বিশ্ব মহাসাগর দিবস উপলক্ষে সমুদ্র ও পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মানববন্ধন, শপথ গ্রহণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০ টায় সুগন্ধা সৈকত এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতলসহ নানা ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়।
অংশগ্রহণকারী এক পরিবেশকর্মী জুবাইদা তাসনুহা বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও পর্যটকদের সচেতনতার লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা সচেতন হলে পর্যটকদের সচেতন করতে পারবো, প্লাস্টিক ময়লা আবর্জনার কারণে সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে তাই সৈকতের সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য ময়লা আবর্জনা না ফেলার এই সচেতনতার বার্তা নিয়ে আমরা এসেছি। আরো একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের। কিন্তুু অসচেতনভাবে ফেলা প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্যের কারণে সামুদ্রিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
আয়োজকরা বলেন, কক্সবাজার একটি পর্যটন এলাকা। এখানে আমরা পর্যটক আসা বন্ধ করতে পারবো না। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে পর্যটকদের জন্য যেনো আমরা সমুদ্রটাকে নষ্ট না করি। তাই পর্যটকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এই জন্য আমরা মনে করি যে হোটেল মালিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে । কারণ এত বড় জনসংখ্যাকে শুধুমাত্র প্রশাসনের পক্ষে ম্যানেজ করা সম্ভব নয়, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও জরুরি। পর্যটকরা যখন বিভিন্ন হোটেলে আসেন পর্যটকদের সচেতনতার জন্য নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন হওয়া ও সৈকতে কোন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য না আনার বিষয়ে আহ্বান জানান আয়োজকেরা।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি সৈকত পদযাত্রার মাধ্যমে সমুদ্র সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার বার্তা তুলে ধরা হয়।
বিশ্ব মহাসাগর দিবস উপলক্ষে আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ সমুদ্র নিশ্চিত করতে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 





















