ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙে রাঙল টেকনাফ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় কক্সবাজারের সন্তান শামীমুর রহমান ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সময়সূচি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু: এলাকায় শোকের ছায়া কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন মহেশখালীতে মাছ ধরার সময় হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু সেন্টমার্টিনে বিশাল অজগর ! উখিয়া থেকে অপহৃত যুবক টেকনাফে উদ্ধার বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ উখিয়ার আলোচিত ‘মা’ হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচার চাওয়া স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে অব্যাহতি প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর: চকরিয়া-পেকুয়ায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও জনসভায় ভাষণ দেবেন পিকআপভর্তি চোলাই মদ জব্দ, আটক ৫ ৩৬ বছরে পদার্পণ করলো দৈনিক কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি ফারুক, সা: সম্পাদক- আজিজ বড় বাজারে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা,ফেনসিডিলসহ কয়েক প্রকার মাদক:নেপথ্যে “কিং”!

সহকারী বন সংরক্ষক শাহীনুর ইসলামের বিবৃতি

সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগসমূহ প্রচারিত হয়েছে, আমি সেগুলো সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি এবং দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে বলে আমি মনে করি।

আমি, শাহীনুর ইসলাম, দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার কর্মজীবনে সর্বদা আইন ও বিধি-বিধান মেনে বন সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বনভূমি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। আমার দায়িত্ব পালনের কারণে কিছু অসাধু ও স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

সম্প্রতি যে ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে—যেমন গাড়ি আটক, অর্থ লেনদেনের অভিযোগ কিংবা অবৈধভাবে গাড়ি ছাড়ার বিষয়—এসবের সাথে আমার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত। কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, অফিসিয়াল নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই আমার নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমার ব্যক্তিগত সম্মানহানিকর।

আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমি দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। পূর্বে যেসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, সেগুলোতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ যাওয়ার বিষয়টি বন বিভাগের আওতাভুক্ত নয়। একইভাবে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ঘরগুলো কোনো অবস্থাতেই উচ্ছেদ করা হয়নি।

কুতুপালং এলাকায় তিনতলা ভবন নির্মাণের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় ভবন অপসারণের অনুমতি নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া রাজাপালংয়ের হাতিমুড়ায় কোনো ডাম্পার আটক করা হয়নি—টাকা নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া।

আমি দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো টমটম আটক করে রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসা হয়নি। বালুখালী এলাকায় পরিচালিত অভিযানের সময় আমি প্রশিক্ষণে ছিলাম; পরবর্তীতে এ বিষয়ে মামলা হয়েছে বলে জেনেছি।

পাহাড় কাটা, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং গাছ চুরির সঙ্গে জড়িত যেসব ডাম্পার জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে বন আইনের আওতায় যথাযথ মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আমি আরও উল্লেখ করতে চাই, প্রচারিত সংবাদটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার, মনগড়া ও ভিত্তিহীন।

এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা কেবল আমার ব্যক্তিগত সুনাম নয়, বরং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ণ করে।

আমি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি অনুরোধ জানাই, কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া একতরফা অভিযোগ প্রচার না করতে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করতে। অন্যথায় একজন সরকারি কর্মকর্তার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা কাম্য নয়।

পরিশেষে আমি আশাবাদী, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রকৃত বাস্তবতা জনগণের সামনে পরিষ্কার হবে। আমি আমার পেশাগত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শাহীনুর ইসলাম

সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ)

তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সহকারী বন সংরক্ষক শাহীনুর ইসলামের বিবৃতি

আপডেট সময় : ১১:১৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগসমূহ প্রচারিত হয়েছে, আমি সেগুলো সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি এবং দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে বলে আমি মনে করি।

আমি, শাহীনুর ইসলাম, দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার কর্মজীবনে সর্বদা আইন ও বিধি-বিধান মেনে বন সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বনভূমি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। আমার দায়িত্ব পালনের কারণে কিছু অসাধু ও স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

সম্প্রতি যে ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে—যেমন গাড়ি আটক, অর্থ লেনদেনের অভিযোগ কিংবা অবৈধভাবে গাড়ি ছাড়ার বিষয়—এসবের সাথে আমার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত। কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, অফিসিয়াল নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই আমার নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমার ব্যক্তিগত সম্মানহানিকর।

আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমি দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। পূর্বে যেসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, সেগুলোতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ যাওয়ার বিষয়টি বন বিভাগের আওতাভুক্ত নয়। একইভাবে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ঘরগুলো কোনো অবস্থাতেই উচ্ছেদ করা হয়নি।

কুতুপালং এলাকায় তিনতলা ভবন নির্মাণের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় ভবন অপসারণের অনুমতি নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া রাজাপালংয়ের হাতিমুড়ায় কোনো ডাম্পার আটক করা হয়নি—টাকা নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া।

আমি দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো টমটম আটক করে রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসা হয়নি। বালুখালী এলাকায় পরিচালিত অভিযানের সময় আমি প্রশিক্ষণে ছিলাম; পরবর্তীতে এ বিষয়ে মামলা হয়েছে বলে জেনেছি।

পাহাড় কাটা, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং গাছ চুরির সঙ্গে জড়িত যেসব ডাম্পার জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে বন আইনের আওতায় যথাযথ মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আমি আরও উল্লেখ করতে চাই, প্রচারিত সংবাদটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার, মনগড়া ও ভিত্তিহীন।

এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা কেবল আমার ব্যক্তিগত সুনাম নয়, বরং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ণ করে।

আমি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি অনুরোধ জানাই, কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া একতরফা অভিযোগ প্রচার না করতে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করতে। অন্যথায় একজন সরকারি কর্মকর্তার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা কাম্য নয়।

পরিশেষে আমি আশাবাদী, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রকৃত বাস্তবতা জনগণের সামনে পরিষ্কার হবে। আমি আমার পেশাগত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শাহীনুর ইসলাম

সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ)

তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬