ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কোরবানি পশুর চামড়ার দাম বাড়ল এবার কক্সবাজার সরকারি কলেজে ইউনিফর্ম পরে টিকটক-রিলস নিষিদ্ধ, নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তির সতর্কতা বাবার নামে হোটেল ‘সায়মন’ নামকরণ করেছিলেন ইঞ্জি. মোশাররফ ঢাকায় অপহৃত স্কুলছাত্রী কক্সবাজারে উদ্ধার, গ্রেফতার ২ ১ মাসের শিশু হুমাইরাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন… পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক অধ্যায় এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১০, আহত ১২৬৮ : যাত্রী কল্যাণ সমিতি তরুণদের দক্ষ করে তুললে বিশ্বে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: শিক্ষামন্ত্রী স্বাস্থ্যকর খাবার ওটস সবার জন্য ‘উপকারী’ নয়, কারণ জানুন হামের টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই দুর্ঘটনা কমাতে চুনতিতে ৯০০ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ শুরু মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আরও ২ কাঠবোঝাই ট্রলার, ফিরছে সীমান্ত বাণিজ্যের প্রাণচাঞ্চল্য চকরিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ সদস্য সচিব হাসান হোসাইন আলী সানি আর নেই: কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত, সদর হাসপাতালে মৃত্যু 

রামুর ২২৫ বছরের আকাশছোঁয়া গাছটি ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা: রক্ষার দাবী স্থানীয়দের

আকাশছোঁয়া বিশাল গজারিগাছটির বয়স প্রায় ২২৫ বছর। উচ্চতা ৯২ ফুট। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের দুর্গম করইল্যামুরা পাহাড়ের গজারিগাছটি এলাকার মানুষের কাছে ‘আকাশ’ নামে পরিচিত। এ প্রাচীন মাতৃবৃক্ষটি ঘিরে পর্যটন স্পষ্ট গড়ে উঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা গোলাম কাদের (৭৫) বলেন, ‘জন্মের পর থেকে গজারিগাছটি দেখে আসছি। আগে গাছটির আশপাশে আরও কয়েক শ গর্জনগাছ ছিল। সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখন এ গাছের দিকেও নজর পড়েছে দখলদারদের। বন বিভাগ কিংবা প্রশাসনের উচিত, দ্রুত আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শতবর্ষী গজারিগাছটিকে রক্ষা করা।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, গজারিগাছটির গোড়ার দিকে বেড় (প্রস্থ) ২৮ ফুট। গাছটি এখনো ফল দিচ্ছে। বীজ থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন চারা। গাছের নিচে পাথরের একটি ফলক লাগানো রয়েছে। এতে লেখা, ‘আমায় বাঁচতে দিন। লোভাতুর মানুষ দেখলেই ভয়ে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। কুঠারাঘাতে, করাত দিয়ে কিংবা বিষ প্রয়োগে আমার অস্তিত্ব বিপন্ন করবেন না।’ বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০০৬ সালে ফলকটি স্থাপন করে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। দর্শনার্থীদের বসার জন্য গাছের ছায়ায় পাথরের গোলাকৃতি বেঞ্চ তৈরি করা হয়।

এলাকাবাসী বলেন, ১২ বছর আগেও এই করইল্যামুরা এলাকায় কয়েক হাজার গজারি ও গর্জনগাছ ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র গাছগুলো কাটে। তারা এখন শতবর্ষী গজারিগাছ আকাশকেও হত্যার চক্রান্ত করছে। আগে প্রতিদিন পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন গাছটি দেখতে যেতেন। গাছের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। এখন কেউ যাচ্ছেন না। গাছটি রক্ষা পেলে এলাকায় পর্যটক আসবে। তখন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হবে। ফলে দুর্গম ঈদগড় সড়কে গণডাকাতি, লুটপাট ও অপহরণ বন্ধ হবে। গাছটি সংরক্ষণের দাবী স্থানীয়দের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানি পশুর চামড়ার দাম বাড়ল এবার

রামুর ২২৫ বছরের আকাশছোঁয়া গাছটি ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা: রক্ষার দাবী স্থানীয়দের

আপডেট সময় : ০৭:১৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

আকাশছোঁয়া বিশাল গজারিগাছটির বয়স প্রায় ২২৫ বছর। উচ্চতা ৯২ ফুট। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের দুর্গম করইল্যামুরা পাহাড়ের গজারিগাছটি এলাকার মানুষের কাছে ‘আকাশ’ নামে পরিচিত। এ প্রাচীন মাতৃবৃক্ষটি ঘিরে পর্যটন স্পষ্ট গড়ে উঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা গোলাম কাদের (৭৫) বলেন, ‘জন্মের পর থেকে গজারিগাছটি দেখে আসছি। আগে গাছটির আশপাশে আরও কয়েক শ গর্জনগাছ ছিল। সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এখন এ গাছের দিকেও নজর পড়েছে দখলদারদের। বন বিভাগ কিংবা প্রশাসনের উচিত, দ্রুত আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শতবর্ষী গজারিগাছটিকে রক্ষা করা।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, গজারিগাছটির গোড়ার দিকে বেড় (প্রস্থ) ২৮ ফুট। গাছটি এখনো ফল দিচ্ছে। বীজ থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন চারা। গাছের নিচে পাথরের একটি ফলক লাগানো রয়েছে। এতে লেখা, ‘আমায় বাঁচতে দিন। লোভাতুর মানুষ দেখলেই ভয়ে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। কুঠারাঘাতে, করাত দিয়ে কিংবা বিষ প্রয়োগে আমার অস্তিত্ব বিপন্ন করবেন না।’ বন বিভাগের সহযোগিতায় ২০০৬ সালে ফলকটি স্থাপন করে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। দর্শনার্থীদের বসার জন্য গাছের ছায়ায় পাথরের গোলাকৃতি বেঞ্চ তৈরি করা হয়।

এলাকাবাসী বলেন, ১২ বছর আগেও এই করইল্যামুরা এলাকায় কয়েক হাজার গজারি ও গর্জনগাছ ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র গাছগুলো কাটে। তারা এখন শতবর্ষী গজারিগাছ আকাশকেও হত্যার চক্রান্ত করছে। আগে প্রতিদিন পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন গাছটি দেখতে যেতেন। গাছের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। এখন কেউ যাচ্ছেন না। গাছটি রক্ষা পেলে এলাকায় পর্যটক আসবে। তখন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হবে। ফলে দুর্গম ঈদগড় সড়কে গণডাকাতি, লুটপাট ও অপহরণ বন্ধ হবে। গাছটি সংরক্ষণের দাবী স্থানীয়দের।