ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জননেতা নুরুল আবছারে চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর আহবান বাড়লো তেলের দাম: ডিজেল ১১৫, পেট্রোল ১৩৫ ও অকটেন ১৪০ টাকা টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ‘মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট’ কচ্ছপিয়া ও নোয়াখালী পাড়া: চলছে মানবপাচার ও অপহরণ উখিয়ায় গলায় ফাঁস লাগানো সেই কিশোরের মৃত্যু জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় দেশের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আগামীর সময়ের কক্সবাজার প্রতিনিধি হলেন সাংবাদিক ইমরান হোসাইন নিজের অস্ত্রের গু’লিতে পুলিশ সদস্য নি’হ’ত কচ্ছপিয়ায় কৃষি কর্মকর্তা জহিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে কৃষক সমাবেশ ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সওয়াল ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান মানবতার দায়: বৈশ্বিক সহায়তা ও আইনগত পদক্ষেপ এখন জরুরি শুরু হলো হজযাত্রা, প্রথম ফ্লাইটে ৪১৯ বাংলাদেশি জেদ্দায়

হাদি হত্যার আসামি ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তারের খবর আসার একদিন বাদে সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রোববার ভারতের সংবাদমাধ্যম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) বিজ্ঞপ্তির বরাতে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে।

প্রায় আড়াই মাস আগে ঢাকার পুলিশ তাদের ভারতে অবস্থানের দাবি করলেও তখন ভারত জোরালোভাবে তা অস্বীকার করেছিল।

দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।”

“সব ঘটনা ‘মব’ নয়”

সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে দেখার প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করেছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

‘মব’ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সঠিক নয়।

তার ভাষায়, “কিছু ঘটনা বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে ঘটে। কাউকে আটক করে নির্যাতন করা হলে সেটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধ- এর আলাদা সংজ্ঞা ও আইনি কাঠামো রয়েছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “রাস্তায় সংগঠিত কোনো গণউত্তেজনা বা প্রকৃত ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

“বাংলাদেশে ‘মব কালচার’ থাকা উচিত নয়।”

এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রকাশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণা করার পরিকল্পনা নেই।

“প্রকাশ্য তালিকা করলে অনেক সময় তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয় বা বিভিন্নভাবে বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আমরা পেশাদারভাবে এই তালিকা তৈরি করব এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “কক্সবাজার আমাদের দেশের গর্ব। এটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে হবে। সৈকতে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সেগুলো জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হবে।”

এজন্য নতুন করে একটি ‘বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের অংশ হিসেবে কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কক্সবাজারের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরে নতুন করে অযান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে লাইসেন্স দেওয়া হবে না এবং একটি লাইসেন্সের অধীনে একাধিক যানবাহন চলতে না পারে সে বিষয়েও নজর দেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বা অচল যানবাহন বাদ পড়ে গেলে সেই সংখ্যা নতুন করে পূরণ করা হবে না, ফলে ধীরে ধীরে মোট যানবাহনের সংখ্যা কমে আসবে বলে জানান তিনি।

দেশজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা কোনো অপরাধীকে আইনের বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

সভায় কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পর্যটন এলাকার ব্যবস্থাপনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বিডিনিউজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জননেতা নুরুল আবছারে চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর আহবান

হাদি হত্যার আসামি ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তারের খবর আসার একদিন বাদে সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রোববার ভারতের সংবাদমাধ্যম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) বিজ্ঞপ্তির বরাতে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে।

প্রায় আড়াই মাস আগে ঢাকার পুলিশ তাদের ভারতে অবস্থানের দাবি করলেও তখন ভারত জোরালোভাবে তা অস্বীকার করেছিল।

দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।”

“সব ঘটনা ‘মব’ নয়”

সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে দেখার প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করেছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

‘মব’ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সঠিক নয়।

তার ভাষায়, “কিছু ঘটনা বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে ঘটে। কাউকে আটক করে নির্যাতন করা হলে সেটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধ- এর আলাদা সংজ্ঞা ও আইনি কাঠামো রয়েছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “রাস্তায় সংগঠিত কোনো গণউত্তেজনা বা প্রকৃত ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

“বাংলাদেশে ‘মব কালচার’ থাকা উচিত নয়।”

এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রকাশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণা করার পরিকল্পনা নেই।

“প্রকাশ্য তালিকা করলে অনেক সময় তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয় বা বিভিন্নভাবে বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আমরা পেশাদারভাবে এই তালিকা তৈরি করব এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “কক্সবাজার আমাদের দেশের গর্ব। এটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে হবে। সৈকতে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সেগুলো জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হবে।”

এজন্য নতুন করে একটি ‘বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের অংশ হিসেবে কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কক্সবাজারের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরে নতুন করে অযান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে লাইসেন্স দেওয়া হবে না এবং একটি লাইসেন্সের অধীনে একাধিক যানবাহন চলতে না পারে সে বিষয়েও নজর দেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বা অচল যানবাহন বাদ পড়ে গেলে সেই সংখ্যা নতুন করে পূরণ করা হবে না, ফলে ধীরে ধীরে মোট যানবাহনের সংখ্যা কমে আসবে বলে জানান তিনি।

দেশজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা কোনো অপরাধীকে আইনের বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

সভায় কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পর্যটন এলাকার ব্যবস্থাপনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বিডিনিউজ