ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, পাঁচ ধাপে হবে ভোটগ্রহণ প্রমাণ ছাড়া কেবল পলাতক থাকলেই কাউকে সাজা দেওয়া যায়না : হাইকোর্ট রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় ২৪ বাংলা‌দে‌শি আহত বাড়িতে স্ত্রীর লাশ রেখে মসজিদে গিয়ে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু অবশেষে গ্রেফতার হলো নিহত তাজমিনের প্রেমিক রাজু উখিয়ার কোটবাজার থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জসিম গ্রেপ্তার আরব আমিরাত থেকে ৯৬ লাখ টাকা চুরি করে পালিয়ে এলো চকরিয়ার নোমান, খুঁজছে পুলিশ কক্সবাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান : ৫৬ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়ায় কমিউনিটি রিপোর্টিং জোরদারে এমবোলডেন বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা তাজমিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ‘সম্পর্ক নেই’ রাজুর পেকুয়ায় চিংড়িঘেরে ডাকাতি, গুলিবিদ্ধ ৩ ৫০ হাজার টাকার জন্য ৪ বছরের ওমাইরকে অপহরণ করে হত্যা এমপি কাজলের সহধর্মিণী শিরিন রহমানের সুস্থতা কামনায় রামুতে বিএনপির দোয়া মাহফিল উখিয়ায় চার বছরের শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার দম্পতি পবিত্র রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানালেন আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

খেজুর দিয়ে ইফতার করলে যে উপকার

খেজুর দিয়ে ইফতার করলে যে উপকার

মহান আল্লাহর একটি অপূর্ব সৃষ্টি খেজুর। সুস্বাদু এ ফলটি খাবার হিসেবেও স্বাস্থ্যসম্মত এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ। দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য ঘাটতির চাহিদা পরিপূরক, জাদু ও বিষ প্রতিরোধক খাবার এটি। পবিত্র রমজানে সারা দিনের রোজার ক্লান্তি শেষে ইফতারে দুয়েকটি খেজুরে খেলে দুর্বলতা কেটে যায়। ইফতারিতে খেজুর খাওয়া সুন্নত। রাসুল (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। হাদিস শরিফেও খেজুর দিয়ে ইফতার করার নির্দেশ রয়েছে।

খেজুর দিয়ে ইফতার করার ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা করে। কেননা তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।’ (মেশকাত: ১৮৯৩)। অন্য হাদিসে রয়েছে, আনাস বিন মালেক (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে।’ (তিরমিজি: ৬৩২)।

শুধু রমজানই নয়, অন্যান্য দিনেও খেজুর শরীরের বিশেষ পুষ্টিদানকারী খাবার। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, বিষ ও জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বোখারি ও মুসলিম)। সুতরাং পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং হাদিসের নির্দেশনায় খেজুর মানুষের জন্য অনেক উপকারী।

খেজুর দিয়ে ইফতার করার উপকারিতা হলো—১. কয়েকটি খেজুরই সাময়িক ক্ষুধা নিবারণে সহায়তা করে; ২. খেজুরে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি থাকায় দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী, সামান্য পরিশ্রমেই যারা পেরেশান হয়ে যায়, ইফতারে খেজুর খেলে তাদের দুর্বলতা কেটে যায় এবং রোজা রাখা সহজ হয়; ৩. শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে খেজুর কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের স্বাভাবিকভাবে রোজা রাখা সহজ হয়; ৪. খেজুর হৃদরোগ, জ্বর ও পেটের পীড়ায় উপকারী এবং বলবর্ধক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। ক্ষুধামান্দ্য ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে খেজুরবিশেষ উপকারী; ৫. খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে, শুষ্ক কাশি, অ্যাজমা ও গ্যাসের জন্যও উপকারী; ৬. রোজাদারের পেট খালি থাকায় শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। খেজুর সেটা দ্রুত পূরণে সাহায্য করে।

বলা হয়ে থাকে, বছরে যতগুলো দিন আছে, খেজুরে তার চেয়েও বেশি গুণ রয়েছে। খেজুর যেমনি সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকর ফল। খেজুর খাওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ অনেক। যেমন—খেজুরের পুষ্টিগুণ প্রচুর। খেজুরে সুগারের পরিমাণ এত বেশি থাকে যে, এক কামড়েই অনেকটা এনার্জি পাওয়া যায়। এর মধ্যে আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, গ্লুকোজ, ম্যাগনেশিয়াম ও সুক্রোজ থাকে। যে কারণে খেজুর খাওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে শরীরে এনার্জি বেড়ে যায়। সারা দিন উপোস করে শরীরে যে ক্লান্তি আসে, তা দূর করে এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে খেজুর। রোজা রাখলে সাধারণত অ্যাসিডিটি হয়। যার থেকে অস্বস্তি হতে থাকে। খেজুর শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বশে রেখে অস্বস্তি কমায়। সারা দিন না খেয়ে থাকলে খাওয়ার সময় বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙলে এর মধ্যে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট হজম হতে বেশি সময় নেয়। ফাইবার থাকার কারণে পেট ভরা লাগে। তাই বেশি খাওয়ার আগেই পেট ভরে যায়। অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে তা পৌষ্টিকতন্ত্রের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটায়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও হতে পারে। খেজুর শরীরে উৎসেচক ক্ষরণে সাহায্য করে। ফলে হজম ভালো হয়।

মহান রব আমাদের রমজানে স্বস্তি ও সুস্থতা দান করুন। আমিন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, পাঁচ ধাপে হবে ভোটগ্রহণ

খেজুর দিয়ে ইফতার করলে যে উপকার

আপডেট সময় : ১০:৩০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫

মহান আল্লাহর একটি অপূর্ব সৃষ্টি খেজুর। সুস্বাদু এ ফলটি খাবার হিসেবেও স্বাস্থ্যসম্মত এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ। দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য ঘাটতির চাহিদা পরিপূরক, জাদু ও বিষ প্রতিরোধক খাবার এটি। পবিত্র রমজানে সারা দিনের রোজার ক্লান্তি শেষে ইফতারে দুয়েকটি খেজুরে খেলে দুর্বলতা কেটে যায়। ইফতারিতে খেজুর খাওয়া সুন্নত। রাসুল (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। হাদিস শরিফেও খেজুর দিয়ে ইফতার করার নির্দেশ রয়েছে।

খেজুর দিয়ে ইফতার করার ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা করে। কেননা তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।’ (মেশকাত: ১৮৯৩)। অন্য হাদিসে রয়েছে, আনাস বিন মালেক (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে।’ (তিরমিজি: ৬৩২)।

শুধু রমজানই নয়, অন্যান্য দিনেও খেজুর শরীরের বিশেষ পুষ্টিদানকারী খাবার। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, বিষ ও জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বোখারি ও মুসলিম)। সুতরাং পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং হাদিসের নির্দেশনায় খেজুর মানুষের জন্য অনেক উপকারী।

খেজুর দিয়ে ইফতার করার উপকারিতা হলো—১. কয়েকটি খেজুরই সাময়িক ক্ষুধা নিবারণে সহায়তা করে; ২. খেজুরে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি থাকায় দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী, সামান্য পরিশ্রমেই যারা পেরেশান হয়ে যায়, ইফতারে খেজুর খেলে তাদের দুর্বলতা কেটে যায় এবং রোজা রাখা সহজ হয়; ৩. শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে খেজুর কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের স্বাভাবিকভাবে রোজা রাখা সহজ হয়; ৪. খেজুর হৃদরোগ, জ্বর ও পেটের পীড়ায় উপকারী এবং বলবর্ধক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। ক্ষুধামান্দ্য ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে খেজুরবিশেষ উপকারী; ৫. খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে, শুষ্ক কাশি, অ্যাজমা ও গ্যাসের জন্যও উপকারী; ৬. রোজাদারের পেট খালি থাকায় শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। খেজুর সেটা দ্রুত পূরণে সাহায্য করে।

বলা হয়ে থাকে, বছরে যতগুলো দিন আছে, খেজুরে তার চেয়েও বেশি গুণ রয়েছে। খেজুর যেমনি সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকর ফল। খেজুর খাওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ অনেক। যেমন—খেজুরের পুষ্টিগুণ প্রচুর। খেজুরে সুগারের পরিমাণ এত বেশি থাকে যে, এক কামড়েই অনেকটা এনার্জি পাওয়া যায়। এর মধ্যে আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, গ্লুকোজ, ম্যাগনেশিয়াম ও সুক্রোজ থাকে। যে কারণে খেজুর খাওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে শরীরে এনার্জি বেড়ে যায়। সারা দিন উপোস করে শরীরে যে ক্লান্তি আসে, তা দূর করে এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে খেজুর। রোজা রাখলে সাধারণত অ্যাসিডিটি হয়। যার থেকে অস্বস্তি হতে থাকে। খেজুর শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বশে রেখে অস্বস্তি কমায়। সারা দিন না খেয়ে থাকলে খাওয়ার সময় বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙলে এর মধ্যে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট হজম হতে বেশি সময় নেয়। ফাইবার থাকার কারণে পেট ভরা লাগে। তাই বেশি খাওয়ার আগেই পেট ভরে যায়। অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে তা পৌষ্টিকতন্ত্রের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটায়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও হতে পারে। খেজুর শরীরে উৎসেচক ক্ষরণে সাহায্য করে। ফলে হজম ভালো হয়।

মহান রব আমাদের রমজানে স্বস্তি ও সুস্থতা দান করুন। আমিন।