ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান: অপহরণ চক্র ও পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে তৎপরতা জোরদার আগুন দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশু রাইয়ানের সংকটেও বিদ্যুৎ গিলছে টমটম-ইজিবাইক স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি নিখোঁজ সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কারচুপির অভিযোগে হামিদুর রহমানের মামলা: কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাহসানের চুক্তি নবায়ন ঈদগড়ের ইউপি সদস্য অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি চকরিয়ায় বেড়িবাঁধ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস দেবে সরকার অভাব ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে ‘ভাগ্যের জুয়ায়’ টেকনাফের হ্নীলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ১০-১২টি বসতবাড়ি কক্সবাজার শহরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ সাত বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার পাচারকারীর ফেলে যাওয়া বস্তায় ১৮ কেজি গাঁজা

সংসদ নির্বাচনে এবারের শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী

জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাদের আর্থিক সক্ষমতাও যে বড় একটি বাস্তবতা, তা আবারও সামনে এসেছে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকায়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব প্রার্থীর মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের রাজনীতিতে অর্থনৈতিক শক্তির গভীর উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৬০৭ কোটি টাকা, যা অন্য সব প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তাঁর পরেই অবস্থান করছেন বিএনপির আরেক প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, যাঁর সম্পদ ৪৭৪ কোটি টাকা। এই দুই প্রার্থীর সম্পদ পরিমাণ দেশের বৃহৎ ব্যবসায়িক পরিসরের সঙ্গে রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে স্পষ্ট করে তোলে।

শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনই বিএনপির, যা দলটির অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে। অন্যদিকে তালিকায় ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন, যাঁদের সম্পদের পরিমাণ কোনো অংশে কম নয়। সালাউদ্দিন আলমগীরের সম্পদ ২৮৩ কোটি টাকা এবং এম এ এইচ সেলিমের সম্পদ ২৬২ কোটি টাকা, যা প্রমাণ করে দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকেও অর্থনৈতিক প্রভাব নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফখর উদ্দিন আহমেদ (২৯৯ কোটি), জাকারিয়া তাহের (২৯২ কোটি), মো. জালাল উদ্দিন (২৪৯ কোটি), গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (২০৪ কোটি), মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (১৯০ কোটি) এবং মো. সফিকুর রহমান (১৮৫ কোটি টাকা)। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থীই দেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল অর্থ প্রার্থীদের প্রচারণা, জনসংযোগ, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই আর্থিক প্রভাব কি সাধারণ ভোটারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে? আদর্শ, নীতি ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো কি ধীরে ধীরে অর্থবলের নিচে চাপা পড়ছে?

শীর্ষ ধনী প্রার্থীদের এই তালিকা বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ভোটাররা শেষ পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই করবেন সম্পদের প্রভাবের ভিত্তিতে, নাকি যোগ্যতা, সততা ও জনআস্থার ওপর ভর করে।

সূত্র: ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামা

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদ নির্বাচনে এবারের শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী

আপডেট সময় : ১২:২২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাদের আর্থিক সক্ষমতাও যে বড় একটি বাস্তবতা, তা আবারও সামনে এসেছে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকায়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব প্রার্থীর মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের রাজনীতিতে অর্থনৈতিক শক্তির গভীর উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৬০৭ কোটি টাকা, যা অন্য সব প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তাঁর পরেই অবস্থান করছেন বিএনপির আরেক প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, যাঁর সম্পদ ৪৭৪ কোটি টাকা। এই দুই প্রার্থীর সম্পদ পরিমাণ দেশের বৃহৎ ব্যবসায়িক পরিসরের সঙ্গে রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে স্পষ্ট করে তোলে।

শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনই বিএনপির, যা দলটির অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে। অন্যদিকে তালিকায় ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন, যাঁদের সম্পদের পরিমাণ কোনো অংশে কম নয়। সালাউদ্দিন আলমগীরের সম্পদ ২৮৩ কোটি টাকা এবং এম এ এইচ সেলিমের সম্পদ ২৬২ কোটি টাকা, যা প্রমাণ করে দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকেও অর্থনৈতিক প্রভাব নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফখর উদ্দিন আহমেদ (২৯৯ কোটি), জাকারিয়া তাহের (২৯২ কোটি), মো. জালাল উদ্দিন (২৪৯ কোটি), গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (২০৪ কোটি), মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (১৯০ কোটি) এবং মো. সফিকুর রহমান (১৮৫ কোটি টাকা)। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থীই দেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল অর্থ প্রার্থীদের প্রচারণা, জনসংযোগ, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই আর্থিক প্রভাব কি সাধারণ ভোটারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে? আদর্শ, নীতি ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো কি ধীরে ধীরে অর্থবলের নিচে চাপা পড়ছে?

শীর্ষ ধনী প্রার্থীদের এই তালিকা বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ভোটাররা শেষ পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই করবেন সম্পদের প্রভাবের ভিত্তিতে, নাকি যোগ্যতা, সততা ও জনআস্থার ওপর ভর করে।

সূত্র: ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামা