ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে সাবেক এডিসি আশরাফুল আফসারের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর প্রকোপ : ৯ মাসে আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮২ জন, ১০ জনের মৃত্যু পেকুয়ায় ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা পরকীয়া ও অর্থ লেনদেনের বিরোধে চকরিয়ার ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা-পুলিশ : আরো ২ ঘাতক আটক জলদস্যু প্রতিরোধে বঙ্গোপসাগরে কোস্ট গার্ডের অভিযান জোরদার ভোক্তা-অধিকারের অভিযান: চকরিয়ায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা টেকনাফে জাল কাগজপত্রে ভোটার হওয়ার আবেদন, যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড টেকনাফে এসআরবির অভিযান ৫ লক্ষ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ একজন আদর্শ শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত? ছোলামুড়ি বিক্রির আড়ালে মাদক কারবার, ইয়াবাসহ আটক করলো পুলিশ কবি অমিত চৌধুরীর নাগরিক শোক সভা ৩১ অক্টোবর থানচিতে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫ লামায় ১৩ ইটভাটাকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা টেকনাফে বিজিবি ও এসআরবি’র যৌথ অভিযান: ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

মাটিতে পুঁতে আলোচিত ছৈয়দ হ/ত্যা, পালংখালীতে প্রকাশ্যে ঘুরছে আসামিরা

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় সিএনজি চালক ছৈয়দ মিয়া হত্যা মামলার বেশ কয়েকজন আসামি এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার আগের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছেন। এতে এলাকায় নতুন করে অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মামলার তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর রাতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেরুনতলী এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ মিয়াকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পালংখালী এলাকার জয়নাল নামের এক ব্যক্তি তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পাঁচ দিন পর, ১১ ডিসেম্বর, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের চাকমারকুল এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন তাঁর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো ছিল এবং মরদেহটি মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোকসানা জাহান বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয় (এফআইআর নং–৩১, জিআর নং–৯০৮)।

তবে ঘটনার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার বেশ কয়েকজন আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি পালংখালী এলাকায় ইয়াবা ছিনতাইয়ের একটি ঘটনায়ও এ মামলার কয়েকজন আসামির নাম এসেছে।

ওই ঘটনার প্রধান আসামি হিসেবে পালংখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া এলাকার হান্নান মিয়ার ছেলে নিশানের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া হান্নান মিয়া ও তাঁর দুই ছেলে জাহেদ হোসেন (২৫) এবং আখতার হোসেন (২৮)ও বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় রয়েছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত ছৈয়দ মিয়ার বাবা আব্দুল জলিল বলেন, ‘ঘটনার এত দিন পার হয়ে গেল, কিন্তু আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত তাঁদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করা হোক।’

মামলার ৬ নম্বর আসামি আখতার হোসেন পালংখালীর গয়ালমারা এলাকায় একটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার হাসপাতালে কর্মরত। তবে সম্প্রতি একটি ইয়াবা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ছৈয়দ মিয়া হত্যা মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। ঘটনাটি অনেকটাই ক্লু–লেস ছিল। ইতিমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে ইয়াবা কারবারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

ট্যাগ :

কক্সবাজারে সাবেক এডিসি আশরাফুল আফসারের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল

মাটিতে পুঁতে আলোচিত ছৈয়দ হ/ত্যা, পালংখালীতে প্রকাশ্যে ঘুরছে আসামিরা

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় সিএনজি চালক ছৈয়দ মিয়া হত্যা মামলার বেশ কয়েকজন আসামি এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার আগের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছেন। এতে এলাকায় নতুন করে অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মামলার তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর রাতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেরুনতলী এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ মিয়াকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পালংখালী এলাকার জয়নাল নামের এক ব্যক্তি তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পাঁচ দিন পর, ১১ ডিসেম্বর, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের চাকমারকুল এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন তাঁর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো ছিল এবং মরদেহটি মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোকসানা জাহান বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয় (এফআইআর নং–৩১, জিআর নং–৯০৮)।

তবে ঘটনার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার বেশ কয়েকজন আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি পালংখালী এলাকায় ইয়াবা ছিনতাইয়ের একটি ঘটনায়ও এ মামলার কয়েকজন আসামির নাম এসেছে।

ওই ঘটনার প্রধান আসামি হিসেবে পালংখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া এলাকার হান্নান মিয়ার ছেলে নিশানের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া হান্নান মিয়া ও তাঁর দুই ছেলে জাহেদ হোসেন (২৫) এবং আখতার হোসেন (২৮)ও বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় রয়েছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত ছৈয়দ মিয়ার বাবা আব্দুল জলিল বলেন, ‘ঘটনার এত দিন পার হয়ে গেল, কিন্তু আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত তাঁদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করা হোক।’

মামলার ৬ নম্বর আসামি আখতার হোসেন পালংখালীর গয়ালমারা এলাকায় একটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার হাসপাতালে কর্মরত। তবে সম্প্রতি একটি ইয়াবা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ছৈয়দ মিয়া হত্যা মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। ঘটনাটি অনেকটাই ক্লু–লেস ছিল। ইতিমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে ইয়াবা কারবারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।