ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫ মাস ২১ দিন পর আবারও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে “বিপজ্জনক এলাকা” নির্দেশক লাল পতাকা কক্সবাজারে ২৪ ঘণ্টায় ৩১ মিমি বৃষ্টি, ৪ দিনের ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা স্টাফ কোয়ার্টারে রেস্টুরেন্টকর্মীর মরদেহ উদ্ধার ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, ৩ দালালসহ ৭২ জন আটক বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার সৈকতে পর্যটক কম, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি কক্সবাজারে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রক্ষা পেল মেরিন ড্রাইভের তিন হাজার গাছ মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারচক্রের মূলহোতাসহ ১৪ জন আটক নাইক্ষ্যংছড়ির শাকিব সুযোগ পেল পোল্যান্ড জাতীয় ক্রীকেট দলে  আইওএম’র গাড়ির ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত, উত্তেজনা ভুল নকশায় সয়লাব সামাজিক মাধ্যম, কক্সবাজার সরকারি কলেজ গেইটের ডিজাইন এখনো চূড়ান্ত নয় ঈদগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে বৃদ্ধের আত্মহত্যা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত মেরিন ড্রাইভে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: নিহত ১, আহত ২ লোহাগাড়ায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে ৩ জন নি’হত
সম্পাদকীয়

সহিংস বিক্ষোভ, সরকার পতন ও ছায়া শক্তি: ইতিহাস আমাদের কী বলে?

বিশ্বের নানা প্রান্তে যখনই সহিংস বিক্ষোভের মুখে কোনো সরকারের পতন ঘটে, তখন খুব দ্রুত একটি অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে; এর পেছনে কি আমেরিকার হাত, কোনো ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য ছায়া রাষ্ট্র শক্তি কাজ করছে? প্রশ্নটি আবেগে ভরা হলেও, এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়।

ইতিহাস বলছে, অধিকাংশ সরকার পতনের বীজ রাষ্ট্রের ভেতরেই জন্ম নেয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি এবং মানুষের সাথে রাষ্ট্রের দূরত্ব ধীরে ধীরে জনঅসন্তোষকে বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেয়। ফরাসি বিপ্লব থেকে শুরু করে বহু ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভই ছিল মূল চালিকা শক্তি।

এর মানে এই নয় যে, বিদেশি শক্তির কোনো ভূমিকা নেই। বাস্তবতা হলো; বিদেশি শক্তি খুব কম ক্ষেত্রেই আন্দোলন সৃষ্টি করে, কিন্তু তারা বিদ্যমান সংকটকে কাজে লাগায়। কূটনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক বক্তব্য বা মানবাধিকারের ভাষা তখনই কার্যকর হয়, যখন রাষ্ট্র নিজেই ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে।

‘ডিপ স্টেট’ বা ছায়া রাষ্ট্র শব্দটি আজকাল প্রায় সব রাজনৈতিক আলোচনায় ব্যবহৃত হয়। ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে কোনো একক বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেন না। বরং এটিকে রাষ্ট্রের ভেতরে থাকা প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের একটি জটিল কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করেন; যা প্রায় সব রাষ্ট্রেই কোনো না কোনোভাবে বিদ্যমান।

সহিংসতা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রাষ্ট্রকে চাপের মুখে ফেলে, কিন্তু সহিংসতা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক খেলোয়াড়রা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে সহিংসতা সরকার পতনের একমাত্র কারণ নয়, বরং একটি টার্নিং পয়েন্টে পরিণত হয়।

ইতিহাস আমাদের আরও একটি শিক্ষা দেয়; যে রাষ্ট্র তার জনগণের কথা শোনে না, সেই রাষ্ট্রই বাইরের প্রভাবের জন্য দরজা খুলে দেয়। বাইরে কেউ এসে রাষ্ট্র ভেঙে দেয় না; রাষ্ট্র নিজেই দুর্বল হলে বাইরের শক্তি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়।

প্রতিটি সহিংস বিক্ষোভের পেছনে একক কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্র খোঁজা যতটা সহজ, বাস্তবতা ততটাই জটিল। সত্য হলো, সরকার পতন ঘটে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আর বাইরের সুযোগের মিলিত ফল হিসেবে।

ইতিহাস তাই আমাদের সতর্ক করে; সংবাদ নয়, সংকেত বুঝতে শিখতে হবে।

টিটিএন ভূরাজনীতি কলামে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনা প্রবাহকে ইতিহাস, ক্ষমতা ও বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়; সংবাদ নয়, প্রেক্ষাপট বোঝার প্রয়াস।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মাস ২১ দিন পর আবারও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে “বিপজ্জনক এলাকা” নির্দেশক লাল পতাকা

সম্পাদকীয়

সহিংস বিক্ষোভ, সরকার পতন ও ছায়া শক্তি: ইতিহাস আমাদের কী বলে?

আপডেট সময় : ০৩:২৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের নানা প্রান্তে যখনই সহিংস বিক্ষোভের মুখে কোনো সরকারের পতন ঘটে, তখন খুব দ্রুত একটি অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে; এর পেছনে কি আমেরিকার হাত, কোনো ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য ছায়া রাষ্ট্র শক্তি কাজ করছে? প্রশ্নটি আবেগে ভরা হলেও, এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়।

ইতিহাস বলছে, অধিকাংশ সরকার পতনের বীজ রাষ্ট্রের ভেতরেই জন্ম নেয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি এবং মানুষের সাথে রাষ্ট্রের দূরত্ব ধীরে ধীরে জনঅসন্তোষকে বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেয়। ফরাসি বিপ্লব থেকে শুরু করে বহু ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভই ছিল মূল চালিকা শক্তি।

এর মানে এই নয় যে, বিদেশি শক্তির কোনো ভূমিকা নেই। বাস্তবতা হলো; বিদেশি শক্তি খুব কম ক্ষেত্রেই আন্দোলন সৃষ্টি করে, কিন্তু তারা বিদ্যমান সংকটকে কাজে লাগায়। কূটনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক বক্তব্য বা মানবাধিকারের ভাষা তখনই কার্যকর হয়, যখন রাষ্ট্র নিজেই ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে।

‘ডিপ স্টেট’ বা ছায়া রাষ্ট্র শব্দটি আজকাল প্রায় সব রাজনৈতিক আলোচনায় ব্যবহৃত হয়। ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে কোনো একক বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেন না। বরং এটিকে রাষ্ট্রের ভেতরে থাকা প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের একটি জটিল কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করেন; যা প্রায় সব রাষ্ট্রেই কোনো না কোনোভাবে বিদ্যমান।

সহিংসতা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রাষ্ট্রকে চাপের মুখে ফেলে, কিন্তু সহিংসতা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক খেলোয়াড়রা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে সহিংসতা সরকার পতনের একমাত্র কারণ নয়, বরং একটি টার্নিং পয়েন্টে পরিণত হয়।

ইতিহাস আমাদের আরও একটি শিক্ষা দেয়; যে রাষ্ট্র তার জনগণের কথা শোনে না, সেই রাষ্ট্রই বাইরের প্রভাবের জন্য দরজা খুলে দেয়। বাইরে কেউ এসে রাষ্ট্র ভেঙে দেয় না; রাষ্ট্র নিজেই দুর্বল হলে বাইরের শক্তি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়।

প্রতিটি সহিংস বিক্ষোভের পেছনে একক কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্র খোঁজা যতটা সহজ, বাস্তবতা ততটাই জটিল। সত্য হলো, সরকার পতন ঘটে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আর বাইরের সুযোগের মিলিত ফল হিসেবে।

ইতিহাস তাই আমাদের সতর্ক করে; সংবাদ নয়, সংকেত বুঝতে শিখতে হবে।

টিটিএন ভূরাজনীতি কলামে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনা প্রবাহকে ইতিহাস, ক্ষমতা ও বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়; সংবাদ নয়, প্রেক্ষাপট বোঝার প্রয়াস।