ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন নিখোঁজের ৮ বছর পর বালুখালীর জসিমকে  পঞ্চগড় থেকে ফিরে পেল পরিবার বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা, কমবে তাপদাহ বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ
ফেইসবুকে হচ্ছে সম্পর্ক: বাড়ছে বাল্যবিয়ে

সবচেয়ে বেশি হচ্ছে উখিয়া টেকনাফে

  • আফজারা রিয়া
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
  • 1019

কক্সবাজারে বাল্যবিবাহের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় এখনও বেশি এবং এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে শিশুদের ফেইসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশু সুরক্ষা নেট প্রকল্পের আওতায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান “সেন্টার ফর কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ” পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপটি কক্সবাজারের সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পরিচালিত হয়।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, জাতীয়ভাবে বাল্যবিবাহের হার যেখানে ৫১%, সেখানে কক্সবাজারে এই হার ৫৮%। এরমধ্যে ১৯-৪৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এ হার ৫৫%। তবে ১৯-২৪ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রে এ হার আরও উদ্বেগজনক—৬৯%।

তথ্য বলছে, জেলার ৪০% কিশোর-কিশোরী সমবয়সীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে, যা শেষ পর্যন্ত বাল্যবিবাহে পরিণত হয়। উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে উখিয়া ও টেকনাফে এ হার ৪৫%, আর সবচেয়ে কম কক্সবাজার সদরে, মাত্র ২৬.২%।

সমবয়সীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার পেছনে মূলত ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বেশি হওয়াকেই কারন হিসেবে বলছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মো: মাহবুবুল ইসলাম ভূঁইয়া।

মি. ভূঁইয়া বলেন,”সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আগ্রহ সময়ের আগেই বেড়ে যায়। প্রযুক্তি নির্ভর বর্তমান সমাজে এ প্রবণতা আরও তীব্র হচ্ছে”।

“যথাযথ দিকনির্দেশনা ও উপযুক্ত শিক্ষার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক কিশোর-কিশোরীদের জন্য একধরনের ‘ভবিষ্যতের দরজা’ হতে পারে” বলেন এই গবেষক।

এছাড়া বাল্যবিবাহের অন্যান্য কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে দারিদ্র্যতা, শিক্ষার অভাব ও সামাজিক কুসংস্কার। জরিপ অনুযায়ী, জেলার ২৫% বাল্যবিবাহ ঘটছে দারিদ্র্য ও শিক্ষা অভাবে, আর ২৩% ক্ষেত্রে এটি সমাজে প্রচলিত “প্রথা” হিসেবে বিবেচনায় সম্পন্ন হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই পরিসংখ্যান কক্সবাজারের নারী উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা এবং সামাজিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন

ফেইসবুকে হচ্ছে সম্পর্ক: বাড়ছে বাল্যবিয়ে

সবচেয়ে বেশি হচ্ছে উখিয়া টেকনাফে

আপডেট সময় : ১০:৫৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

কক্সবাজারে বাল্যবিবাহের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় এখনও বেশি এবং এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে শিশুদের ফেইসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশু সুরক্ষা নেট প্রকল্পের আওতায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান “সেন্টার ফর কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ” পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপটি কক্সবাজারের সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পরিচালিত হয়।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, জাতীয়ভাবে বাল্যবিবাহের হার যেখানে ৫১%, সেখানে কক্সবাজারে এই হার ৫৮%। এরমধ্যে ১৯-৪৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এ হার ৫৫%। তবে ১৯-২৪ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রে এ হার আরও উদ্বেগজনক—৬৯%।

তথ্য বলছে, জেলার ৪০% কিশোর-কিশোরী সমবয়সীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে, যা শেষ পর্যন্ত বাল্যবিবাহে পরিণত হয়। উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে উখিয়া ও টেকনাফে এ হার ৪৫%, আর সবচেয়ে কম কক্সবাজার সদরে, মাত্র ২৬.২%।

সমবয়সীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার পেছনে মূলত ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বেশি হওয়াকেই কারন হিসেবে বলছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মো: মাহবুবুল ইসলাম ভূঁইয়া।

মি. ভূঁইয়া বলেন,”সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আগ্রহ সময়ের আগেই বেড়ে যায়। প্রযুক্তি নির্ভর বর্তমান সমাজে এ প্রবণতা আরও তীব্র হচ্ছে”।

“যথাযথ দিকনির্দেশনা ও উপযুক্ত শিক্ষার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক কিশোর-কিশোরীদের জন্য একধরনের ‘ভবিষ্যতের দরজা’ হতে পারে” বলেন এই গবেষক।

এছাড়া বাল্যবিবাহের অন্যান্য কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে দারিদ্র্যতা, শিক্ষার অভাব ও সামাজিক কুসংস্কার। জরিপ অনুযায়ী, জেলার ২৫% বাল্যবিবাহ ঘটছে দারিদ্র্য ও শিক্ষা অভাবে, আর ২৩% ক্ষেত্রে এটি সমাজে প্রচলিত “প্রথা” হিসেবে বিবেচনায় সম্পন্ন হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই পরিসংখ্যান কক্সবাজারের নারী উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা এবং সামাজিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।