রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই, এই বাস্তবতা আজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নীতি, অবস্থান, এমনকি ভাষাও সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে বদলে যায়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে তখনই, যখন জনসমক্ষে দেওয়া স্লোগান ও বাস্তব সিদ্ধান্তের মধ্যে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব দেখা যায়।
সম্প্রতি এমপিদের পক্ষ থেকে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি সুবিধার দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জনসেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রতিনিধিদের এই ধরনের সুবিধা চাওয়া অনেকের কাছেই প্রশ্নের জন্ম দেয়, এটি কি প্রয়োজন, নাকি প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যক্তিগত সুবিধা?
অন্যদিকে, “দিল্লি না ঢাকা” এই স্লোগান একটি শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এটি বোঝায়, সিদ্ধান্ত হবে আত্মমর্যাদা ও নীতির প্রশ্নে। কিন্তু বাস্তবতায় আবার দেখা যাচ্ছে, একই সময়েই দিল্লি থেকে ডিজেল নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই জনমনে দ্বিধা তৈরি হয়, স্লোগানটি কি আদর্শের প্রতিফলন, নাকি কেবল রাজনৈতিক কৌশল?
রাজনীতির এই দ্বৈততা নতুন নয়। ক্ষমতার সমীকরণ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং কৌশলগত সম্পর্ক, সবকিছু মিলিয়েই সিদ্ধান্ত গড়ে ওঠে। তাই আজকের প্রতিপক্ষ কাল আলোচনার টেবিলে বসতেই পারে; আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে, বিএনপি ভেঙেও যেতে পারে, এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনও অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু এই পরিবর্তনের ধারায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো, জনগণের প্রতি স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। যদি স্লোগান একরকম বার্তা দেয় আর বাস্তব সিদ্ধান্ত অন্য কিছু বলে, তাহলে সেই ফারাক আস্থাকে ক্ষয় করে।
বাস্তবতা হলো, রাজনীতিতে টিকে থাকাই বড় কথা, অস্তিত্বই মূল। কিন্তু সেই অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়াস যদি নীতির স্বচ্ছতা ও জনআস্থার বিনিময়ে হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেটি কতটা টেকসই, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক 




















