ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই টেকনাফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০ পরিবারকে জরুরি সহায়তা দিচ্ছে যুব সংগঠন কক্সবাজারের বন্যার্তদের মাঝে জেলা ছাত্রদলের শুকনো খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ পাহাড়ধস : রান্না ঘরে প্রাণ গেলো কলাতলীর গৃহবধূ রোজিনার চকরিয়া-মাতামুহুরীতে খাবার আর বিশুদ্ধ পানির সংকট পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ইয়াবা লুট চক্রের রবিউল ইসলাম বাবুর নতুন কৌশল! তথ্য উদ্ধারকারী জিল্লুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা : স্বীকার করলেন ওসি চকরিয়ার কৈয়ারবিলে বন্যার পানিতে কিশোর নিখোঁজ পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতিটির দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পেকুয়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ বিতরণ বালুখালীতে মহাসড়কের উপর ‘অবৈধ’ পানের হাট, জনভোগান্তি সরকারি নির্দেশনা মানছেনা : কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে মা হাতি আহত

প্রফেসর আখতার বাদী: কক্সবাজারের দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে প্রাপ্য অর্থ ছাড়ে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রহিম এ মামলা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথি তলবের নির্দেশ দেন।

অভিযুক্তরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী অনিক দে এবং নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রফেসর আখতার আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে কুতুবদিয়ার বাসিন্দা ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ধার দেন প্রফেসর আখতার আলম। পরে দেনাদার টাকা পরিশোধে গড়িমসি করলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত বিবাদীকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বিবাদীর নামে বরাদ্দ অর্থ থেকে পাওনা টাকা পরিশোধের আবেদন করা হয়। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পাওনা অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি আটকে রাখেন। পরে ২০২৫ সালে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হলে আবারও অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিম উদ্দিন আহমদ ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব যোগসাজশে প্রাপ্য অর্থ ছাড়ের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট আরও দুই কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে।

এ ঘটনায় পুনরায় আদালতে আবেদন করলে বিচারক মো. আবদুর রহিম মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথি তলবের নির্দেশ দেন।

আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি করার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলাটি গ্রহণ করেছেন।”

মামলার বাদী প্রফেসর আখতার আলম বলেন, “আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালতের আদেশে আমি সন্তুষ্ট এবং আশা করছি সুষ্ঠু বিচার পাব।”

ঘটনাটি নিয়ে কক্সবাজারে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে মামলা গ্রহণের ঘটনা জনমনে কৌতূহল বাড়িয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

প্রফেসর আখতার বাদী: কক্সবাজারের দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৫:২৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে প্রাপ্য অর্থ ছাড়ে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রহিম এ মামলা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথি তলবের নির্দেশ দেন।

অভিযুক্তরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী অনিক দে এবং নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রফেসর আখতার আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে কুতুবদিয়ার বাসিন্দা ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ধার দেন প্রফেসর আখতার আলম। পরে দেনাদার টাকা পরিশোধে গড়িমসি করলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত বিবাদীকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বিবাদীর নামে বরাদ্দ অর্থ থেকে পাওনা টাকা পরিশোধের আবেদন করা হয়। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পাওনা অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি আটকে রাখেন। পরে ২০২৫ সালে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হলে আবারও অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিম উদ্দিন আহমদ ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব যোগসাজশে প্রাপ্য অর্থ ছাড়ের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট আরও দুই কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে।

এ ঘটনায় পুনরায় আদালতে আবেদন করলে বিচারক মো. আবদুর রহিম মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথি তলবের নির্দেশ দেন।

আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি করার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলাটি গ্রহণ করেছেন।”

মামলার বাদী প্রফেসর আখতার আলম বলেন, “আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালতের আদেশে আমি সন্তুষ্ট এবং আশা করছি সুষ্ঠু বিচার পাব।”

ঘটনাটি নিয়ে কক্সবাজারে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে মামলা গ্রহণের ঘটনা জনমনে কৌতূহল বাড়িয়েছে।