ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার বঙ্গোপসাগর লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত মহেশখালী দলে খেলছে না জাতীয় ও পরিচিত কোনো স্টার প্লেয়ার: অফিশিয়ালদের বিরুদ্ধে সমালোচনা পেকুয়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২ পার্বত্য মন্ত্রী সা চিং প্রু জেরীর সাথে রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত লোহাগাড়ার চরম্বায় বেশি দামে সার বিক্রি, ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা কক্সবাজার পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি’র আত্মপ্রকাশ, সোমবার মানববন্ধন অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের সমীহ জাগানিয়া অর্জন.. জামিনে মুক্তি পেলেন টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ টোল ইজারার কাগজে টেম্পারিংয়ের অভিযোগ, অতিরিক্ত টোল আদায়ে বিপাকে তিন ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা সমিতিপাড়ার সুকান্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি আরাফাত গ্রেফতার কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ : যাত্রী আহত বালিয়াড়ীতে সড়ক নির্মান বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাপার স্মারকলিপি চকরিয়ায় মিষ্টিতে “তেলাপোকা”, নানা অসংগতি : ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি

রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই, এই বাস্তবতা আজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নীতি, অবস্থান, এমনকি ভাষাও সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে বদলে যায়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে তখনই, যখন জনসমক্ষে দেওয়া স্লোগান ও বাস্তব সিদ্ধান্তের মধ্যে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব দেখা যায়।

সম্প্রতি এমপিদের পক্ষ থেকে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি সুবিধার দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জনসেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রতিনিধিদের এই ধরনের সুবিধা চাওয়া অনেকের কাছেই প্রশ্নের জন্ম দেয়, এটি কি প্রয়োজন, নাকি প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যক্তিগত সুবিধা?

অন্যদিকে, “দিল্লি না ঢাকা” এই স্লোগান একটি শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এটি বোঝায়, সিদ্ধান্ত হবে আত্মমর্যাদা ও নীতির প্রশ্নে। কিন্তু বাস্তবতায় আবার দেখা যাচ্ছে, একই সময়েই দিল্লি থেকে ডিজেল নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই জনমনে দ্বিধা তৈরি হয়, স্লোগানটি কি আদর্শের প্রতিফলন, নাকি কেবল রাজনৈতিক কৌশল?

রাজনীতির এই দ্বৈততা নতুন নয়। ক্ষমতার সমীকরণ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং কৌশলগত সম্পর্ক, সবকিছু মিলিয়েই সিদ্ধান্ত গড়ে ওঠে। তাই আজকের প্রতিপক্ষ কাল আলোচনার টেবিলে বসতেই পারে; আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে, বিএনপি ভেঙেও যেতে পারে, এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনও অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু এই পরিবর্তনের ধারায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো, জনগণের প্রতি স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। যদি স্লোগান একরকম বার্তা দেয় আর বাস্তব সিদ্ধান্ত অন্য কিছু বলে, তাহলে সেই ফারাক আস্থাকে ক্ষয় করে।

বাস্তবতা হলো, রাজনীতিতে টিকে থাকাই বড় কথা, অস্তিত্বই মূল। কিন্তু সেই অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়াস যদি নীতির স্বচ্ছতা ও জনআস্থার বিনিময়ে হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেটি কতটা টেকসই, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি

আপডেট সময় : ০৭:২০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই, এই বাস্তবতা আজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নীতি, অবস্থান, এমনকি ভাষাও সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে বদলে যায়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে তখনই, যখন জনসমক্ষে দেওয়া স্লোগান ও বাস্তব সিদ্ধান্তের মধ্যে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব দেখা যায়।

সম্প্রতি এমপিদের পক্ষ থেকে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি সুবিধার দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জনসেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রতিনিধিদের এই ধরনের সুবিধা চাওয়া অনেকের কাছেই প্রশ্নের জন্ম দেয়, এটি কি প্রয়োজন, নাকি প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যক্তিগত সুবিধা?

অন্যদিকে, “দিল্লি না ঢাকা” এই স্লোগান একটি শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এটি বোঝায়, সিদ্ধান্ত হবে আত্মমর্যাদা ও নীতির প্রশ্নে। কিন্তু বাস্তবতায় আবার দেখা যাচ্ছে, একই সময়েই দিল্লি থেকে ডিজেল নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই জনমনে দ্বিধা তৈরি হয়, স্লোগানটি কি আদর্শের প্রতিফলন, নাকি কেবল রাজনৈতিক কৌশল?

রাজনীতির এই দ্বৈততা নতুন নয়। ক্ষমতার সমীকরণ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং কৌশলগত সম্পর্ক, সবকিছু মিলিয়েই সিদ্ধান্ত গড়ে ওঠে। তাই আজকের প্রতিপক্ষ কাল আলোচনার টেবিলে বসতেই পারে; আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে, বিএনপি ভেঙেও যেতে পারে, এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনও অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু এই পরিবর্তনের ধারায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো, জনগণের প্রতি স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। যদি স্লোগান একরকম বার্তা দেয় আর বাস্তব সিদ্ধান্ত অন্য কিছু বলে, তাহলে সেই ফারাক আস্থাকে ক্ষয় করে।

বাস্তবতা হলো, রাজনীতিতে টিকে থাকাই বড় কথা, অস্তিত্বই মূল। কিন্তু সেই অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়াস যদি নীতির স্বচ্ছতা ও জনআস্থার বিনিময়ে হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেটি কতটা টেকসই, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।