ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চসিক স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পাচ্ছেন কণ্ঠশিল্পী বুলবুল আকতার ফালংজিতে শুরু হলো “থানগ্রেং” পা ফোলা কি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নানার বাড়ির পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে ৩ অপহৃত উদ্ধার ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ মধ্যরাতে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে লোডশেডিং নাইক্ষ্যংছড়িতে সেতুর রেলিং থেকে পড়ে যুবকের প্রাণহানি কক্সবাজারে আসছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী: পরিদর্শন করবেন এসপিএমসহ মেগা প্রকল্প ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অফিস উদ্বোধন ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অফিস উদ্বোধন লামায় মাতামুহুরি নদীতে গোসলে নেমে এক পর্যটকের মৃত্যু সীমান্তে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ কক্সবাজার সরকারি কলেজে চালু হলো গনিত ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স

ফালংজিতে শুরু হলো “থানগ্রেং”

তপ্ত রোদের দুপুর। একদল তরুন নাচতে নাচতে এলো মন্ডপে। মন্ডপ প্রধান দিলো অনুমতি তারপর ছুড়া হলো জল জবাবে অপরপ্রান্ত থেকে জলজ জবাব দিলো তরুনী। এভাবেই শুরু হলো জল উৎসব।

কক্সবাজারকে রাখাইন ভাষায় বলা হয় ফালংজি ( সাহেবের বাজার) আর জল উৎসবের প্রকৃত উচ্চারণ হলো থানগ্রেং,যাকে সকলেই সাংগ্রেং বলে সমধিক ব্যবহার বা উচ্চারন করে থাকি।

সাগরের নীল জলরাশির জনপদ কক্সবাজারে ৩ দিনের জল উৎসবের শুরু হলো শুক্রবার থেকে।

রাখাইন নববর্ষকে বরণে বৈচিত্রপূর্ণ এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

পুরোনো বছরের সব গ্লানি, জরাকে ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতেই এই জল উৎসব।

এর আগে রাখাইন পল্লীগুলোতে মঙ্গল শোভাযাত্রা, বুদ্ধস্নান ও ধর্মীয় আচারের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয় ১৪ এপ্রিল থেকে। এরপরই পাড়ায় পাড়ায় তৈরি করা হয় জলকেলী প্যান্ডেল বা মন্ডপ। আর শুক্রবার দুপুর থেকেই জলে জলে তালে তালে উচ্ছাসে মাতে রাখাইন তারুণ্য।

বাদ্যের তালে, উচ্ছাসের নাচে, ঐতিহ্যের স্মারকে সজ্জিত রাখাইন তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে মাঙ্গলিক জলে ভিজিয়ে দেয়। রাখাইনদের বিশ্বাস, এই পবিত্র জলের ধারা জীবনকে শুদ্ধ করবে এবং আগামীর সুখ, শান্তি বিনির্মিত হবে।

কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মংছেংহ্লা জানান,এ বছর কক্সবাজার শহর ছাড়া হারবাং, মহেশখালী, চৌফলদন্ডি,টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকার রাখাইন পল্লীতে এই জল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই উৎসব সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগীতা প্রদানের কথা জানান তিনি।

রাখাইন ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতা মংমিউনাইং জানিয়েছেন, পর্যটন শহর কক্সবাজারে এবার ৯ টি জল উৎসবের প্যান্ডেল করা হয়েছে শহরের বাইরে বিভিন্ন উপজেলায় ৯ টি সহ জেলায় মোট ১৮ টি প্যান্ডেলে জল উৎসব হচ্ছে।

বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এই উৎসব দেখতে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয়দের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পর্যটকও।

রাখাইন বর্ষ ১৩৮৮ বরণের এই জল উৎসব শেষ হবে ১৯ এপ্রিল।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফালংজিতে শুরু হলো “থানগ্রেং”

আপডেট সময় : ০৫:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

তপ্ত রোদের দুপুর। একদল তরুন নাচতে নাচতে এলো মন্ডপে। মন্ডপ প্রধান দিলো অনুমতি তারপর ছুড়া হলো জল জবাবে অপরপ্রান্ত থেকে জলজ জবাব দিলো তরুনী। এভাবেই শুরু হলো জল উৎসব।

কক্সবাজারকে রাখাইন ভাষায় বলা হয় ফালংজি ( সাহেবের বাজার) আর জল উৎসবের প্রকৃত উচ্চারণ হলো থানগ্রেং,যাকে সকলেই সাংগ্রেং বলে সমধিক ব্যবহার বা উচ্চারন করে থাকি।

সাগরের নীল জলরাশির জনপদ কক্সবাজারে ৩ দিনের জল উৎসবের শুরু হলো শুক্রবার থেকে।

রাখাইন নববর্ষকে বরণে বৈচিত্রপূর্ণ এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

পুরোনো বছরের সব গ্লানি, জরাকে ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতেই এই জল উৎসব।

এর আগে রাখাইন পল্লীগুলোতে মঙ্গল শোভাযাত্রা, বুদ্ধস্নান ও ধর্মীয় আচারের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয় ১৪ এপ্রিল থেকে। এরপরই পাড়ায় পাড়ায় তৈরি করা হয় জলকেলী প্যান্ডেল বা মন্ডপ। আর শুক্রবার দুপুর থেকেই জলে জলে তালে তালে উচ্ছাসে মাতে রাখাইন তারুণ্য।

বাদ্যের তালে, উচ্ছাসের নাচে, ঐতিহ্যের স্মারকে সজ্জিত রাখাইন তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে মাঙ্গলিক জলে ভিজিয়ে দেয়। রাখাইনদের বিশ্বাস, এই পবিত্র জলের ধারা জীবনকে শুদ্ধ করবে এবং আগামীর সুখ, শান্তি বিনির্মিত হবে।

কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মংছেংহ্লা জানান,এ বছর কক্সবাজার শহর ছাড়া হারবাং, মহেশখালী, চৌফলদন্ডি,টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকার রাখাইন পল্লীতে এই জল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই উৎসব সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগীতা প্রদানের কথা জানান তিনি।

রাখাইন ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতা মংমিউনাইং জানিয়েছেন, পর্যটন শহর কক্সবাজারে এবার ৯ টি জল উৎসবের প্যান্ডেল করা হয়েছে শহরের বাইরে বিভিন্ন উপজেলায় ৯ টি সহ জেলায় মোট ১৮ টি প্যান্ডেলে জল উৎসব হচ্ছে।

বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এই উৎসব দেখতে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয়দের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পর্যটকও।

রাখাইন বর্ষ ১৩৮৮ বরণের এই জল উৎসব শেষ হবে ১৯ এপ্রিল।