ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে চলছে ঘের তৈরির মহোৎসব কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন টেকনাফে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যু জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় জিনিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলার আবেদন জেলা দলের গোলরক্ষক সাঈদী উপর হামলার প্রতিবাদে মহেশখালীতে মানববন্ধন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ‍্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: আরও ৪০ জন গ্রেপ্তার আদানির বিকল ইউনিট সচল, দুপুরের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঈদগাঁওয়ের ফিরুজ-মিফতাসহ নিহত ৩ লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার: চুক্তি শেষ, সেবা বন্ধ; দুর্ঘটনাহতদের ‘শেষ আশ্রয়’ এখন অচল ইয়াবা কারবারি ধরবে এআই ক্যামেরা! কক্সবাজার-বান্দরবানের ১১ পয়েন্ট নিয়ে পুলিশের নতুন পরিকল্পনা মেসির দুর্দান্ত গোল! কিন্তু… অবশেষে র‍্যাবের জালে রাসেল হত্যা মামলার আসামি শাহজাহান উখিয়া-টেকনাফের উপর থেকে মাদকের অপবাদ ঘুচানোর দাবী এমপি শাহজাহান চৌধুরীর কক্সবাজার প্রেসক্লাবে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় উখিয়া প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের

সীমান্ত শহরে ব্রাজিল উন্মাদনা

Screenshot

সমুদ্রের গর্জন, পাহাড়ঘেরা পথ আর বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ। সেই টেকনাফেই এখন বইছে অন্যরকম এক উন্মাদনা। কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা যেন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে ছোট্ট এক ‘ব্রাজিলে’। বিশ্বকাপের বাঁশি বাজতে এখনো বাকি অনেকটা সময়, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে শুরু হয়ে গেছে উৎসব। হলুদ-সবুজ পতাকায় ছেয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, অলিগলি আর মেরিন ড্রাইভের বাতাস।

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে সেই উন্মাদনা যেন নতুন মাত্রা পেল। শত শত মোটরসাইকেল, হাজারো সমর্থক আর ব্রাজিলের পতাকার ঢেউয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো টেকনাফ। উপজেলা গেইট থেকে শুরু হওয়া বিশাল বাইক শোডাউন ছুটে যায় টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে মেরিন ড্রাইভ জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত। এরপর সেখান থেকে পুরো মেরিন ড্রাইভ প্রদক্ষিণ করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে শেষ হয় বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রার শুরু থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। কারও মাথায় ব্রাজিলের ব্যান্ডানা, কারও গায়ে নেইমারের জার্সি, আবার কেউ মোটরসাইকেলের সামনে উড়িয়ে চলেছেন বিশাল আকৃতির ব্রাজিলের পতাকা। ভুভুজেলার শব্দ, স্লোগান আর মোটরসাইকেলের বহরের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় মানুষ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান সমর্থকদের।

ব্রাজিল সমর্থক মুর্শেদ বলেন, “বিশ্বকাপ এলেই আমাদের ভেতরে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। ছোটবেলা থেকে ব্রাজিলকে সমর্থন করি। এই দলের ফুটবলে একটা সৌন্দর্য আছে, একটা শিল্প আছে। তাই ব্রাজিল আমাদের কাছে শুধু দল নয়, আবেগের নাম।”

সমর্থক নোমান উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন, “নেইমার মাঠে নামলেই আমরা অন্যরকম আত্মবিশ্বাস পাই। এবারও ব্রাজিলই বিশ্বকাপ জিতবে বলে আশা করছি।”

এই আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা বাহা উদ্দিন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে কয়েকদিন ধরেই সমর্থকদের একত্রিত করা হচ্ছিল। পরে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আনন্দ ভাগাভাগি করতে আয়োজন করা হয় এই বাইক শোডাউনের।

তার ভাষ্য, “টেকনাফে ব্রাজিল সমর্থক অনেক। সবাই মিলে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতেই এই আয়োজন। ফুটবল আমাদের কাছে শুধু খেলা নয়, এটি আনন্দ আর ভালোবাসার জায়গা।”

শুধু শোভাযাত্রাতেই সীমাবদ্ধ নেই এই উন্মাদনা। টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বাসাবাড়ির ছাদে উড়ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও জার্মানির পতাকা। কোথাও বাড়ির দেয়াল রাঙানো হচ্ছে প্রিয় দলের রঙে, আবার কোথাও কয়েকতলা সমান বিশাল পতাকা টানানোর প্রস্তুতি চলছে। চায়ের দোকান থেকে বাজার—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিশ্বকাপ।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলমের ভাষ্য, বিশ্বকাপ এলেই টেকনাফে ফুটবল নিয়ে অন্যরকম প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কে বড় পতাকা টানাবে, কার বাড়ির সাজসজ্জা বেশি আকর্ষণীয় হবে। এসব নিয়েও চলে নীরব লড়াই।

এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে উত্তেজনার আরেকটি কারণ, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আগামী ১১ জুন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। আর ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গড়াবে ফাইনালের মহারণ।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলকে ঘিরে তাই টেকনাফের সমর্থকদের স্বপ্নও আকাশছোঁয়া। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে প্রতিটি আসরে অংশ নেওয়া একমাত্র দল ব্রাজিল এখন পর্যন্ত পাঁচবার জিতেছে বিশ্বকাপের ট্রফি। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২। প্রতিবারই সেলেসাওদের জয় যেন নতুন করে প্রেমে ফেলেছে কোটি সমর্থককে। আর সেই প্রেমের রঙেই এখন রাঙা টেকনাফ। সীমান্ত শহরের বাতাসে তাই এখন একটাই সুর—“ব্রাজিল, ব্রাজিল!”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে চলছে ঘের তৈরির মহোৎসব

সীমান্ত শহরে ব্রাজিল উন্মাদনা

আপডেট সময় : ০৯:১৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

সমুদ্রের গর্জন, পাহাড়ঘেরা পথ আর বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ। সেই টেকনাফেই এখন বইছে অন্যরকম এক উন্মাদনা। কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা যেন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে ছোট্ট এক ‘ব্রাজিলে’। বিশ্বকাপের বাঁশি বাজতে এখনো বাকি অনেকটা সময়, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে শুরু হয়ে গেছে উৎসব। হলুদ-সবুজ পতাকায় ছেয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, অলিগলি আর মেরিন ড্রাইভের বাতাস।

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে সেই উন্মাদনা যেন নতুন মাত্রা পেল। শত শত মোটরসাইকেল, হাজারো সমর্থক আর ব্রাজিলের পতাকার ঢেউয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো টেকনাফ। উপজেলা গেইট থেকে শুরু হওয়া বিশাল বাইক শোডাউন ছুটে যায় টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে মেরিন ড্রাইভ জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত। এরপর সেখান থেকে পুরো মেরিন ড্রাইভ প্রদক্ষিণ করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে শেষ হয় বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রার শুরু থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। কারও মাথায় ব্রাজিলের ব্যান্ডানা, কারও গায়ে নেইমারের জার্সি, আবার কেউ মোটরসাইকেলের সামনে উড়িয়ে চলেছেন বিশাল আকৃতির ব্রাজিলের পতাকা। ভুভুজেলার শব্দ, স্লোগান আর মোটরসাইকেলের বহরের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় মানুষ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান সমর্থকদের।

ব্রাজিল সমর্থক মুর্শেদ বলেন, “বিশ্বকাপ এলেই আমাদের ভেতরে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। ছোটবেলা থেকে ব্রাজিলকে সমর্থন করি। এই দলের ফুটবলে একটা সৌন্দর্য আছে, একটা শিল্প আছে। তাই ব্রাজিল আমাদের কাছে শুধু দল নয়, আবেগের নাম।”

সমর্থক নোমান উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন, “নেইমার মাঠে নামলেই আমরা অন্যরকম আত্মবিশ্বাস পাই। এবারও ব্রাজিলই বিশ্বকাপ জিতবে বলে আশা করছি।”

এই আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা বাহা উদ্দিন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে কয়েকদিন ধরেই সমর্থকদের একত্রিত করা হচ্ছিল। পরে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আনন্দ ভাগাভাগি করতে আয়োজন করা হয় এই বাইক শোডাউনের।

তার ভাষ্য, “টেকনাফে ব্রাজিল সমর্থক অনেক। সবাই মিলে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতেই এই আয়োজন। ফুটবল আমাদের কাছে শুধু খেলা নয়, এটি আনন্দ আর ভালোবাসার জায়গা।”

শুধু শোভাযাত্রাতেই সীমাবদ্ধ নেই এই উন্মাদনা। টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বাসাবাড়ির ছাদে উড়ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও জার্মানির পতাকা। কোথাও বাড়ির দেয়াল রাঙানো হচ্ছে প্রিয় দলের রঙে, আবার কোথাও কয়েকতলা সমান বিশাল পতাকা টানানোর প্রস্তুতি চলছে। চায়ের দোকান থেকে বাজার—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিশ্বকাপ।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলমের ভাষ্য, বিশ্বকাপ এলেই টেকনাফে ফুটবল নিয়ে অন্যরকম প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কে বড় পতাকা টানাবে, কার বাড়ির সাজসজ্জা বেশি আকর্ষণীয় হবে। এসব নিয়েও চলে নীরব লড়াই।

এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে উত্তেজনার আরেকটি কারণ, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আগামী ১১ জুন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। আর ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গড়াবে ফাইনালের মহারণ।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলকে ঘিরে তাই টেকনাফের সমর্থকদের স্বপ্নও আকাশছোঁয়া। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে প্রতিটি আসরে অংশ নেওয়া একমাত্র দল ব্রাজিল এখন পর্যন্ত পাঁচবার জিতেছে বিশ্বকাপের ট্রফি। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২। প্রতিবারই সেলেসাওদের জয় যেন নতুন করে প্রেমে ফেলেছে কোটি সমর্থককে। আর সেই প্রেমের রঙেই এখন রাঙা টেকনাফ। সীমান্ত শহরের বাতাসে তাই এখন একটাই সুর—“ব্রাজিল, ব্রাজিল!”