ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আগামীতে ফুটবলের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে চিনবে বিশ্ববাসী ‘বাবার বুকে তুমি চিরদিন থাকবে, আল্লাহ তোমাকে বেহেশত নসিব করুক’ বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক-বেশী লাভের আশায় ওজনে কম দেয়া যাবে না উখিয়ায় ডাম্পারের চাপায় নারীর মৃত্যু; শিশুসহ আহত ৩ সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা মামলায় ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন নাফ নদী পেরিয়ে ইয়াবার চালান, পিস্তলসহ পাচারকারী আটক আনসার বাহিনী প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে: প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আনা গরুসহ ট্রাক জব্দ, আটক ৫ মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসানো যাবে না -জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত উখিয়ায় মানববন্ধন করে আলোচিত ‘ছৈয়দাখাতুন’ হত্যা মামলা প্রত্যাহার দাবি! জাতিসত্তার কবি নূরুল হুদার জন্মভিটায় চুরি, উধাও ২০০ বছরের পুরনো সিন্ধুক ওশান প্যারাডাইসে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি: শতাধিক কর্মীর ব্লাড গ্রুপিং, ১২ জনের রক্ত সংগ্রহ কুতুবদিয়া ৩দিন ব্যাপী ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন মহেশখালীতে জমকালো আয়োজনে ‘ভূমিসেবা মেলা’ উদ্বোধন

প্রফেসর আখতার বাদী: কক্সবাজারের দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে প্রাপ্য অর্থ ছাড়ে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রহিম এ মামলা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথি তলবের নির্দেশ দেন।

অভিযুক্তরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী অনিক দে এবং নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রফেসর আখতার আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে কুতুবদিয়ার বাসিন্দা ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ধার দেন প্রফেসর আখতার আলম। পরে দেনাদার টাকা পরিশোধে গড়িমসি করলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত বিবাদীকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বিবাদীর নামে বরাদ্দ অর্থ থেকে পাওনা টাকা পরিশোধের আবেদন করা হয়। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পাওনা অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি আটকে রাখেন। পরে ২০২৫ সালে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হলে আবারও অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিম উদ্দিন আহমদ ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব যোগসাজশে প্রাপ্য অর্থ ছাড়ের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট আরও দুই কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে।

এ ঘটনায় পুনরায় আদালতে আবেদন করলে বিচারক মো. আবদুর রহিম মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথি তলবের নির্দেশ দেন।

আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি করার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলাটি গ্রহণ করেছেন।”

মামলার বাদী প্রফেসর আখতার আলম বলেন, “আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালতের আদেশে আমি সন্তুষ্ট এবং আশা করছি সুষ্ঠু বিচার পাব।”

ঘটনাটি নিয়ে কক্সবাজারে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে মামলা গ্রহণের ঘটনা জনমনে কৌতূহল বাড়িয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আগামীতে ফুটবলের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে চিনবে বিশ্ববাসী

প্রফেসর আখতার বাদী: কক্সবাজারের দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৫:২৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে প্রাপ্য অর্থ ছাড়ে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রহিম এ মামলা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথি তলবের নির্দেশ দেন।

অভিযুক্তরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী অনিক দে এবং নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রফেসর আখতার আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে কুতুবদিয়ার বাসিন্দা ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ধার দেন প্রফেসর আখতার আলম। পরে দেনাদার টাকা পরিশোধে গড়িমসি করলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত বিবাদীকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বিবাদীর নামে বরাদ্দ অর্থ থেকে পাওনা টাকা পরিশোধের আবেদন করা হয়। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পাওনা অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি আটকে রাখেন। পরে ২০২৫ সালে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হলে আবারও অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিম উদ্দিন আহমদ ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব যোগসাজশে প্রাপ্য অর্থ ছাড়ের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট আরও দুই কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে।

এ ঘটনায় পুনরায় আদালতে আবেদন করলে বিচারক মো. আবদুর রহিম মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথি তলবের নির্দেশ দেন।

আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি করার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলাটি গ্রহণ করেছেন।”

মামলার বাদী প্রফেসর আখতার আলম বলেন, “আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালতের আদেশে আমি সন্তুষ্ট এবং আশা করছি সুষ্ঠু বিচার পাব।”

ঘটনাটি নিয়ে কক্সবাজারে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে মামলা গ্রহণের ঘটনা জনমনে কৌতূহল বাড়িয়েছে।