ঢাকা ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা আজ পৃথিবীর মন খারাপ: ‘বিদায়’ বললেন, ফুটবলের কবি হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু, এক মাসে দেওয়া হবে আরও ৩৫ লাখ প্রবাসীদের পরিবার নিয়ে সৌদি থাকার সুযোগ সাগরে লঘুচাপ, টানা বৃষ্টির আভাস দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে : রিজভী
সম্পাদকীয়

কক্সবাজার সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: কেন এমন হচ্ছে?

কক্সবাজার সীমান্তে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যার ফল। সীমান্তে উত্তেজনা, গোলাগুলির শব্দ, অনুপ্রবেশের আশঙ্কা; এসব আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়: কেন এমন হচ্ছে?

এর মূল কারণ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা। দেশটিতে রাজনৈতিক সংঘাত, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা সীমান্ত এলাকাকে অনিরাপদ করে তুলেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রোহিঙ্গা সংকটের অমীমাংসিত বাস্তবতা। প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর অগ্রগতি না থাকায় সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, আর তার চাপ এসে পড়ছে কক্সবাজার সীমান্তে।

এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত একটি কৌশলগত চাপের জায়গায় পরিণত হয়েছে। যখন ভেতরের সমস্যা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে, তখন সীমান্তে উত্তেজনা অনেক সময় ভিন্ন বার্তা দেওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে। এতে সরাসরি যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু অস্থিরতা তৈরি হয়।

আরেকটি বাস্তবতা হলো; আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থ। কক্সবাজার কেবল একটি সীমান্ত অঞ্চল নয়; এটি ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। তাই এখানে যা ঘটে, তা বিভিন্ন পক্ষের নজরে থাকে এবং কখনো কখনো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বাংলাদেশ এই পরিস্থিতির জন্মদাতা নয়, কিন্তু প্রভাবভোগী দেশ। সীমান্তের এই অস্থিরতা দীর্ঘ হলে তা নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার উপর চাপ তৈরি করবে। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

কেন এই রকম হচ্ছে? এর উত্তর এক কথায় নেই। এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, অমীমাংসিত সংকট এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মিলিত ফল। এই বাস্তবতাকে বুঝেই বাংলাদেশকে সংযত, কিন্তু দৃঢ় অবস্থানে থাকতে হবে।
কারণ সীমান্তের নীরব অস্থিরতাও ভবিষ্যতের বড় সংকেত হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগ :

মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত

সম্পাদকীয়

কক্সবাজার সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: কেন এমন হচ্ছে?

আপডেট সময় : ০৫:১৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজার সীমান্তে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যার ফল। সীমান্তে উত্তেজনা, গোলাগুলির শব্দ, অনুপ্রবেশের আশঙ্কা; এসব আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়: কেন এমন হচ্ছে?

এর মূল কারণ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা। দেশটিতে রাজনৈতিক সংঘাত, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা সীমান্ত এলাকাকে অনিরাপদ করে তুলেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রোহিঙ্গা সংকটের অমীমাংসিত বাস্তবতা। প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর অগ্রগতি না থাকায় সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, আর তার চাপ এসে পড়ছে কক্সবাজার সীমান্তে।

এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত একটি কৌশলগত চাপের জায়গায় পরিণত হয়েছে। যখন ভেতরের সমস্যা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে, তখন সীমান্তে উত্তেজনা অনেক সময় ভিন্ন বার্তা দেওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে। এতে সরাসরি যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু অস্থিরতা তৈরি হয়।

আরেকটি বাস্তবতা হলো; আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থ। কক্সবাজার কেবল একটি সীমান্ত অঞ্চল নয়; এটি ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। তাই এখানে যা ঘটে, তা বিভিন্ন পক্ষের নজরে থাকে এবং কখনো কখনো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বাংলাদেশ এই পরিস্থিতির জন্মদাতা নয়, কিন্তু প্রভাবভোগী দেশ। সীমান্তের এই অস্থিরতা দীর্ঘ হলে তা নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার উপর চাপ তৈরি করবে। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

কেন এই রকম হচ্ছে? এর উত্তর এক কথায় নেই। এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, অমীমাংসিত সংকট এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মিলিত ফল। এই বাস্তবতাকে বুঝেই বাংলাদেশকে সংযত, কিন্তু দৃঢ় অবস্থানে থাকতে হবে।
কারণ সীমান্তের নীরব অস্থিরতাও ভবিষ্যতের বড় সংকেত হয়ে উঠতে পারে।