চকরিয়া উপজেলায় চুক্তি অনুযায়ী তামাকের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে অন্তত ১২ হাজার চাষি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। টোব্যাকো কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে কম দামে তামাক কিনতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে চকরিয়া-মানিকপুর সড়কে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ কৃষক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সুরাজপুর মানিকপুর, কাকারা ও বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের তামাকচাষিরা দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আগাম চুক্তির ভিত্তিতে তামাক উৎপাদন করে আসছেন। চুক্তি অনুযায়ী মৌসুম শেষে নির্ধারিত মূল্যে তামাক কেনার কথা থাকলেও এ বছর হঠাৎ করে ‘গ্রেড ভালো নয়’ অজুহাত দেখিয়ে কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিরা তামাক নিচ্ছেন না। এতে চাষিরা উৎপাদিত তামাক ঘরে বা অস্থায়ী গুদামে রেখে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নের তরুণ রাজনীতিবিদ সাইফুল কবির চৌধুরী। তিনি ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ শোনেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেন।
সাইফুল কবির চৌধুরী বলেন, “চকরিয়ার অন্তত ১২ হাজার কৃষক দীর্ঘদিন ধরে তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত। তারা আগে থেকেই আকিজ টোব্যাকো, আবুল খায়ের টোব্যাকো, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে মূল্য নির্ধারণ করে চাষ করেন। কিন্তু এবার তামাক কেনার সময় এসে স্থানীয়ভাবে সিন্ডিকেট করে কম দামে কেনার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও জানান, চুল্লিতে পোড়ানো শেষে তামাকের বান্ডিল বাইন সেন্টারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে কোম্পানিগুলো তা গ্রহণ করছে না। ফলে খোলা আকাশের নিচে বা ঘরে সংরক্ষণ করতে গিয়ে তামাক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক চাষি জানান, জমি বর্গা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি—সবকিছুর খরচ এ বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ এখন তামাকের মান খারাপ বলে দাবি করে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। চাষি আজিম উদ্দিন বলেন, “এভাবে চললে আমাদের পথে বসতে হবে।”
চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, “এই তিন ইউনিয়নের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের জীবিকা তামাক চাষের ওপর নির্ভরশীল। নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত ক্ষতির মাঝেও মানুষ পরিবার টিকিয়ে রাখতে এই চাষ করে। এখন যদি ন্যায্য দাম না পায়, তাহলে তারা চরম বিপদে পড়বে।”
তিনি তামাকচাষিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, “বিক্ষোভের বিষয়টি আগে কেউ জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডেকে এনে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে তামাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
বিশেষ প্রতিবেদক: 
























