ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জমিজমা সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকারের সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে পৌঁছেছেন ৬৫,৫৯২ হজযাত্রী, ১৮ জনের মৃত্যু সোনারহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা ফায়ার আসামী বিএনপির ১০ নেতা-কর্মী/ ৪৮ ঘণ্টা পর উখিয়ার সেই মা হ’ত্যায় মামলা রামুর ফতেখাঁরকুলে সরকারি খাস জমি দ’খ’ল করে প্লট বিক্রি রামুতে বনবিভাগের অভিযানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিএনপি নেতা আবুল বশর বাবু পর্নোগ্রাফি মামলা তুলে নিতে হুমকি, আতঙ্কে পেকুয়ার তরুণী লামায় এমপি সাঁচিং প্রু জেরি, আইনশৃঙ্খলা ও বিএনপি সভায় অংশগ্রহণ পুলিশের মানবিকতায় বাঁচল প্রসূতি মা ও নবজাতকের প্রাণ ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরলেন আ’লীগ নেতা চকরিয়ায় পরোয়ানাভুক্ত একাধিক মামলার আসামী গ্রেপ্তার ক্যাম্পে নিয়ন্ত্রণ হারানো পিকআপের চাপায় রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু, আহত ৭ কক্সবাজারে জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে, ২৮ মে ঈদুল আজহা অবৈধ গরু বৈধ হয় যে হাটে ! চকরিয়ায় গলায় লিচুর বিচি আটকে শিশুর মৃত্যু

রাজনীতির ভাষা: মর্যাদা নাকি মুখোমুখি অবস্থান?

জাতীয় সংসদ একটি দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মঞ্চ, এখানে ভাষা, আচরণ এবং উপস্থাপন সবই একটি জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে “আমরা রক্ত ঝরিয়েছি বলে আজ আপনারা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী” এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

মুক্তিযুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংগ্রামের অবদান অবশ্যই সম্মানের। কিন্তু সেই অবদানকে যদি বর্তমান নেতৃত্বকে ‘ঋণী’ বা ‘দায়বদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করার ভাষায় ব্যবহার করা হয়, তবে তা সম্মানজনক সংলাপের পরিবর্তে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান তৈরি করে। এতে করে বক্তব্যের শক্তি কমে যায়, বরং একটি অন্তর্নিহিত হতাশা বা পরাজয়ের ইঙ্গিত প্রকাশ পায়।

রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতবিরোধের ভাষা যদি শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আজকের প্রয়োজন দায়িত্বশীল ভাষা, যেখানে ইতিহাসের অবদানকে সম্মান জানিয়ে বর্তমানের বাস্তবতাকে গঠনমূলক ভাবে মোকাবিলা করা হবে। কারণ গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে ছোট করার মধ্যে নয়, বরং নিজেদের অবস্থানকে যুক্তি ও মর্যাদার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করার মধ্যেই নিহিত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জমিজমা সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকারের সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী

রাজনীতির ভাষা: মর্যাদা নাকি মুখোমুখি অবস্থান?

আপডেট সময় : ১১:০৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

জাতীয় সংসদ একটি দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মঞ্চ, এখানে ভাষা, আচরণ এবং উপস্থাপন সবই একটি জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে “আমরা রক্ত ঝরিয়েছি বলে আজ আপনারা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী” এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

মুক্তিযুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংগ্রামের অবদান অবশ্যই সম্মানের। কিন্তু সেই অবদানকে যদি বর্তমান নেতৃত্বকে ‘ঋণী’ বা ‘দায়বদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করার ভাষায় ব্যবহার করা হয়, তবে তা সম্মানজনক সংলাপের পরিবর্তে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান তৈরি করে। এতে করে বক্তব্যের শক্তি কমে যায়, বরং একটি অন্তর্নিহিত হতাশা বা পরাজয়ের ইঙ্গিত প্রকাশ পায়।

রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতবিরোধের ভাষা যদি শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আজকের প্রয়োজন দায়িত্বশীল ভাষা, যেখানে ইতিহাসের অবদানকে সম্মান জানিয়ে বর্তমানের বাস্তবতাকে গঠনমূলক ভাবে মোকাবিলা করা হবে। কারণ গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে ছোট করার মধ্যে নয়, বরং নিজেদের অবস্থানকে যুক্তি ও মর্যাদার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করার মধ্যেই নিহিত।