ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব টেকনাফের বাহারছড়ায় বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে কৃষক রফিককে অপহরণ ধর্মের পরিচয়ে নয়, নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান” মহানবমীতে মন্ডপে মন্ডপে মানুষের ঢল ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করার চিন্তা রয়েছে সরকারের: মাতামুহুরীতে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ‎ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় ‎ছাবের ডাকাতের স্ত্রী সন্তান গ্রেফতার : লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সৈকতে : প্রধান অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ পেকুয়ায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক ছাফওয়ান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯ আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান

পাশের হার নয়, শেখার অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিন’ শিক্ষা উপদেষ্টা

  • টিটিএন ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • 407

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি সহজ নয়—না শিক্ষার্থীদের জন্য, না অভিভাবকদের জন্য, না শিক্ষা প্রশাসনের জন্য। ফলাফল মানে শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি পরিবার, আশা, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যতের গল্প।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা ভালো ফল করেছে, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। তবে যাদের ফল প্রত্যাশামতো হয়নি, তাদের প্রতিও আমার সহানুভূতি রইল। এই মুহূর্তও শেখার অংশ—হতাশ না হয়ে শেখার অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিতে হবে।’

ড. আবরার বলেন, এ বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনেককে বিস্মিত করেছে। পাশের হার ও জিপিএ–৫ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম। বাংলাদেশে শেখার সংকট শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকেই। বছরের পর বছর শেখার ঘাটতি জমে গেছে, কিন্তু আমরা দীর্ঘদিন বাস্তবতাকে স্বীকার করিনি। আমরা এমন এক সংস্কৃতি গড়ে তুলেছি যেখানে পাশের হারই সাফল্যের প্রতীক, জিপিএ–৫–এর সংখ্যা ছিল তৃপ্তির মানদণ্ড। ফলাফল ভালো দেখাতে গিয়ে আমরা প্রকৃত শেখার সংকট আড়াল করেছি। আজ আমি সেই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই।’

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, এখন থেকে শিক্ষার মূল্যায়নে আসল শেখাকেই মানদণ্ড ধরা হবে। যে ফলাফল শিক্ষার্থীর শেখাকে সত্যিকারের প্রতিফলিত করে, সেটিই হোক আমাদের সাফল্যের মানদণ্ড।

মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি সকল শিক্ষাবোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি যেন ভবিষ্যৎ পরীক্ষায় সীমান্তরেখায় থাকা শিক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায্যতা বজায় রাখা হয়, কিন্তু ফলাফলের বাস্তবতা বিকৃত না হয়। আমরা অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে সন্তুষ্টি নয়, বরং ন্যায্য নম্বর দিয়ে সততা বেছে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত সহজ নয়, কিন্তু প্রয়োজনীয়। আজ যদি আমরা সাহস করে বাস্তবতা স্বীকার না করি, তাহলে মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় করব।’

ড. আবরার বলেন, ‘আমি এই ফলাফলকে ব্যর্থতা নয়, বরং আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখছি। এখনই সময় নিজেদের এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে সৎভাবে মূল্যায়ন করার।”

সূত্র- সমকাল

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব

পাশের হার নয়, শেখার অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিন’ শিক্ষা উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি সহজ নয়—না শিক্ষার্থীদের জন্য, না অভিভাবকদের জন্য, না শিক্ষা প্রশাসনের জন্য। ফলাফল মানে শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি পরিবার, আশা, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যতের গল্প।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা ভালো ফল করেছে, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। তবে যাদের ফল প্রত্যাশামতো হয়নি, তাদের প্রতিও আমার সহানুভূতি রইল। এই মুহূর্তও শেখার অংশ—হতাশ না হয়ে শেখার অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিতে হবে।’

ড. আবরার বলেন, এ বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনেককে বিস্মিত করেছে। পাশের হার ও জিপিএ–৫ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম। বাংলাদেশে শেখার সংকট শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকেই। বছরের পর বছর শেখার ঘাটতি জমে গেছে, কিন্তু আমরা দীর্ঘদিন বাস্তবতাকে স্বীকার করিনি। আমরা এমন এক সংস্কৃতি গড়ে তুলেছি যেখানে পাশের হারই সাফল্যের প্রতীক, জিপিএ–৫–এর সংখ্যা ছিল তৃপ্তির মানদণ্ড। ফলাফল ভালো দেখাতে গিয়ে আমরা প্রকৃত শেখার সংকট আড়াল করেছি। আজ আমি সেই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই।’

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, এখন থেকে শিক্ষার মূল্যায়নে আসল শেখাকেই মানদণ্ড ধরা হবে। যে ফলাফল শিক্ষার্থীর শেখাকে সত্যিকারের প্রতিফলিত করে, সেটিই হোক আমাদের সাফল্যের মানদণ্ড।

মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি সকল শিক্ষাবোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি যেন ভবিষ্যৎ পরীক্ষায় সীমান্তরেখায় থাকা শিক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায্যতা বজায় রাখা হয়, কিন্তু ফলাফলের বাস্তবতা বিকৃত না হয়। আমরা অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে সন্তুষ্টি নয়, বরং ন্যায্য নম্বর দিয়ে সততা বেছে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত সহজ নয়, কিন্তু প্রয়োজনীয়। আজ যদি আমরা সাহস করে বাস্তবতা স্বীকার না করি, তাহলে মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় করব।’

ড. আবরার বলেন, ‘আমি এই ফলাফলকে ব্যর্থতা নয়, বরং আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখছি। এখনই সময় নিজেদের এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে সৎভাবে মূল্যায়ন করার।”

সূত্র- সমকাল