ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফ সদর বিভক্তি: ‘উপকূলীয় ইউনিয়ন’ নাম প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ কক্সবাজারে এসএসসির চেয়ে দাখিল-ভোকেশনালে পাসের হার বেশি কক্সবাজারে ডাবল মার্ডারের আসামি সাদ্দাম গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত উদ্বোধনের অপেক্ষায় পেকুয়ার নোয়াখালী সেতু, স্বস্তিতে কয়েক হাজার মানুষ রামুতে মায়ের হাতে ২ মাসের শিশু জবাই : মা আটক আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা : হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান ছাড়া ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়: নাহিদ ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস সোনার ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছাড়াল আগামী ১২ আগস্ট বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব সমুদ্র শহরের ‘চন্দন ডাক্তার’কে হারানোর এক বছর, আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এসএসসিতে কক্সবাজার জেলায় প্রথম নাবিহা নওরিন কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে বদরখালী কলোনীজেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে থেকে গোল্ডেন A+ পেল সাদিয়া আফরিন কনক

রামুর ২২৫ বছরের আকাশছোঁয়া গাছটি ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা: রক্ষার দাবী স্থানীয়দের

আকাশছোঁয়া বিশাল গজারিগাছটির বয়স প্রায় ২২৫ বছর। উচ্চতা ৯২ ফুট। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের দুর্গম করইল্যামুরা পাহাড়ের গজারিগাছটি এলাকার মানুষের কাছে ‘আকাশ’ নামে পরিচিত। এ প্রাচীন মাতৃবৃক্ষটি ঘিরে পর্যটন স্পষ্ট গড়ে উঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা গোলাম কাদের (৭৫) বলেন, ‘জন্মের পর থেকে গজারিগাছটি দেখে আসছি। আগে গাছটির আশপাশে আরও কয়েক শ গর্জনগাছ ছিল। সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখন এ গাছের দিকেও নজর পড়েছে দখলদারদের। বন বিভাগ কিংবা প্রশাসনের উচিত, দ্রুত আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শতবর্ষী গজারিগাছটিকে রক্ষা করা।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, গজারিগাছটির গোড়ার দিকে বেড় (প্রস্থ) ২৮ ফুট। গাছটি এখনো ফল দিচ্ছে। বীজ থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন চারা। গাছের নিচে পাথরের একটি ফলক লাগানো রয়েছে। এতে লেখা, ‘আমায় বাঁচতে দিন। লোভাতুর মানুষ দেখলেই ভয়ে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। কুঠারাঘাতে, করাত দিয়ে কিংবা বিষ প্রয়োগে আমার অস্তিত্ব বিপন্ন করবেন না।’ বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০০৬ সালে ফলকটি স্থাপন করে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। দর্শনার্থীদের বসার জন্য গাছের ছায়ায় পাথরের গোলাকৃতি বেঞ্চ তৈরি করা হয়।

এলাকাবাসী বলেন, ১২ বছর আগেও এই করইল্যামুরা এলাকায় কয়েক হাজার গজারি ও গর্জনগাছ ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র গাছগুলো কাটে। তারা এখন শতবর্ষী গজারিগাছ আকাশকেও হত্যার চক্রান্ত করছে। আগে প্রতিদিন পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন গাছটি দেখতে যেতেন। গাছের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। এখন কেউ যাচ্ছেন না। গাছটি রক্ষা পেলে এলাকায় পর্যটক আসবে। তখন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হবে। ফলে দুর্গম ঈদগড় সড়কে গণডাকাতি, লুটপাট ও অপহরণ বন্ধ হবে। গাছটি সংরক্ষণের দাবী স্থানীয়দের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফ সদর বিভক্তি: ‘উপকূলীয় ইউনিয়ন’ নাম প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ

রামুর ২২৫ বছরের আকাশছোঁয়া গাছটি ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা: রক্ষার দাবী স্থানীয়দের

আপডেট সময় : ০৭:১৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

আকাশছোঁয়া বিশাল গজারিগাছটির বয়স প্রায় ২২৫ বছর। উচ্চতা ৯২ ফুট। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের দুর্গম করইল্যামুরা পাহাড়ের গজারিগাছটি এলাকার মানুষের কাছে ‘আকাশ’ নামে পরিচিত। এ প্রাচীন মাতৃবৃক্ষটি ঘিরে পর্যটন স্পষ্ট গড়ে উঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা গোলাম কাদের (৭৫) বলেন, ‘জন্মের পর থেকে গজারিগাছটি দেখে আসছি। আগে গাছটির আশপাশে আরও কয়েক শ গর্জনগাছ ছিল। সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখন এ গাছের দিকেও নজর পড়েছে দখলদারদের। বন বিভাগ কিংবা প্রশাসনের উচিত, দ্রুত আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শতবর্ষী গজারিগাছটিকে রক্ষা করা।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, গজারিগাছটির গোড়ার দিকে বেড় (প্রস্থ) ২৮ ফুট। গাছটি এখনো ফল দিচ্ছে। বীজ থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন চারা। গাছের নিচে পাথরের একটি ফলক লাগানো রয়েছে। এতে লেখা, ‘আমায় বাঁচতে দিন। লোভাতুর মানুষ দেখলেই ভয়ে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। কুঠারাঘাতে, করাত দিয়ে কিংবা বিষ প্রয়োগে আমার অস্তিত্ব বিপন্ন করবেন না।’ বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০০৬ সালে ফলকটি স্থাপন করে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। দর্শনার্থীদের বসার জন্য গাছের ছায়ায় পাথরের গোলাকৃতি বেঞ্চ তৈরি করা হয়।

এলাকাবাসী বলেন, ১২ বছর আগেও এই করইল্যামুরা এলাকায় কয়েক হাজার গজারি ও গর্জনগাছ ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র গাছগুলো কাটে। তারা এখন শতবর্ষী গজারিগাছ আকাশকেও হত্যার চক্রান্ত করছে। আগে প্রতিদিন পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন গাছটি দেখতে যেতেন। গাছের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। এখন কেউ যাচ্ছেন না। গাছটি রক্ষা পেলে এলাকায় পর্যটক আসবে। তখন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হবে। ফলে দুর্গম ঈদগড় সড়কে গণডাকাতি, লুটপাট ও অপহরণ বন্ধ হবে। গাছটি সংরক্ষণের দাবী স্থানীয়দের।