ঢাকা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদের পাশে জ্বলজ্বলে শুক্র, কক্সবাজারের আকাশে মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনে শৃংখলা ফেরাতে ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত : যে কোনো ক্রীড়া আয়োজনে নিতে হবে অনুমতি পা হারানো রায়হানের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দেওয়া হবে ভাতা-ট্রাইসাইকেল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান : হত্যা ও চুরির আসামিসহ গ্রেপ্তার ১১ উখিয়ায় ডাম্পারের ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত, গাড়ি ও চালক আটক হোয়াইক্যংয়ে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাবুল মিয়া গ্রেফতার টেকনাফের সীমান্ত এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার গোলরক্ষক সাঈদীর উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে পেকুয়ায় মানববন্ধন কক্সবাজারে ‘ইউবিইএসটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু: উখিয়ার সেই আলোচিত ঘটনায় তিন আসামি কারাগারে পালংখালীতে মাদক কারবারী রুবেলের গুলিবর্ষণ টেকনাফে অপহৃত কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো পাচারকারিদের ২০ আস্তানা সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলো আপিল বিভাগ তীব্র গরমে দেশজুড়ে লোডশেডিং, সংকট আরও বাড়ার শঙ্কা বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ৪০ ঘণ্টা পর হস্তান্তর

স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি

রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই, এই বাস্তবতা আজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নীতি, অবস্থান, এমনকি ভাষাও সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে বদলে যায়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে তখনই, যখন জনসমক্ষে দেওয়া স্লোগান ও বাস্তব সিদ্ধান্তের মধ্যে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব দেখা যায়।

সম্প্রতি এমপিদের পক্ষ থেকে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি সুবিধার দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জনসেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রতিনিধিদের এই ধরনের সুবিধা চাওয়া অনেকের কাছেই প্রশ্নের জন্ম দেয়, এটি কি প্রয়োজন, নাকি প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যক্তিগত সুবিধা?

অন্যদিকে, “দিল্লি না ঢাকা” এই স্লোগান একটি শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এটি বোঝায়, সিদ্ধান্ত হবে আত্মমর্যাদা ও নীতির প্রশ্নে। কিন্তু বাস্তবতায় আবার দেখা যাচ্ছে, একই সময়েই দিল্লি থেকে ডিজেল নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই জনমনে দ্বিধা তৈরি হয়, স্লোগানটি কি আদর্শের প্রতিফলন, নাকি কেবল রাজনৈতিক কৌশল?

রাজনীতির এই দ্বৈততা নতুন নয়। ক্ষমতার সমীকরণ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং কৌশলগত সম্পর্ক, সবকিছু মিলিয়েই সিদ্ধান্ত গড়ে ওঠে। তাই আজকের প্রতিপক্ষ কাল আলোচনার টেবিলে বসতেই পারে; আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে, বিএনপি ভেঙেও যেতে পারে, এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনও অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু এই পরিবর্তনের ধারায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো, জনগণের প্রতি স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। যদি স্লোগান একরকম বার্তা দেয় আর বাস্তব সিদ্ধান্ত অন্য কিছু বলে, তাহলে সেই ফারাক আস্থাকে ক্ষয় করে।

বাস্তবতা হলো, রাজনীতিতে টিকে থাকাই বড় কথা, অস্তিত্বই মূল। কিন্তু সেই অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়াস যদি নীতির স্বচ্ছতা ও জনআস্থার বিনিময়ে হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেটি কতটা টেকসই, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদের পাশে জ্বলজ্বলে শুক্র, কক্সবাজারের আকাশে মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য

স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি

আপডেট সময় : ০৭:২০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই, এই বাস্তবতা আজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নীতি, অবস্থান, এমনকি ভাষাও সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে বদলে যায়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে তখনই, যখন জনসমক্ষে দেওয়া স্লোগান ও বাস্তব সিদ্ধান্তের মধ্যে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব দেখা যায়।

সম্প্রতি এমপিদের পক্ষ থেকে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি সুবিধার দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জনসেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রতিনিধিদের এই ধরনের সুবিধা চাওয়া অনেকের কাছেই প্রশ্নের জন্ম দেয়, এটি কি প্রয়োজন, নাকি প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যক্তিগত সুবিধা?

অন্যদিকে, “দিল্লি না ঢাকা” এই স্লোগান একটি শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এটি বোঝায়, সিদ্ধান্ত হবে আত্মমর্যাদা ও নীতির প্রশ্নে। কিন্তু বাস্তবতায় আবার দেখা যাচ্ছে, একই সময়েই দিল্লি থেকে ডিজেল নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই জনমনে দ্বিধা তৈরি হয়, স্লোগানটি কি আদর্শের প্রতিফলন, নাকি কেবল রাজনৈতিক কৌশল?

রাজনীতির এই দ্বৈততা নতুন নয়। ক্ষমতার সমীকরণ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং কৌশলগত সম্পর্ক, সবকিছু মিলিয়েই সিদ্ধান্ত গড়ে ওঠে। তাই আজকের প্রতিপক্ষ কাল আলোচনার টেবিলে বসতেই পারে; আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে, বিএনপি ভেঙেও যেতে পারে, এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনও অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু এই পরিবর্তনের ধারায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো, জনগণের প্রতি স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। যদি স্লোগান একরকম বার্তা দেয় আর বাস্তব সিদ্ধান্ত অন্য কিছু বলে, তাহলে সেই ফারাক আস্থাকে ক্ষয় করে।

বাস্তবতা হলো, রাজনীতিতে টিকে থাকাই বড় কথা, অস্তিত্বই মূল। কিন্তু সেই অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়াস যদি নীতির স্বচ্ছতা ও জনআস্থার বিনিময়ে হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেটি কতটা টেকসই, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।