ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানির বোতল ভেবে এসিড পান, রামুতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু পেকুয়ায় মাছের প্রজেক্ট দখলের চেষ্টা : অস্ত্রসহ দুজন আটক প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আগেই দ্বিতীয় বিয়ে, সরকারি অফিসকে আবাস বানানোর অভিযোগ শাহাদাতের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তাহসান- রোহিঙ্গা তরুণদের পাশে থাকা ও বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান কক্সবাজারে এসে ১০ পদের রাখাইন-বার্মিজ খাবার খেলেন তাহসান খান কক্সবাজারে বিজিবি’র অভিযানে ২ জন আটক, ৭২ হাজার ইয়াবা ও ১৫ লিটার মদ উদ্ধার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জার্মানির সমর্থক: জানালেন ছেলে বিসিবি পরিচালক সাঈদ ইব্রাহীম ​ উন্মাদনারও বাস্তবতা আছে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোর চায় চীন হেরোইন ম্যানেজ হয়ে আটা-ময়দা হয়ে যায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালী, মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক হিন্দুরা মন্দিরে মূর্তি বানাবে, মুসলমানরা মসজিদ বানাবে—সমস্যা কোথায়?’ সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান কারা উঠল শেষ বত্রিশে, বাদ পড়ল কারা

রামুর ২২৫ বছরের আকাশছোঁয়া গাছটি ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা: রক্ষার দাবী স্থানীয়দের

আকাশছোঁয়া বিশাল গজারিগাছটির বয়স প্রায় ২২৫ বছর। উচ্চতা ৯২ ফুট। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের দুর্গম করইল্যামুরা পাহাড়ের গজারিগাছটি এলাকার মানুষের কাছে ‘আকাশ’ নামে পরিচিত। এ প্রাচীন মাতৃবৃক্ষটি ঘিরে পর্যটন স্পষ্ট গড়ে উঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা গোলাম কাদের (৭৫) বলেন, ‘জন্মের পর থেকে গজারিগাছটি দেখে আসছি। আগে গাছটির আশপাশে আরও কয়েক শ গর্জনগাছ ছিল। সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখন এ গাছের দিকেও নজর পড়েছে দখলদারদের। বন বিভাগ কিংবা প্রশাসনের উচিত, দ্রুত আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শতবর্ষী গজারিগাছটিকে রক্ষা করা।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, গজারিগাছটির গোড়ার দিকে বেড় (প্রস্থ) ২৮ ফুট। গাছটি এখনো ফল দিচ্ছে। বীজ থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন চারা। গাছের নিচে পাথরের একটি ফলক লাগানো রয়েছে। এতে লেখা, ‘আমায় বাঁচতে দিন। লোভাতুর মানুষ দেখলেই ভয়ে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। কুঠারাঘাতে, করাত দিয়ে কিংবা বিষ প্রয়োগে আমার অস্তিত্ব বিপন্ন করবেন না।’ বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০০৬ সালে ফলকটি স্থাপন করে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। দর্শনার্থীদের বসার জন্য গাছের ছায়ায় পাথরের গোলাকৃতি বেঞ্চ তৈরি করা হয়।

এলাকাবাসী বলেন, ১২ বছর আগেও এই করইল্যামুরা এলাকায় কয়েক হাজার গজারি ও গর্জনগাছ ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র গাছগুলো কাটে। তারা এখন শতবর্ষী গজারিগাছ আকাশকেও হত্যার চক্রান্ত করছে। আগে প্রতিদিন পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন গাছটি দেখতে যেতেন। গাছের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। এখন কেউ যাচ্ছেন না। গাছটি রক্ষা পেলে এলাকায় পর্যটক আসবে। তখন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হবে। ফলে দুর্গম ঈদগড় সড়কে গণডাকাতি, লুটপাট ও অপহরণ বন্ধ হবে। গাছটি সংরক্ষণের দাবী স্থানীয়দের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানির বোতল ভেবে এসিড পান, রামুতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

রামুর ২২৫ বছরের আকাশছোঁয়া গাছটি ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা: রক্ষার দাবী স্থানীয়দের

আপডেট সময় : ০৭:১৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

আকাশছোঁয়া বিশাল গজারিগাছটির বয়স প্রায় ২২৫ বছর। উচ্চতা ৯২ ফুট। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের দুর্গম করইল্যামুরা পাহাড়ের গজারিগাছটি এলাকার মানুষের কাছে ‘আকাশ’ নামে পরিচিত। এ প্রাচীন মাতৃবৃক্ষটি ঘিরে পর্যটন স্পষ্ট গড়ে উঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা গোলাম কাদের (৭৫) বলেন, ‘জন্মের পর থেকে গজারিগাছটি দেখে আসছি। আগে গাছটির আশপাশে আরও কয়েক শ গর্জনগাছ ছিল। সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখন এ গাছের দিকেও নজর পড়েছে দখলদারদের। বন বিভাগ কিংবা প্রশাসনের উচিত, দ্রুত আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শতবর্ষী গজারিগাছটিকে রক্ষা করা।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, গজারিগাছটির গোড়ার দিকে বেড় (প্রস্থ) ২৮ ফুট। গাছটি এখনো ফল দিচ্ছে। বীজ থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন চারা। গাছের নিচে পাথরের একটি ফলক লাগানো রয়েছে। এতে লেখা, ‘আমায় বাঁচতে দিন। লোভাতুর মানুষ দেখলেই ভয়ে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। কুঠারাঘাতে, করাত দিয়ে কিংবা বিষ প্রয়োগে আমার অস্তিত্ব বিপন্ন করবেন না।’ বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০০৬ সালে ফলকটি স্থাপন করে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। দর্শনার্থীদের বসার জন্য গাছের ছায়ায় পাথরের গোলাকৃতি বেঞ্চ তৈরি করা হয়।

এলাকাবাসী বলেন, ১২ বছর আগেও এই করইল্যামুরা এলাকায় কয়েক হাজার গজারি ও গর্জনগাছ ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র গাছগুলো কাটে। তারা এখন শতবর্ষী গজারিগাছ আকাশকেও হত্যার চক্রান্ত করছে। আগে প্রতিদিন পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন গাছটি দেখতে যেতেন। গাছের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। এখন কেউ যাচ্ছেন না। গাছটি রক্ষা পেলে এলাকায় পর্যটক আসবে। তখন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হবে। ফলে দুর্গম ঈদগড় সড়কে গণডাকাতি, লুটপাট ও অপহরণ বন্ধ হবে। গাছটি সংরক্ষণের দাবী স্থানীয়দের।