ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ৩ কেন আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে চান স্পেন কোচ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের পাটের মান বেশি উন্নত: ভারতীয় কৃষিমন্ত্রী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সিতে নামবে আর্জেন্টিনা, কেন এই জার্সি নিয়ে এত আলোচনা? দায়িত্ববোধ-সচেতনতা তৈরি করা গেলে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা যাবে  দেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল রথযাত্রা উৎসব- থাকছে নানা আয়োজন তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩ সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত আজ ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তিন বিষয়ের পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী পেকুয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু রাজাপালংয়ের চেয়ারম্যান দুর্নীতিগ্রস্ত : জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া এমপির চিঠি ভাইরাল! বুধবার পরীক্ষা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা মাতারবাড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ: ‘আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা’ দাবি পরিবারের

সমুদ্রে মাছের অতিরিক্ত আহরণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে : মৎস্য উপদেষ্টা

সমুদ্রে মাছের অতিরিক্ত আহরণ নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বড় বড় জাহাজ নিয়ে সমুদ্রে গিয়ে যা ইচ্ছা তা ধরার সুযোগ রাখা যাবে না তাদের অবশ্যই নিয়মের আওতায় আনতে হবে। আবার এমন অনেক মাছ ধরা হয় যা খাবার উপযোগী নয় সেগুলো পুনরায় সাগরে ফেলে দেওয়া হয়, এতে সাগরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই জালের ফাঁস নিয়ন্ত্রণ ও আহরণ পদ্ধতির উন্নয়ন অপরিহার্য।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডব্লিউসিএস) এবং ওয়ার্ল্ড ফিশ আয়োজিত ‘সুস্থ সাগর (হেলদি ওশান)’ বিষয়ক ইনসেপশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সব পক্ষের স্বার্থকে সমন্বিত করে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাছ শুধু বাণিজ্যিক পণ্য নয়-এটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, মৎস্য অধিদপ্তর-সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় কাজ করছে। অনেক সময় শুধু বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মাছ ধরা হয় কি না, সে দিকটিতে গুরুত্ব দিতে হবে। অথচ মানুষের খাদ্যের বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

ক্ষতিকর জালের ব্যবহারকে উপদেষ্টা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। ফাঁস জাল, বেহেন্দি জালের মতো নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত জালে বিভিন্ন আকারের মাছ ধরা পড়ে জালেই মারা যাচ্ছে-যা সামগ্রিক মাছের মজুদ কমিয়ে দিচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘের গবেষণা জাহাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সাত বছরে বঙ্গোপসাগরে মাছের প্রাপ্যতা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি, অনেক অঞ্চলে সামুদ্রিক অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে এবং প্লাস্টিক দূষণের মাত্রাও ভয়াবহভাবে বাড়ছে। এসব খারাপ খবরের পাশাপাশি রয়েছে কিছু ইতিবাচক দিকও। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, সাগরে নতুন আরও ৬৫ প্রজাতির মাছ শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৫ প্রজাতির মাছ এমন, যেগুলোর অস্তিত্ব এত দিন বিশ্বজুড়ে শনাক্ত হয়নি।

বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিব-ইন-চার্জ) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমোডর শেখ মাহমুদুল হাসান এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ।

স্বাগত বক্তব্য দেন ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফারুক-উল ইসলাম।

সূত্র-ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ৩

সমুদ্রে মাছের অতিরিক্ত আহরণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে : মৎস্য উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৫:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

সমুদ্রে মাছের অতিরিক্ত আহরণ নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বড় বড় জাহাজ নিয়ে সমুদ্রে গিয়ে যা ইচ্ছা তা ধরার সুযোগ রাখা যাবে না তাদের অবশ্যই নিয়মের আওতায় আনতে হবে। আবার এমন অনেক মাছ ধরা হয় যা খাবার উপযোগী নয় সেগুলো পুনরায় সাগরে ফেলে দেওয়া হয়, এতে সাগরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই জালের ফাঁস নিয়ন্ত্রণ ও আহরণ পদ্ধতির উন্নয়ন অপরিহার্য।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডব্লিউসিএস) এবং ওয়ার্ল্ড ফিশ আয়োজিত ‘সুস্থ সাগর (হেলদি ওশান)’ বিষয়ক ইনসেপশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সব পক্ষের স্বার্থকে সমন্বিত করে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাছ শুধু বাণিজ্যিক পণ্য নয়-এটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, মৎস্য অধিদপ্তর-সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় কাজ করছে। অনেক সময় শুধু বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মাছ ধরা হয় কি না, সে দিকটিতে গুরুত্ব দিতে হবে। অথচ মানুষের খাদ্যের বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

ক্ষতিকর জালের ব্যবহারকে উপদেষ্টা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। ফাঁস জাল, বেহেন্দি জালের মতো নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত জালে বিভিন্ন আকারের মাছ ধরা পড়ে জালেই মারা যাচ্ছে-যা সামগ্রিক মাছের মজুদ কমিয়ে দিচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘের গবেষণা জাহাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সাত বছরে বঙ্গোপসাগরে মাছের প্রাপ্যতা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি, অনেক অঞ্চলে সামুদ্রিক অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে এবং প্লাস্টিক দূষণের মাত্রাও ভয়াবহভাবে বাড়ছে। এসব খারাপ খবরের পাশাপাশি রয়েছে কিছু ইতিবাচক দিকও। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, সাগরে নতুন আরও ৬৫ প্রজাতির মাছ শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৫ প্রজাতির মাছ এমন, যেগুলোর অস্তিত্ব এত দিন বিশ্বজুড়ে শনাক্ত হয়নি।

বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিব-ইন-চার্জ) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমোডর শেখ মাহমুদুল হাসান এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ।

স্বাগত বক্তব্য দেন ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফারুক-উল ইসলাম।

সূত্র-ঢাকা পোস্ট