ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় দুই রেস্তোরাঁয় অনিয়ম, ৪ লাখ টাকা জরিমানা বাঁকখালী নয়, রামু অথবা ঈদগাঁও উপজেলার সাথে থাকতে চেয়ে ঈদগড়বাসীর স্মারকলিপি কক্সবাজারে বহুল প্রত্যাশিত মেরিন ড্রাইভ সংযোগ সড়ক বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ‎ একরাম হত্যায় মিফতাহ ও বদিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ মেরিন ড্রাইভে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সাতকানিয়ার জাবেদের মৃত্যু মহাসড়কে অভিযান, চারটি বাসকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা , ৭ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ লোহাগাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রবীণ আইনজীবী প্রফেসর নুর আহমদ এডভোকেটের ১ম মৃত্যু বার্ষিকী ২৬ আগস্ট আশ্রয়প্রার্থী বিদেশিদের জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল আমেরিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন : কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের নতুন হোস্টেল একনেকে অনুমোদন ঢেউয়ের কবলে ট্রলার দ্বিখণ্ডিত, নিউজিল্যান্ডের এক পরিবারের ৩ সদস্য উদ্ধার: শিশু নিখোঁজ অশ্রুজলে ২৫ আগস্ট স্মরণ: বিশ্বের কাছে ১০ মিনিট চাইলো লাখো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি দ্রুত সকল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে ৫ জেলে নিখোঁজ

রোহিঙ্গা শ্রমিকদের কারণে কক্সবাজারে বেকারত্ব বেড়েছে ২২ শতাংশ

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে নতুন করে ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় পায়। ৮ বছর অতিবাহিত হতে চললেও প্রত্যাবাসন দেখেনি আলোর মুখ, বরং সর্বশেষ ২০২৪ সালে নতুন অনুপ্রবেশসহ বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৩ লাখ।

শুরুর দিকে মানবিক সহায়তা এবং ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই জনগোষ্ঠীর অনেকেই শিবিরের সীমা ছাড়িয়ে স্থানীয় অর্থনীতির অংশ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে শ্রমবাজারে। ফলে ব্যাপক চাপে পড়েছে কক্সবাজারের স্থানীয় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।

প্রতিদিন ক্যাম্প প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শত শত রোহিঙ্গা নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক কিংবা খণ্ডকালীন কাজের জন্য বেরিয়ে পড়েন।

স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে দেখা গেছে- কমপক্ষে ১ লাখ রোহিঙ্গা নিয়মিতভাবে কোনো না কোনোভাবে শ্রম বাজারে যুক্ত আছে। তাদের বেশিরভাগই ইটভাটা, নির্মাণ সাইট,কৃষিক্ষেত্র, ছোটখাটো দোকান সহ বিভিন্ন খাতে কম মজুরিতে কাজ করছে।

স্থানীয় শ্রমিকদের অভিযোগ, রোহিঙ্গারা স্বাভাবিক মজুরির অর্ধেক বা তারও কমে কাজ করতে রাজি থাকায় তাদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উখিয়ার কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, “গত মৌসুমে আমার বাগানে কাজ করত ৮ জন স্থানীয় শ্রমিক। এবার রোহিঙ্গারা ২৫০ টাকায় কাজ করতে চায়, ফলে স্থানীয়দের বাদ দিতে হয়েছে।”

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (BIDS)-এর ২০২৩ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, কক্সবাজারের স্থানীয় শ্রমজীবীদের মধ্যে বেকারত্বের হার গত পাঁচ বছরে ১৪% থেকে বেড়ে ২২%-এ দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের অনুপ্রবেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্থানীয় যুবকরা কর্মসংস্থান না পেয়ে মাদকের চালান, মানবপাচার ও চোরাচালানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়িয়ে পড়ছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের একটি গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হোসাইন বলেন, “আমরা নিয়মিত ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাই। তবে জনবল ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় পুরোপুরি রোধ করা যাচ্ছে না।”

জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান , “রোহিঙ্গারা স্থানীয় সিম ব্যবহার করে বাইরে যোগাযোগ করছে, নকল জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছে এমনকি কিছু রোহিঙ্গা বর্তমানে টমটম চালাতেও দেখা যাচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, রোহিঙ্গাদের মানবিক সুরক্ষা ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে গিয়ে বাংলাদেশের উপর বিশাল বোঝা পড়েছে। তবে সরকার এখনো রোহিঙ্গাদের শ্রমবাজারে বৈধ প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

এদিকে কোনো নির্দিষ্ট আইন না থাকায় নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় দুই রেস্তোরাঁয় অনিয়ম, ৪ লাখ টাকা জরিমানা

রোহিঙ্গা শ্রমিকদের কারণে কক্সবাজারে বেকারত্ব বেড়েছে ২২ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৭:৩১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে নতুন করে ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় পায়। ৮ বছর অতিবাহিত হতে চললেও প্রত্যাবাসন দেখেনি আলোর মুখ, বরং সর্বশেষ ২০২৪ সালে নতুন অনুপ্রবেশসহ বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৩ লাখ।

শুরুর দিকে মানবিক সহায়তা এবং ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই জনগোষ্ঠীর অনেকেই শিবিরের সীমা ছাড়িয়ে স্থানীয় অর্থনীতির অংশ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে শ্রমবাজারে। ফলে ব্যাপক চাপে পড়েছে কক্সবাজারের স্থানীয় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।

প্রতিদিন ক্যাম্প প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শত শত রোহিঙ্গা নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক কিংবা খণ্ডকালীন কাজের জন্য বেরিয়ে পড়েন।

স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে দেখা গেছে- কমপক্ষে ১ লাখ রোহিঙ্গা নিয়মিতভাবে কোনো না কোনোভাবে শ্রম বাজারে যুক্ত আছে। তাদের বেশিরভাগই ইটভাটা, নির্মাণ সাইট,কৃষিক্ষেত্র, ছোটখাটো দোকান সহ বিভিন্ন খাতে কম মজুরিতে কাজ করছে।

স্থানীয় শ্রমিকদের অভিযোগ, রোহিঙ্গারা স্বাভাবিক মজুরির অর্ধেক বা তারও কমে কাজ করতে রাজি থাকায় তাদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উখিয়ার কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, “গত মৌসুমে আমার বাগানে কাজ করত ৮ জন স্থানীয় শ্রমিক। এবার রোহিঙ্গারা ২৫০ টাকায় কাজ করতে চায়, ফলে স্থানীয়দের বাদ দিতে হয়েছে।”

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (BIDS)-এর ২০২৩ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, কক্সবাজারের স্থানীয় শ্রমজীবীদের মধ্যে বেকারত্বের হার গত পাঁচ বছরে ১৪% থেকে বেড়ে ২২%-এ দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের অনুপ্রবেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্থানীয় যুবকরা কর্মসংস্থান না পেয়ে মাদকের চালান, মানবপাচার ও চোরাচালানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়িয়ে পড়ছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের একটি গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হোসাইন বলেন, “আমরা নিয়মিত ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাই। তবে জনবল ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় পুরোপুরি রোধ করা যাচ্ছে না।”

জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান , “রোহিঙ্গারা স্থানীয় সিম ব্যবহার করে বাইরে যোগাযোগ করছে, নকল জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছে এমনকি কিছু রোহিঙ্গা বর্তমানে টমটম চালাতেও দেখা যাচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, রোহিঙ্গাদের মানবিক সুরক্ষা ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে গিয়ে বাংলাদেশের উপর বিশাল বোঝা পড়েছে। তবে সরকার এখনো রোহিঙ্গাদের শ্রমবাজারে বৈধ প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

এদিকে কোনো নির্দিষ্ট আইন না থাকায় নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।