ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ কুতুবদিয়ায় লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতু ধসে পড়েছে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও ৩৬৭ কোটি টাকা পাচ্ছে ব্রাজিল ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস আজ ভারীবর্ষণে পাহাড়ধস – একরাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত ৮,শহরে ১ জনের মৃত্যু গেলো ২৪ ঘন্টায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি : বাড়ছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড(পশ্চিম) শাখা যুবদলের সভাপতি মিজান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ‎ ওয়াটার সেইফটি এন্ড ড্রাউনিং প্রিভেনশন: জেসিআই কক্সবাজারের ‘বে গার্ডিয়ানস ইনিশিয়েটিভ’র উদ্বোধন অপহরণের এক সপ্তাহ পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরলেন বাহারছড়ার পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিন টেকনাফে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতার হাতে শিবির কর্মী খুন,বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলোনা নিহত শফিউল্লাহর লোহাগাড়ায় ডাম্পার-সিএনজির সংঘর্ষ,আহত-৪

চুক্তির দাম না পেয়ে বিপাকে ১২ হাজার কৃষক:চকরিয়ায় তামাকচাষিদের বিক্ষোভ

চকরিয়া উপজেলায় চুক্তি অনুযায়ী তামাকের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে অন্তত ১২ হাজার চাষি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। টোব্যাকো কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে কম দামে তামাক কিনতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে চকরিয়া-মানিকপুর সড়কে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ কৃষক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সুরাজপুর মানিকপুর, কাকারা ও বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের তামাকচাষিরা দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আগাম চুক্তির ভিত্তিতে তামাক উৎপাদন করে আসছেন। চুক্তি অনুযায়ী মৌসুম শেষে নির্ধারিত মূল্যে তামাক কেনার কথা থাকলেও এ বছর হঠাৎ করে ‘গ্রেড ভালো নয়’ অজুহাত দেখিয়ে কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিরা তামাক নিচ্ছেন না। এতে চাষিরা উৎপাদিত তামাক ঘরে বা অস্থায়ী গুদামে রেখে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নের তরুণ রাজনীতিবিদ সাইফুল কবির চৌধুরী। তিনি ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ শোনেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেন।

সাইফুল কবির চৌধুরী বলেন, “চকরিয়ার অন্তত ১২ হাজার কৃষক দীর্ঘদিন ধরে তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত। তারা আগে থেকেই আকিজ টোব্যাকো, আবুল খায়ের টোব্যাকো, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে মূল্য নির্ধারণ করে চাষ করেন। কিন্তু এবার তামাক কেনার সময় এসে স্থানীয়ভাবে সিন্ডিকেট করে কম দামে কেনার চেষ্টা চলছে।”

তিনি আরও জানান, চুল্লিতে পোড়ানো শেষে তামাকের বান্ডিল বাইন সেন্টারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে কোম্পানিগুলো তা গ্রহণ করছে না। ফলে খোলা আকাশের নিচে বা ঘরে সংরক্ষণ করতে গিয়ে তামাক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক চাষি জানান, জমি বর্গা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি—সবকিছুর খরচ এ বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ এখন তামাকের মান খারাপ বলে দাবি করে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। চাষি আজিম উদ্দিন বলেন, “এভাবে চললে আমাদের পথে বসতে হবে।”

চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, “এই তিন ইউনিয়নের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের জীবিকা তামাক চাষের ওপর নির্ভরশীল। নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত ক্ষতির মাঝেও মানুষ পরিবার টিকিয়ে রাখতে এই চাষ করে। এখন যদি ন্যায্য দাম না পায়, তাহলে তারা চরম বিপদে পড়বে।”

তিনি তামাকচাষিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, “বিক্ষোভের বিষয়টি আগে কেউ জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডেকে এনে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে তামাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

চুক্তির দাম না পেয়ে বিপাকে ১২ হাজার কৃষক:চকরিয়ায় তামাকচাষিদের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১০:৩২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

চকরিয়া উপজেলায় চুক্তি অনুযায়ী তামাকের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে অন্তত ১২ হাজার চাষি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। টোব্যাকো কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে কম দামে তামাক কিনতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে চকরিয়া-মানিকপুর সড়কে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ কৃষক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সুরাজপুর মানিকপুর, কাকারা ও বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের তামাকচাষিরা দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আগাম চুক্তির ভিত্তিতে তামাক উৎপাদন করে আসছেন। চুক্তি অনুযায়ী মৌসুম শেষে নির্ধারিত মূল্যে তামাক কেনার কথা থাকলেও এ বছর হঠাৎ করে ‘গ্রেড ভালো নয়’ অজুহাত দেখিয়ে কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিরা তামাক নিচ্ছেন না। এতে চাষিরা উৎপাদিত তামাক ঘরে বা অস্থায়ী গুদামে রেখে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নের তরুণ রাজনীতিবিদ সাইফুল কবির চৌধুরী। তিনি ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ শোনেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেন।

সাইফুল কবির চৌধুরী বলেন, “চকরিয়ার অন্তত ১২ হাজার কৃষক দীর্ঘদিন ধরে তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত। তারা আগে থেকেই আকিজ টোব্যাকো, আবুল খায়ের টোব্যাকো, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে মূল্য নির্ধারণ করে চাষ করেন। কিন্তু এবার তামাক কেনার সময় এসে স্থানীয়ভাবে সিন্ডিকেট করে কম দামে কেনার চেষ্টা চলছে।”

তিনি আরও জানান, চুল্লিতে পোড়ানো শেষে তামাকের বান্ডিল বাইন সেন্টারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে কোম্পানিগুলো তা গ্রহণ করছে না। ফলে খোলা আকাশের নিচে বা ঘরে সংরক্ষণ করতে গিয়ে তামাক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক চাষি জানান, জমি বর্গা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি—সবকিছুর খরচ এ বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ এখন তামাকের মান খারাপ বলে দাবি করে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। চাষি আজিম উদ্দিন বলেন, “এভাবে চললে আমাদের পথে বসতে হবে।”

চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, “এই তিন ইউনিয়নের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের জীবিকা তামাক চাষের ওপর নির্ভরশীল। নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত ক্ষতির মাঝেও মানুষ পরিবার টিকিয়ে রাখতে এই চাষ করে। এখন যদি ন্যায্য দাম না পায়, তাহলে তারা চরম বিপদে পড়বে।”

তিনি তামাকচাষিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, “বিক্ষোভের বিষয়টি আগে কেউ জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডেকে এনে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে তামাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।