ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা আজ পৃথিবীর মন খারাপ: ‘বিদায়’ বললেন, ফুটবলের কবি হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু, এক মাসে দেওয়া হবে আরও ৩৫ লাখ প্রবাসীদের পরিবার নিয়ে সৌদি থাকার সুযোগ সাগরে লঘুচাপ, টানা বৃষ্টির আভাস দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে : রিজভী বিশ্ববাজারে ১০১ ডলারে পৌঁছেছে জ্বালানি তেলের দাম

সংসদ নির্বাচনে এবারের শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী

জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাদের আর্থিক সক্ষমতাও যে বড় একটি বাস্তবতা, তা আবারও সামনে এসেছে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকায়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব প্রার্থীর মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের রাজনীতিতে অর্থনৈতিক শক্তির গভীর উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৬০৭ কোটি টাকা, যা অন্য সব প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তাঁর পরেই অবস্থান করছেন বিএনপির আরেক প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, যাঁর সম্পদ ৪৭৪ কোটি টাকা। এই দুই প্রার্থীর সম্পদ পরিমাণ দেশের বৃহৎ ব্যবসায়িক পরিসরের সঙ্গে রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে স্পষ্ট করে তোলে।

শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনই বিএনপির, যা দলটির অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে। অন্যদিকে তালিকায় ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন, যাঁদের সম্পদের পরিমাণ কোনো অংশে কম নয়। সালাউদ্দিন আলমগীরের সম্পদ ২৮৩ কোটি টাকা এবং এম এ এইচ সেলিমের সম্পদ ২৬২ কোটি টাকা, যা প্রমাণ করে দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকেও অর্থনৈতিক প্রভাব নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফখর উদ্দিন আহমেদ (২৯৯ কোটি), জাকারিয়া তাহের (২৯২ কোটি), মো. জালাল উদ্দিন (২৪৯ কোটি), গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (২০৪ কোটি), মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (১৯০ কোটি) এবং মো. সফিকুর রহমান (১৮৫ কোটি টাকা)। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থীই দেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল অর্থ প্রার্থীদের প্রচারণা, জনসংযোগ, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই আর্থিক প্রভাব কি সাধারণ ভোটারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে? আদর্শ, নীতি ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো কি ধীরে ধীরে অর্থবলের নিচে চাপা পড়ছে?

শীর্ষ ধনী প্রার্থীদের এই তালিকা বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ভোটাররা শেষ পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই করবেন সম্পদের প্রভাবের ভিত্তিতে, নাকি যোগ্যতা, সততা ও জনআস্থার ওপর ভর করে।

সূত্র: ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামা

ট্যাগ :

কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার

সংসদ নির্বাচনে এবারের শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী

আপডেট সময় : ১২:২২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাদের আর্থিক সক্ষমতাও যে বড় একটি বাস্তবতা, তা আবারও সামনে এসেছে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকায়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব প্রার্থীর মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের রাজনীতিতে অর্থনৈতিক শক্তির গভীর উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৬০৭ কোটি টাকা, যা অন্য সব প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তাঁর পরেই অবস্থান করছেন বিএনপির আরেক প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, যাঁর সম্পদ ৪৭৪ কোটি টাকা। এই দুই প্রার্থীর সম্পদ পরিমাণ দেশের বৃহৎ ব্যবসায়িক পরিসরের সঙ্গে রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে স্পষ্ট করে তোলে।

শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনই বিএনপির, যা দলটির অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে। অন্যদিকে তালিকায় ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন, যাঁদের সম্পদের পরিমাণ কোনো অংশে কম নয়। সালাউদ্দিন আলমগীরের সম্পদ ২৮৩ কোটি টাকা এবং এম এ এইচ সেলিমের সম্পদ ২৬২ কোটি টাকা, যা প্রমাণ করে দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকেও অর্থনৈতিক প্রভাব নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফখর উদ্দিন আহমেদ (২৯৯ কোটি), জাকারিয়া তাহের (২৯২ কোটি), মো. জালাল উদ্দিন (২৪৯ কোটি), গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (২০৪ কোটি), মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (১৯০ কোটি) এবং মো. সফিকুর রহমান (১৮৫ কোটি টাকা)। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থীই দেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল অর্থ প্রার্থীদের প্রচারণা, জনসংযোগ, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই আর্থিক প্রভাব কি সাধারণ ভোটারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে? আদর্শ, নীতি ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো কি ধীরে ধীরে অর্থবলের নিচে চাপা পড়ছে?

শীর্ষ ধনী প্রার্থীদের এই তালিকা বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ভোটাররা শেষ পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই করবেন সম্পদের প্রভাবের ভিত্তিতে, নাকি যোগ্যতা, সততা ও জনআস্থার ওপর ভর করে।

সূত্র: ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামা