ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাগরে মাছ শিকারে বন্ধ : দুঃশ্চিন্তায় জেলেরা পেকুয়ায় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় দু’টি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘কাল বেঁচে থাকব কি না জানি না’, মৃত্যুর চার দিন আগে নানা পাটেকার ‘আমার মতো মানুষকে’ নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে চায় না কমিটি, ট্রাম্পের আক্ষেপ প্রত্যেক উপজেলায় জরুরি নির্দেশনা সরকারের ৫ শর্ত পূরণ না হলে মিয়ানমারে ফিরতে চায় না ৮৭% রোহিঙ্গা: গবেষণা মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল
নিরাপত্তাকর্মী থেকে অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর

কালারমারছড়া ভূমি অফিসে কর্মরত ফয়সালের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

মহেশখালীর কালারমারছড়া ভূমি অফিসের অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর ফয়সালের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, কালারমারছড়া ভূমি অফিসের অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর ফয়সালকে ঘুষ না দিলে দাখিলা নিতে যাওয়া সেবাপ্রার্থীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। সরকারি করমূল্যের বাইরে বিপুল অংকের ঘুষ না দিলে দাখিলা, নামজারি, খাজনা বা ভূমি অফিসে সরকারি ফি সংক্রান্ত কোনো কাজ করা যায় না।

ফয়সাল নিজের নিয়ন্ত্রণে গড়ে তুলেছে একটি দালাল চক্র। কখনও নিজে সরাসরি টেবিলেই দর কষাকষি করেন। কখনো বা তার অধীনস্থ দালাল পাঠিয়ে ঘুষ আদায় করেন। সরকারি করমূল্যের চেয়ে অধিক টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়সাল প্রায়শই সেবাপ্রার্থীদের বলেন, “উপরে দিতে হয়, তাই বেশি লাগবে।” সেই উপরের লোক কারা জানতে চাইলে ফয়সাল এড়িয়ে যান।

ভুক্তভোগীদের একজন আমির হোসেন জানান, সরকারি ৪২০ ও ৩৮’শ টাকার কর পরিশোধ করে দাখিলা নেওয়ার জন্য কালারমারছড়া ভূমি অফিসের ফয়সাল কে সাড়ে ৩০ হাজার, ১১ হাজার ও সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে তিন দফা ঘুষ দিতে হয়েছে। এসব টাকা সে নিজ হাতে নিয়েছে বলে জানান এই ভুক্তভোগী।

অপর এক ভুক্তভোগী জানান, মাত্র ২৭’শ টাকার সরকারি কর পরিশোধ করলেও তার কাছ থেকে আদায় করা হয় ৩০,৫০০ টাকা। অর্থ লেনদেনের পরেও তাকে একাধিকবার অফিসে ঘুরতে হয়েছে বিভিন্ন অজুহাতে। অভিযোগকারীদের মতে, তহসিলদারসহ অফিসের কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়ে একটি স্থায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা না দিলে কোনো আবেদনই এগোয় না।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব অনিয়ম নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের কাজে বিলম্ব, ভুল দাখিলা বা নতুন জটিলতা সৃষ্টি করে হয়রানি করা হয়।

এই বিষয়ে জানতে কালারমারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. রিদুয়ানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বিষয়ে আনা এসব অভিযোগ সত্য নয়। তার অফিসের কম্পিউটার অপারেটর ফয়সালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন “তার ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না”।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কালারমারছড়া ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর ফয়সালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আবু জাফর মজুমদার জানান, এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং কালারমারছড়া ভূমি অফিসের তহসিলদারকে শোকজ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত কয়েক বছর আগে কালারমারছড়া ভূমি অধিগ্রহণে সেবাপ্রার্থীদের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য ফয়সালকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়েছিল কালারমারছড়া ভূমি অফিস। সেখান থেকে কিভাবে কম্পিউটার অপারেটর বনে গেলো তা বোধগম্য নয়। সে কম্পিউটার অপারেটর হয়ে এই অনৈতিক কর্মকান্ডের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। একজন কম্পিউটার অপারেটরের হাতে ভূমি অফিসের পুরো সিস্টেম জিম্মি হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা।

ভূমি সেবাপ্রার্থী ও ভুক্তভোগীরা জানান, তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং এই ঘুষ লেনদেনের সিন্ডিকেটে আরও কারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাগরে মাছ শিকারে বন্ধ : দুঃশ্চিন্তায় জেলেরা

নিরাপত্তাকর্মী থেকে অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর

কালারমারছড়া ভূমি অফিসে কর্মরত ফয়সালের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

মহেশখালীর কালারমারছড়া ভূমি অফিসের অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর ফয়সালের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, কালারমারছড়া ভূমি অফিসের অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর ফয়সালকে ঘুষ না দিলে দাখিলা নিতে যাওয়া সেবাপ্রার্থীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। সরকারি করমূল্যের বাইরে বিপুল অংকের ঘুষ না দিলে দাখিলা, নামজারি, খাজনা বা ভূমি অফিসে সরকারি ফি সংক্রান্ত কোনো কাজ করা যায় না।

ফয়সাল নিজের নিয়ন্ত্রণে গড়ে তুলেছে একটি দালাল চক্র। কখনও নিজে সরাসরি টেবিলেই দর কষাকষি করেন। কখনো বা তার অধীনস্থ দালাল পাঠিয়ে ঘুষ আদায় করেন। সরকারি করমূল্যের চেয়ে অধিক টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়সাল প্রায়শই সেবাপ্রার্থীদের বলেন, “উপরে দিতে হয়, তাই বেশি লাগবে।” সেই উপরের লোক কারা জানতে চাইলে ফয়সাল এড়িয়ে যান।

ভুক্তভোগীদের একজন আমির হোসেন জানান, সরকারি ৪২০ ও ৩৮’শ টাকার কর পরিশোধ করে দাখিলা নেওয়ার জন্য কালারমারছড়া ভূমি অফিসের ফয়সাল কে সাড়ে ৩০ হাজার, ১১ হাজার ও সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে তিন দফা ঘুষ দিতে হয়েছে। এসব টাকা সে নিজ হাতে নিয়েছে বলে জানান এই ভুক্তভোগী।

অপর এক ভুক্তভোগী জানান, মাত্র ২৭’শ টাকার সরকারি কর পরিশোধ করলেও তার কাছ থেকে আদায় করা হয় ৩০,৫০০ টাকা। অর্থ লেনদেনের পরেও তাকে একাধিকবার অফিসে ঘুরতে হয়েছে বিভিন্ন অজুহাতে। অভিযোগকারীদের মতে, তহসিলদারসহ অফিসের কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়ে একটি স্থায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা না দিলে কোনো আবেদনই এগোয় না।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব অনিয়ম নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের কাজে বিলম্ব, ভুল দাখিলা বা নতুন জটিলতা সৃষ্টি করে হয়রানি করা হয়।

এই বিষয়ে জানতে কালারমারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. রিদুয়ানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বিষয়ে আনা এসব অভিযোগ সত্য নয়। তার অফিসের কম্পিউটার অপারেটর ফয়সালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন “তার ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না”।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কালারমারছড়া ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর ফয়সালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আবু জাফর মজুমদার জানান, এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং কালারমারছড়া ভূমি অফিসের তহসিলদারকে শোকজ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত কয়েক বছর আগে কালারমারছড়া ভূমি অধিগ্রহণে সেবাপ্রার্থীদের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য ফয়সালকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়েছিল কালারমারছড়া ভূমি অফিস। সেখান থেকে কিভাবে কম্পিউটার অপারেটর বনে গেলো তা বোধগম্য নয়। সে কম্পিউটার অপারেটর হয়ে এই অনৈতিক কর্মকান্ডের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। একজন কম্পিউটার অপারেটরের হাতে ভূমি অফিসের পুরো সিস্টেম জিম্মি হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা।

ভূমি সেবাপ্রার্থী ও ভুক্তভোগীরা জানান, তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং এই ঘুষ লেনদেনের সিন্ডিকেটে আরও কারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।