ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সীমান্তে ইয়াবার সর্ববৃহৎ চালান আটক : ৪২ কোটি টাকার ১৪ লাখ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ বন্যার্ত ১৪’শ মানুষের পাশে মুসলিম হ্যান্ডস্ ইন্টারন্যাশনাল যে কারণে তিন কিশোরের হাতে ফুটবল তুলে দিলেন কুতুবদিয়ার ইউএনও কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ২২ কক্সবাজার সিটি কলেজ জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শোয়াইব, সদস্য সচিব তারেক দাপ্তারিক চিঠিপত্রে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ বাদের সিদ্ধান্ত মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট চকরিয়ায় পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ: পারভেজের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সেনাবাহিনীর ফায়ারিং মহড়ায় দুই সৈনিক নিহত ৫৪ হাজার ইয়াবাসহ এপিবিএন সদস্য আটক, পরিচয় জানতেন না বাদী এবং ওসি, এপিবিএন অধিনায়ক বললেন জঘন্য কাজ পলিথিন-প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস পলাতক আসামিদের ফেরাতে সরকার গাফিলতি করবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যে কারণে তিন কিশোরের হাতে ফুটবল তুলে দিলেন কুতুবদিয়ার ইউএনও

বয়স মাত্র ১২-১৩ বছর। চোখে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। পাড়ার মাঠে অন্যদের ফুটবল খেলতে দেখে তাদেরও ইচ্ছে হতো মাঠে নেমে বল নিয়ে ছুটতে। কিন্তু দরিদ্র দিনমজুর পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিজেদের একটি ফুটবল কেনার সামর্থ্য ছিল না।

শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে ভুল পথে পা বাড়ায় কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের তেলিয়াকাটা এলাকার মৎস্য শ্রমিক মামুনের পুত্র মনির উদ্দিন শাহনেক(১৩), মৎস্য শ্রমিক মিজানের পুত্র মিনহাজ(১২), দিন মজুর খোরশেদ আলমের পুত্র মুজাহিদ(১১)।

এই ৩ কিশোর ফুটবল কেনার টাকা জোগাড় করতে তারা পাশের বাড়ির হাঁস চুরি করে। পরে সেই হাঁস বিক্রি করতে নিয়ে আসে ধূরুং বাজারে। কিন্তু হাঁস বিক্রির আগেই বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তিন কিশোরের বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবুল কাশেমের।

তাৎক্ষণিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমানকে অবহিত করেন তিনি।

সাধারণত এমন ঘটনায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় শিশু-কিশোরদের। কিন্তু কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান দেখলেন ভিন্নভাবে।

তিন কিশোরের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, হাঁস চুরির পেছনে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফুটবল কেনার টাকা জোগাড় করা। তাদের অভিভাবকেরা দিনমজুর। অভাবের সংসারে সন্তানদের খেলাধুলার সামগ্রী কিনে দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই।

তিন কিশোরের ভুলের জন্য তাদের বুঝিয়ে সতর্ক করেন ইউএনও। তিনি বলেন, অন্যের জিনিস নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়। স্বপ্ন পূরণ করতে হলে সঠিক পথেই এগোতে হবে।

এরপর তাদের প্রতি সদয় হয় ইউএনও। যে ফুটবল কেনার জন্য তিন কিশোর ভুল করেছিল।

বুধবার বিকেলে অফিসার্স ক্লাবে সেই ফুটবলই তাদের হাতে তুলে দেন ইউএনও মো: মিজানুর রহমান।

এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মুসলিম উদ্দিন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবুল কাশেম, ক্রীড়া সংগঠক এহাছান মোহাম্মদ ছেটন, মোহাম্মদ মুবিন উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ফুটবল হাতে পেয়ে যেন বদলে যায় তিন কিশোরের মুখ। ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। তাদের চোখে তখন আর হাঁস বিক্রির চিন্তা নেই, আছে মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলার স্বপ্ন। এখন নিয়মিত মাঠে ফুটবল খেলবে তারা।

উত্তর ধূরুং ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান ইমরুল ফারুক বলেন, ১২-১৩ বছরের কিশোরদের ভুলকে শুধু অপরাধ হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদের পারিবারিক বাস্তবতা, স্বপ্ন এবং বেড়ে ওঠার পরিবেশও বিবেচনায় নিতে হবে। প্রয়োজন শাসনের পাশাপাশি ভালোবাসা, শিক্ষা ও সঠিক দিকনির্দেশনা। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবুল কাশেম বলেন, শাহনেক, মিনহাজ ও মুজাহিদের গল্পটি তাই শুধু হাঁস চুরি কিংবা একটি ফুটবল পাওয়ার গল্প নয়। এটি অভাবের মধ্যেও স্বপ্ন দেখা তিন কিশোরের গল্প। আর সেই স্বপ্নকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে সঠিক পথে এগিয়ে দেওয়ার এক মানবিক উদ্যোগের গল্প সৃষ্টি করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান।

হয়তো কোনো একদিন তেলিয়াকাটার মাঠে এই তিন কিশোরের পায়ে ফুটবল ছুটবে। গোলের পর তারা যখন উচ্ছ্বাসে একে অপরকে জড়িয়ে ধরবে, তখন তাদের মনে পড়বে সেই দিনের কথা। ফুটবলের জন্য যখন তারা ভুল করেছিল, তখন শাস্তির পাশাপাশি একজন মানুষ তাদের স্বপ্নটাকেও বুঝেছিলেন। সেই মানুষটি কুতুবদিয়ার ইউএনও মো: মিজানুর রহমান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে ইয়াবার সর্ববৃহৎ চালান আটক : ৪২ কোটি টাকার ১৪ লাখ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

যে কারণে তিন কিশোরের হাতে ফুটবল তুলে দিলেন কুতুবদিয়ার ইউএনও

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বয়স মাত্র ১২-১৩ বছর। চোখে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। পাড়ার মাঠে অন্যদের ফুটবল খেলতে দেখে তাদেরও ইচ্ছে হতো মাঠে নেমে বল নিয়ে ছুটতে। কিন্তু দরিদ্র দিনমজুর পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিজেদের একটি ফুটবল কেনার সামর্থ্য ছিল না।

শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে ভুল পথে পা বাড়ায় কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের তেলিয়াকাটা এলাকার মৎস্য শ্রমিক মামুনের পুত্র মনির উদ্দিন শাহনেক(১৩), মৎস্য শ্রমিক মিজানের পুত্র মিনহাজ(১২), দিন মজুর খোরশেদ আলমের পুত্র মুজাহিদ(১১)।

এই ৩ কিশোর ফুটবল কেনার টাকা জোগাড় করতে তারা পাশের বাড়ির হাঁস চুরি করে। পরে সেই হাঁস বিক্রি করতে নিয়ে আসে ধূরুং বাজারে। কিন্তু হাঁস বিক্রির আগেই বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তিন কিশোরের বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবুল কাশেমের।

তাৎক্ষণিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমানকে অবহিত করেন তিনি।

সাধারণত এমন ঘটনায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় শিশু-কিশোরদের। কিন্তু কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান দেখলেন ভিন্নভাবে।

তিন কিশোরের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, হাঁস চুরির পেছনে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফুটবল কেনার টাকা জোগাড় করা। তাদের অভিভাবকেরা দিনমজুর। অভাবের সংসারে সন্তানদের খেলাধুলার সামগ্রী কিনে দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই।

তিন কিশোরের ভুলের জন্য তাদের বুঝিয়ে সতর্ক করেন ইউএনও। তিনি বলেন, অন্যের জিনিস নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়। স্বপ্ন পূরণ করতে হলে সঠিক পথেই এগোতে হবে।

এরপর তাদের প্রতি সদয় হয় ইউএনও। যে ফুটবল কেনার জন্য তিন কিশোর ভুল করেছিল।

বুধবার বিকেলে অফিসার্স ক্লাবে সেই ফুটবলই তাদের হাতে তুলে দেন ইউএনও মো: মিজানুর রহমান।

এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মুসলিম উদ্দিন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবুল কাশেম, ক্রীড়া সংগঠক এহাছান মোহাম্মদ ছেটন, মোহাম্মদ মুবিন উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ফুটবল হাতে পেয়ে যেন বদলে যায় তিন কিশোরের মুখ। ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। তাদের চোখে তখন আর হাঁস বিক্রির চিন্তা নেই, আছে মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলার স্বপ্ন। এখন নিয়মিত মাঠে ফুটবল খেলবে তারা।

উত্তর ধূরুং ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান ইমরুল ফারুক বলেন, ১২-১৩ বছরের কিশোরদের ভুলকে শুধু অপরাধ হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদের পারিবারিক বাস্তবতা, স্বপ্ন এবং বেড়ে ওঠার পরিবেশও বিবেচনায় নিতে হবে। প্রয়োজন শাসনের পাশাপাশি ভালোবাসা, শিক্ষা ও সঠিক দিকনির্দেশনা। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবুল কাশেম বলেন, শাহনেক, মিনহাজ ও মুজাহিদের গল্পটি তাই শুধু হাঁস চুরি কিংবা একটি ফুটবল পাওয়ার গল্প নয়। এটি অভাবের মধ্যেও স্বপ্ন দেখা তিন কিশোরের গল্প। আর সেই স্বপ্নকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে সঠিক পথে এগিয়ে দেওয়ার এক মানবিক উদ্যোগের গল্প সৃষ্টি করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান।

হয়তো কোনো একদিন তেলিয়াকাটার মাঠে এই তিন কিশোরের পায়ে ফুটবল ছুটবে। গোলের পর তারা যখন উচ্ছ্বাসে একে অপরকে জড়িয়ে ধরবে, তখন তাদের মনে পড়বে সেই দিনের কথা। ফুটবলের জন্য যখন তারা ভুল করেছিল, তখন শাস্তির পাশাপাশি একজন মানুষ তাদের স্বপ্নটাকেও বুঝেছিলেন। সেই মানুষটি কুতুবদিয়ার ইউএনও মো: মিজানুর রহমান।