ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

কক্সবাজার সৈকত দখল ও অব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দুষছে টুরিস্ট পুলিশ

  • আফজারা রিয়া
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 546

কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের অব্যবস্থাপনা ও দখলদারির জন্য স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। তার অভিযোগ, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত ক্রমে সৌন্দর্য হারাচ্ছে।

শনিবার এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “সমুদ্র সৈকতের বিষয়গুলো দেখার জন্য বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি আছে। কিন্তু তারা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে না। সম্প্রতি সৈকত দখল নিয়ে যে সমালোচনা উঠেছে, এর পেছনেও প্রশাসনের ব্যর্থতা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের নামে–বেনামে কার্ড দিয়ে সৈকত দখলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।”

তার অভিযোগ, অসংখ্য কার্ডের দৌরাত্ম্যে সৈকতে যত্রতত্র দোকান বসানো হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে সমুদ্র সৈকতের মূল আকর্ষণ অবিরাম বালুচর, যা হারিয়ে যাচ্ছে।

বিদেশি সমুদ্রসৈকতের সঙ্গে তুলনা টেনে আপেল মাহমুদ বলেন, “বিদেশের কোনো বিচে কি এভাবে সৌন্দর্য নষ্ট হতে দেখেছেন? কক্সবাজারের পরিচিতি বালির সৈকত হিসেবে। অনেকে আসেন বালিতে গড়াগড়ি করতে। কিন্তু সৈকতে গেলে চোখে পড়ে শুধু হকার।”

তিনি আরও বলেন, পর্যটকরা সৈকতে বসে বিশ্রাম নিতে গেলেও শান্তি পান না। “কেউ চিপস নিয়ে হাজির, কেউ সিদ্ধ ডিম, কেউ আনারকলি। আবার কেউ অনুমতি ছাড়াই মাথায় হাত দিয়ে বলে ‘ম্যাসাজ লাগবে?’ এতে বিরক্ত হচ্ছেন পর্যটকরা।”

তার মতে, এ অব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আপেল মাহমুদ বলেন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। তখন টুরিস্ট পুলিশকে আরও সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে বর্তমান অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন সৈকতের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায়

কক্সবাজার সৈকত দখল ও অব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দুষছে টুরিস্ট পুলিশ

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের অব্যবস্থাপনা ও দখলদারির জন্য স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। তার অভিযোগ, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত ক্রমে সৌন্দর্য হারাচ্ছে।

শনিবার এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “সমুদ্র সৈকতের বিষয়গুলো দেখার জন্য বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি আছে। কিন্তু তারা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে না। সম্প্রতি সৈকত দখল নিয়ে যে সমালোচনা উঠেছে, এর পেছনেও প্রশাসনের ব্যর্থতা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের নামে–বেনামে কার্ড দিয়ে সৈকত দখলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।”

তার অভিযোগ, অসংখ্য কার্ডের দৌরাত্ম্যে সৈকতে যত্রতত্র দোকান বসানো হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে সমুদ্র সৈকতের মূল আকর্ষণ অবিরাম বালুচর, যা হারিয়ে যাচ্ছে।

বিদেশি সমুদ্রসৈকতের সঙ্গে তুলনা টেনে আপেল মাহমুদ বলেন, “বিদেশের কোনো বিচে কি এভাবে সৌন্দর্য নষ্ট হতে দেখেছেন? কক্সবাজারের পরিচিতি বালির সৈকত হিসেবে। অনেকে আসেন বালিতে গড়াগড়ি করতে। কিন্তু সৈকতে গেলে চোখে পড়ে শুধু হকার।”

তিনি আরও বলেন, পর্যটকরা সৈকতে বসে বিশ্রাম নিতে গেলেও শান্তি পান না। “কেউ চিপস নিয়ে হাজির, কেউ সিদ্ধ ডিম, কেউ আনারকলি। আবার কেউ অনুমতি ছাড়াই মাথায় হাত দিয়ে বলে ‘ম্যাসাজ লাগবে?’ এতে বিরক্ত হচ্ছেন পর্যটকরা।”

তার মতে, এ অব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আপেল মাহমুদ বলেন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। তখন টুরিস্ট পুলিশকে আরও সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে বর্তমান অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন সৈকতের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।