ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশে থাকার কারণে বন্যার সময় আসতে পারিনি,তার জন্যে ক্ষমা চাচ্ছি: নিজ সংসদীয় আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উখিয়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান : ২০ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর যুবক নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের ​পাহাড় কেটে মাটি পাচার করলেন জামায়াত নেতা, ঝুঁকিতে রোহিঙ্গাদের বসতি সরকারের মূল লক্ষ্য এখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা- লোহাগাড়ায় অর্থমন্ত্রী হোয়ানকের সন্ত্রাসী মিন্টু গ্রেফতার : অস্ত্র, গোলাবারুদ,অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার কক্সবাজার সৈকতে হঠাৎ টর্নেডো ‘আমরা থামছি না’— ফাইনালের আগে হুঙ্কার আর্জেন্টিনার চকরিয়ার বন্যকবলিত এলাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী/ সরকার সবসময় জনগণের পাশে থাকবে একসঙ্গে মরার সিদ্ধান্ত নিয়ে যমুনায় ঝাঁপ দিলেন প্রেমিক, পালিয়ে গেলেন প্রেমিকা স্টেজ ভেঙে পড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু চৌধুরী বন্যার্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে সরকার : অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপজয়ীদের প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নশিপ রিং দেবে ফিফা বন্যা কবলিত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত এমপি কাজলের ডিও লেটার: রামুর ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি

কক্সবাজার বিমানবন্দর: আতংক আকাশে নয়, মাটিতে!

আকাশে নয়, এবার আতঙ্ক নেমে এলো রানওয়েতে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিমানবন্দরে গত শনিবার সন্ধ্যায় উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে রানওয়েতে ঢুকে পড়ে একটি কুকুর। এতে বেসরকারি এয়ারলাইন এয়ার এস্ট্রার একটি ফ্লাইটের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কুকুরটি মারা যায় এবং ফ্লাইটটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্বিত হয়। যাত্রীদের মধ্যে দেখা দেয় চরম আতঙ্ক।

কুকুরের ধাক্কায় থমকে যায় উড্ডয়ন-

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ওই ফ্লাইটে ৭২ জন যাত্রী ছিলেন। কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর পাইলট সঙ্গে সঙ্গে উড়োজাহাজ থামিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পরে মৃত কুকুরটি সরিয়ে ফেললে রাত ৮টার দিকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

পুনরাবৃত্ত ঘটনার পরও স্থায়ী সমাধান নেই-

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে কুকুর, গরু, এমনকি ছাগল প্রবেশ করে উড়োজাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালে একইভাবে রানওয়েতে উড়োজাহাজের ধাক্কায় মারা যায় দুটি গরু। অথচ এখনো পর্যন্ত নেই কোনো নির্ভরযোগ্য প্রাণী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

নিরাপত্তা হুমকিতে বিমান চলাচল-

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) স্বীকার করেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরে জনবল সংকট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে নিয়মিত প্যাট্রোলিং করা সম্ভব হয় না। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কুকুর বা অন্য বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য ভয়াবহ হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আইকাওর (ICAO) নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ‘বার্ড শুটার’ ও প্রাণী তাড়ানোর আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা আবশ্যক। অথচ কক্সবাজার বিমানবন্দরে এখনো নেই কোনো বার্ড শুটার কিংবা কুকুর বা পাখি তাড়ানোর বিশেষ প্রযুক্তি।

যাত্রীদের আতঙ্ক ও ক্ষোভ-

একজন যাত্রী বলেন, ‘‘শনিবার বিমান হঠাৎ থেমে গেলে মনে হয়েছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরে শুনলাম কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে- তখন খুবই ভয় পেয়েছিলাম।’’

ব্যবস্থাপনার নাজুক অবস্থা-

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে সুরক্ষা প্রাচীরের ঘাটতি, এলোমেলো নির্মাণকাজ ও ঠিকাদারি জটিলতা পরিস্থিতি আরও সংকটময় করে তুলেছে। ১৮৯ জন আনসার নিয়োজিত থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলো না থাকা, পুরোনো যন্ত্রপাতি ও রাডার সমস্যাও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য-

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘‘কয়েকটি কুকুর রানওয়েতে ঢুকে পড়ে। দেয়ালের কিছু অংশে নির্মাণকাজ চলায় সেগুলো ফাঁক দিয়ে আসে। মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বার্ড শুটার আমাদের নেই। এয়ারফোর্স মাঝে মাঝে শুট করে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে কুকুর তাড়ানো ও দেয়াল মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’

‘সেফটি ফার্স্ট’–তবু নেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘সব বিমানবন্দরে বার্ড শুটার থাকা বাধ্যতামূলক। শুধু ঢাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই চলবে না। যাত্রী, পাইলট ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।’’

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে থাকার কারণে বন্যার সময় আসতে পারিনি,তার জন্যে ক্ষমা চাচ্ছি: নিজ সংসদীয় আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার বিমানবন্দর: আতংক আকাশে নয়, মাটিতে!

আপডেট সময় : ০৬:১১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

আকাশে নয়, এবার আতঙ্ক নেমে এলো রানওয়েতে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিমানবন্দরে গত শনিবার সন্ধ্যায় উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে রানওয়েতে ঢুকে পড়ে একটি কুকুর। এতে বেসরকারি এয়ারলাইন এয়ার এস্ট্রার একটি ফ্লাইটের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কুকুরটি মারা যায় এবং ফ্লাইটটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্বিত হয়। যাত্রীদের মধ্যে দেখা দেয় চরম আতঙ্ক।

কুকুরের ধাক্কায় থমকে যায় উড্ডয়ন-

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ওই ফ্লাইটে ৭২ জন যাত্রী ছিলেন। কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর পাইলট সঙ্গে সঙ্গে উড়োজাহাজ থামিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পরে মৃত কুকুরটি সরিয়ে ফেললে রাত ৮টার দিকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

পুনরাবৃত্ত ঘটনার পরও স্থায়ী সমাধান নেই-

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে কুকুর, গরু, এমনকি ছাগল প্রবেশ করে উড়োজাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালে একইভাবে রানওয়েতে উড়োজাহাজের ধাক্কায় মারা যায় দুটি গরু। অথচ এখনো পর্যন্ত নেই কোনো নির্ভরযোগ্য প্রাণী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

নিরাপত্তা হুমকিতে বিমান চলাচল-

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) স্বীকার করেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরে জনবল সংকট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে নিয়মিত প্যাট্রোলিং করা সম্ভব হয় না। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কুকুর বা অন্য বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য ভয়াবহ হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আইকাওর (ICAO) নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ‘বার্ড শুটার’ ও প্রাণী তাড়ানোর আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা আবশ্যক। অথচ কক্সবাজার বিমানবন্দরে এখনো নেই কোনো বার্ড শুটার কিংবা কুকুর বা পাখি তাড়ানোর বিশেষ প্রযুক্তি।

যাত্রীদের আতঙ্ক ও ক্ষোভ-

একজন যাত্রী বলেন, ‘‘শনিবার বিমান হঠাৎ থেমে গেলে মনে হয়েছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরে শুনলাম কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে- তখন খুবই ভয় পেয়েছিলাম।’’

ব্যবস্থাপনার নাজুক অবস্থা-

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে সুরক্ষা প্রাচীরের ঘাটতি, এলোমেলো নির্মাণকাজ ও ঠিকাদারি জটিলতা পরিস্থিতি আরও সংকটময় করে তুলেছে। ১৮৯ জন আনসার নিয়োজিত থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলো না থাকা, পুরোনো যন্ত্রপাতি ও রাডার সমস্যাও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য-

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘‘কয়েকটি কুকুর রানওয়েতে ঢুকে পড়ে। দেয়ালের কিছু অংশে নির্মাণকাজ চলায় সেগুলো ফাঁক দিয়ে আসে। মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বার্ড শুটার আমাদের নেই। এয়ারফোর্স মাঝে মাঝে শুট করে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে কুকুর তাড়ানো ও দেয়াল মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’

‘সেফটি ফার্স্ট’–তবু নেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘সব বিমানবন্দরে বার্ড শুটার থাকা বাধ্যতামূলক। শুধু ঢাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই চলবে না। যাত্রী, পাইলট ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।’’