ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেরিনড্রাইভের দুই পাশে আড়াইশ অবৈধ রিসোর্ট, সৈকত দখল করেও চলছে ব্যবসা চুনতি অভয়ারণ্যে বন বিভাগের অভিযান : উদ্ধার ৬৫ শতক বনভূমি উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযান: মাটিভর্তি ডাম্পারসহ চালক আটক পাহাড় ও সমতলের সব জাতিসত্তার সম্মিলিত অংশগ্রহণে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি এক ট্রেনেই কক্সবাজারে যেতে পারবে ৫ জেলার মানুষ বিশেষ পাসপোর্ট পাচ্ছে ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে তিন বিভাগে বৃষ্টির শঙ্কা কক্সবাজারে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সম্প্রীতির পথে বাধা চিহ্নিত করেছে তরুণদের পরিচালিত গবেষণা সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সোমবার কক্সবাজার আসছেন, যোগ দেবেন রামুর জাহাজভাসা উৎসবে সেন্টমার্টিনে ট্রাভেল পাস লাগবে কি, কত দিন রাতযাপন করা যাবে- জাহাজ ছাড়বে কোথা থেকে? ফানুসের রঙে আলোকিত রামু, প্রবারণা পূর্ণিমায় উৎসবমুখর বৌদ্ধ জনপদ কুতুবদিয়ার অবসরপ্রাপ্ত তহসিলদার আবদুল গফুর কুতুবী মারা গেছেন : সোমবার জানাজা ৯০ দশকের ছাত্রনেতা উখিয়ার কফিল উদ্দিন চৌধুরী আর নেই ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে ডাকাতির মামলায় ইমাম হোসেন গ্রেফতার

নারী অধিকার নিয়ে আপস হলে জামায়াতের সঙ্গে জোট টিকবে না: নাহিদ ইসলাম

নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে আপস করা হলে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গড়ে তোলা জোট টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন এই জোটের অন্যতম প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য উইক–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়। নাহিদ ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়, সমালোচনা রয়েছে যে, জামায়াত চরম ডানপন্থী আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে। সংখ্যালঘুদের নিয়ে উদ্বেগের সমাধান আপনি কীভাবে করবেন?

উত্তরে এনসিপি নেতা ও ঢাকা–১১ আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, জোটটি এখনও একটি সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছায়নি। নির্বাচনী সহযোগিতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে, এটি ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। বর্তমানে, আমাদের পৃথক ইশতেহার রয়েছে।

তিনি বলেন, জামায়াত আগের অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সরে এসেছে এবং বলেছে, তারা পুরোনো মূল আদর্শের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠন করবে না। তারা অন্তর্ভুক্তি এবং এমনকি একটি জাতীয় সরকার সম্পর্কেও কথা বলছে। তবে, যদি আমাদের মূল অবস্থান, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে আপস করা হয়, তাহলে জোটটি টিকবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জামায়াত জানিয়েছে, তারা উদার নীতির মধ্যে থাকবে। যদি একটি জোট সরকার গঠিত হয়, তবে তারা রাষ্ট্রকে ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাবে না। দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার হবে এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে তারা। নারী ও সংখ্যালঘুদের সমস্যাগুলো অবশ্যই সমাধান করা হবে। এটি আমাদের মৌলিক অঙ্গীকার এবং এনসিপির মূল অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের অংশ।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জোটের অংশ হিসেবে আমরা ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এনসিপি কতটি আসন জিতবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন, কারণ আমাদের পূর্ববর্তী কোনো নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নেই এবং আমাদের দলটি একটি নতুন দল। তবে, আমরা আশাবাদী এনসিপি এবং জোট ভালো ফলাফল করবে এবং নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে।

এই জোট কি কেবল নির্বাচনী, নাকি এর কোনো আদর্শিক ভিত্তি আছে– এমন পশ্নে তিনি বলেন, এই জোট মূলত নির্বাচনের জন্য, যার মধ্যে আসনভিত্তিক সমন্বয় জড়িত। তবে, আমাদের কিছু সাধারণ বিষয় রয়েছে। একটি প্রধান এজেন্ডা হলো বিপ্লবের পরে সংস্কার। এর জন্য একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং একটি গণভোট হবে। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাব।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে আমরা যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করব। সংস্কার আমাদের প্রধান এজেন্ডাগুলোর মধ্যে একটি। দ্বিতীয়টি হলো দুর্নীতি বিরোধী এবং সুশাসন। আরেকটি হলো সার্বভৌমত্ব এবং আধিপত্যের বিরোধিতা, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলির কাছ থেকে। আমরা একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং সার্বভৌম পররাষ্ট্র নীতি চাই।

ভারতের সাথে ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আপনি কীভাবে দেখেন– এ প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর সম্পর্ক চাই। কিন্তু ভারতকে তার বাংলাদেশ নীতি পরিবর্তন করতে হবে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন বিরোধ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন চাওয়া আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হবে। ভারত যদি শেখ হাসিনা এবং যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই রায় দেওয়া হয়েছে তাদের ফিরিয়ে দেয় তবে সুসম্পর্ক সম্ভব। অন্যথায়, সম্পর্ক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে তিনি বলেন, দলের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে। কিছু লোক দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রায় ১০ থেকে ১২ জন দল ত্যাগ করেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে। আমরা তাদের পছন্দকে সম্মান করি এবং এখনও তাদের স্বাগত জানাই। এটি ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠদের দ্বারা গৃহীত একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং বেশিরভাগ সদস্য এটিকে সমর্থন করেন।

জুলাই আন্দোলনের নেতাদের একক দল গঠন করার প্রয়োজন নেই মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি কেউ স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে চান, তাহলে তারা তা করতে পারেন।

 

সূত্র:ইনডিপেনডেন্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মেরিনড্রাইভের দুই পাশে আড়াইশ অবৈধ রিসোর্ট, সৈকত দখল করেও চলছে ব্যবসা

নারী অধিকার নিয়ে আপস হলে জামায়াতের সঙ্গে জোট টিকবে না: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় : ১২:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে আপস করা হলে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গড়ে তোলা জোট টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন এই জোটের অন্যতম প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য উইক–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়। নাহিদ ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়, সমালোচনা রয়েছে যে, জামায়াত চরম ডানপন্থী আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে। সংখ্যালঘুদের নিয়ে উদ্বেগের সমাধান আপনি কীভাবে করবেন?

উত্তরে এনসিপি নেতা ও ঢাকা–১১ আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, জোটটি এখনও একটি সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছায়নি। নির্বাচনী সহযোগিতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে, এটি ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। বর্তমানে, আমাদের পৃথক ইশতেহার রয়েছে।

তিনি বলেন, জামায়াত আগের অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সরে এসেছে এবং বলেছে, তারা পুরোনো মূল আদর্শের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠন করবে না। তারা অন্তর্ভুক্তি এবং এমনকি একটি জাতীয় সরকার সম্পর্কেও কথা বলছে। তবে, যদি আমাদের মূল অবস্থান, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে আপস করা হয়, তাহলে জোটটি টিকবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জামায়াত জানিয়েছে, তারা উদার নীতির মধ্যে থাকবে। যদি একটি জোট সরকার গঠিত হয়, তবে তারা রাষ্ট্রকে ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাবে না। দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার হবে এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে তারা। নারী ও সংখ্যালঘুদের সমস্যাগুলো অবশ্যই সমাধান করা হবে। এটি আমাদের মৌলিক অঙ্গীকার এবং এনসিপির মূল অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের অংশ।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জোটের অংশ হিসেবে আমরা ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এনসিপি কতটি আসন জিতবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন, কারণ আমাদের পূর্ববর্তী কোনো নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নেই এবং আমাদের দলটি একটি নতুন দল। তবে, আমরা আশাবাদী এনসিপি এবং জোট ভালো ফলাফল করবে এবং নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে।

এই জোট কি কেবল নির্বাচনী, নাকি এর কোনো আদর্শিক ভিত্তি আছে– এমন পশ্নে তিনি বলেন, এই জোট মূলত নির্বাচনের জন্য, যার মধ্যে আসনভিত্তিক সমন্বয় জড়িত। তবে, আমাদের কিছু সাধারণ বিষয় রয়েছে। একটি প্রধান এজেন্ডা হলো বিপ্লবের পরে সংস্কার। এর জন্য একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং একটি গণভোট হবে। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাব।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে আমরা যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করব। সংস্কার আমাদের প্রধান এজেন্ডাগুলোর মধ্যে একটি। দ্বিতীয়টি হলো দুর্নীতি বিরোধী এবং সুশাসন। আরেকটি হলো সার্বভৌমত্ব এবং আধিপত্যের বিরোধিতা, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলির কাছ থেকে। আমরা একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং সার্বভৌম পররাষ্ট্র নীতি চাই।

ভারতের সাথে ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আপনি কীভাবে দেখেন– এ প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর সম্পর্ক চাই। কিন্তু ভারতকে তার বাংলাদেশ নীতি পরিবর্তন করতে হবে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন বিরোধ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন চাওয়া আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হবে। ভারত যদি শেখ হাসিনা এবং যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই রায় দেওয়া হয়েছে তাদের ফিরিয়ে দেয় তবে সুসম্পর্ক সম্ভব। অন্যথায়, সম্পর্ক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে তিনি বলেন, দলের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে। কিছু লোক দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রায় ১০ থেকে ১২ জন দল ত্যাগ করেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে। আমরা তাদের পছন্দকে সম্মান করি এবং এখনও তাদের স্বাগত জানাই। এটি ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠদের দ্বারা গৃহীত একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং বেশিরভাগ সদস্য এটিকে সমর্থন করেন।

জুলাই আন্দোলনের নেতাদের একক দল গঠন করার প্রয়োজন নেই মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি কেউ স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে চান, তাহলে তারা তা করতে পারেন।

 

সূত্র:ইনডিপেনডেন্ট