় কয়েক হাজার গজারি ও গর্জনগাছ ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র গাছগুলো কাটে। তারা এখন শতবর্ষী গজারিগাছ আকাশকেও হত্যার চক্রান্ত করছে। আগে প্রতিদিন পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন গাছটি দেখতে যেতেন। গাছের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। এখন কেউ যাচ্ছেন না। গাছটি রক্ষা পেলে এলাকায় পর্যটক আসবে। তখন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হবে। ফলে দুর্গম ঈদগড় সড়কে গণডাকাতি, লুটপাট ও অপহরণ বন্ধ হবে। গাছটি সংরক্ষণের দাবী স্থানীয়দের।