ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে একনলা বন্দুকসহ ‘ডাকাত’ করিম আটক পেকুয়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত ৪০ শিক্ষার্থী চাকুরি পেছনে না ঘুরে নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে চাকুরি দাতা হোন- জেলা প্রশাসক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী আজ অবশেষে ইশরাকের ঘোষণা, পদত্যাগ করবেন দুপুরে জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ লোহাগাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে দুই মৃত্যু, কিশোরীর পর সাবেক স্কুল দপ্তরীর মরদেহ উদ্ধার মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লোহাগাড়ায় হেফজখানার শিক্ষক জাফর আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা উখিয়ার নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র টেকনাফে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পুজামন্ডপ পরিদর্শন করবেন : দুই দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু

সহকারী বন সংরক্ষক শাহীনুর ইসলামের বিবৃতি

সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগসমূহ প্রচারিত হয়েছে, আমি সেগুলো সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি এবং দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে বলে আমি মনে করি।

আমি, শাহীনুর ইসলাম, দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার কর্মজীবনে সর্বদা আইন ও বিধি-বিধান মেনে বন সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বনভূমি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। আমার দায়িত্ব পালনের কারণে কিছু অসাধু ও স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

সম্প্রতি যে ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে—যেমন গাড়ি আটক, অর্থ লেনদেনের অভিযোগ কিংবা অবৈধভাবে গাড়ি ছাড়ার বিষয়—এসবের সাথে আমার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত। কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, অফিসিয়াল নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই আমার নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমার ব্যক্তিগত সম্মানহানিকর।

আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমি দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। পূর্বে যেসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, সেগুলোতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ যাওয়ার বিষয়টি বন বিভাগের আওতাভুক্ত নয়। একইভাবে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ঘরগুলো কোনো অবস্থাতেই উচ্ছেদ করা হয়নি।

কুতুপালং এলাকায় তিনতলা ভবন নির্মাণের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় ভবন অপসারণের অনুমতি নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া রাজাপালংয়ের হাতিমুড়ায় কোনো ডাম্পার আটক করা হয়নি—টাকা নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া।

আমি দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো টমটম আটক করে রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসা হয়নি। বালুখালী এলাকায় পরিচালিত অভিযানের সময় আমি প্রশিক্ষণে ছিলাম; পরবর্তীতে এ বিষয়ে মামলা হয়েছে বলে জেনেছি।

পাহাড় কাটা, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং গাছ চুরির সঙ্গে জড়িত যেসব ডাম্পার জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে বন আইনের আওতায় যথাযথ মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আমি আরও উল্লেখ করতে চাই, প্রচারিত সংবাদটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার, মনগড়া ও ভিত্তিহীন।

এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা কেবল আমার ব্যক্তিগত সুনাম নয়, বরং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ণ করে।

আমি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি অনুরোধ জানাই, কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া একতরফা অভিযোগ প্রচার না করতে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করতে। অন্যথায় একজন সরকারি কর্মকর্তার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা কাম্য নয়।

পরিশেষে আমি আশাবাদী, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রকৃত বাস্তবতা জনগণের সামনে পরিষ্কার হবে। আমি আমার পেশাগত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শাহীনুর ইসলাম

সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ)

তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে একনলা বন্দুকসহ ‘ডাকাত’ করিম আটক

সহকারী বন সংরক্ষক শাহীনুর ইসলামের বিবৃতি

আপডেট সময় : ১১:১৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগসমূহ প্রচারিত হয়েছে, আমি সেগুলো সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি এবং দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে বলে আমি মনে করি।

আমি, শাহীনুর ইসলাম, দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার কর্মজীবনে সর্বদা আইন ও বিধি-বিধান মেনে বন সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বনভূমি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। আমার দায়িত্ব পালনের কারণে কিছু অসাধু ও স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

সম্প্রতি যে ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে—যেমন গাড়ি আটক, অর্থ লেনদেনের অভিযোগ কিংবা অবৈধভাবে গাড়ি ছাড়ার বিষয়—এসবের সাথে আমার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত। কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, অফিসিয়াল নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই আমার নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমার ব্যক্তিগত সম্মানহানিকর।

আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমি দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। পূর্বে যেসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, সেগুলোতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ যাওয়ার বিষয়টি বন বিভাগের আওতাভুক্ত নয়। একইভাবে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ঘরগুলো কোনো অবস্থাতেই উচ্ছেদ করা হয়নি।

কুতুপালং এলাকায় তিনতলা ভবন নির্মাণের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় ভবন অপসারণের অনুমতি নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া রাজাপালংয়ের হাতিমুড়ায় কোনো ডাম্পার আটক করা হয়নি—টাকা নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া।

আমি দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো টমটম আটক করে রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসা হয়নি। বালুখালী এলাকায় পরিচালিত অভিযানের সময় আমি প্রশিক্ষণে ছিলাম; পরবর্তীতে এ বিষয়ে মামলা হয়েছে বলে জেনেছি।

পাহাড় কাটা, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং গাছ চুরির সঙ্গে জড়িত যেসব ডাম্পার জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে বন আইনের আওতায় যথাযথ মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আমি আরও উল্লেখ করতে চাই, প্রচারিত সংবাদটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার, মনগড়া ও ভিত্তিহীন।

এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা কেবল আমার ব্যক্তিগত সুনাম নয়, বরং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ণ করে।

আমি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি অনুরোধ জানাই, কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া একতরফা অভিযোগ প্রচার না করতে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করতে। অন্যথায় একজন সরকারি কর্মকর্তার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা কাম্য নয়।

পরিশেষে আমি আশাবাদী, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রকৃত বাস্তবতা জনগণের সামনে পরিষ্কার হবে। আমি আমার পেশাগত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শাহীনুর ইসলাম

সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ)

তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬