ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: কক্সবাজার রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মদিন আজ পবিত্র শবে কদরের ফজিলত ও করণীয় রামুর টমটম চালক জিহাদ হত্যার প্রধান আসামি ‘টিকটকার’ আঁখি গ্রেপ্তার ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮ ফ্লাইট বাতিল পেকুয়ায় আলোচিত মা–মেয়েকে সাজা দেওয়া সেই ইউএনও বদলি টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু সৈকতে প্রশাসনের অভিযান: সুগন্ধার পর এবার কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ রামুর উখিয়ারঘোনাতে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি কাজল বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা তেলের সংকট নেই, দাম বাড়ছে না: সেতুমন্ত্রী আজ পবিত্র শবে কদর হঠাৎ বৃষ্টি পর্যটন শহরে বিএসপিএ কক্সবাজার শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন তারেক অসুস্থ রোগীদের মাঝে ইফতার বিতরণ করলেন ছাত্রদল নেতা জনি

বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মদিন আজ

বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মদিন আজ।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্ম নেন তিনি। তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুন।

ব্রিটিশ শাসনামলে জন্ম নেওয়া বঙ্গবন্ধু কৈশোর থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে পড়ার সময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন। পরে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি তৎকালীন প্রখ্যাত নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের সান্নিধ্যে আসেন এবং ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। ’৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তার ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রামকে নতুন গতি দেয়। সেই বছরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক মর্মান্তিক ঘটনায় সপরিবারে নিহত হন তিনি।

পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন। পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরের প্রায় ১৩ বছরই তাকে বন্দি থাকতে হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আটটি জন্মদিন তিনি কারাগারেই কাটান।

বঙ্গবন্ধু নিজে জন্মদিন জাঁকজমকভাবে পালন করতেন না। সাধারণত দিনটি তিনি সাদামাটাভাবে কাটাতেন। পরিবারের সদস্যরা ঘরোয়া পরিবেশে শুভেচ্ছা জানাতেন, আর দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জন্মবার্ষিকী স্মরণ করতেন।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগ :

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: কক্সবাজার রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা

বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মদিন আজ

আপডেট সময় : ০২:৪৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মদিন আজ।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্ম নেন তিনি। তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুন।

ব্রিটিশ শাসনামলে জন্ম নেওয়া বঙ্গবন্ধু কৈশোর থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে পড়ার সময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন। পরে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি তৎকালীন প্রখ্যাত নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের সান্নিধ্যে আসেন এবং ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। ’৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তার ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রামকে নতুন গতি দেয়। সেই বছরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক মর্মান্তিক ঘটনায় সপরিবারে নিহত হন তিনি।

পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন। পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরের প্রায় ১৩ বছরই তাকে বন্দি থাকতে হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আটটি জন্মদিন তিনি কারাগারেই কাটান।

বঙ্গবন্ধু নিজে জন্মদিন জাঁকজমকভাবে পালন করতেন না। সাধারণত দিনটি তিনি সাদামাটাভাবে কাটাতেন। পরিবারের সদস্যরা ঘরোয়া পরিবেশে শুভেচ্ছা জানাতেন, আর দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জন্মবার্ষিকী স্মরণ করতেন।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন