বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকা কিছু কনটেন্ট নির্মাতার বক্তব্য ও ভিডিও জনমনে কক্সবাজার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করছে।
পাঁচ তারকা হোটেলে বসে পানির বোতলে ২০ টাকা লেখা থাকলেও বিল ১০০ টাকা, এমন অভিযোগ অবশ্যই প্রশ্নের দাবি রাখে। তবে হোটেলের পরিবেশ, সেবা ও ব্র্যান্ডের মূল্য বিবেচনা না করে শুধু পানির বোতলকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করাও কতটা যুক্তিসংগত? একইভাবে আলুভর্তা, ডাল কিংবা একটি ডাবের দাম ৬০০ টাকা, এমন দাবি প্রচারের আগে ঘটনার সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি।
অনিয়মের প্রতিবাদ হোক, কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কক্সবাজারকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হোক না।
কক্সবাজারের সীমাবদ্ধতা আছে, সমস্যা আছে, যেমন আছে দেশের অন্যান্য শহর ও পর্যটনকেন্দ্রেও। এসব সমস্যা তুলে ধরা দোষের নয়; বরং প্রয়োজন। কিন্তু সমালোচনা হতে হবে তথ্যভিত্তিক, ন্যায্য ও গঠনমূলক। বিশেষ করে যাঁদের অনুসারী বেশি, তাঁদের প্রতিটি বক্তব্যের সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
কক্সবাজার শুধু একটি জেলা শহর নয়; এটি সারা বাংলাদেশের মানুষের মিলনস্থল, পর্যটন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং অসংখ্য মানুষের জীবিকার উৎস। একে ‘মিনি বাংলাদেশ’ বললেও অত্যুক্তি হয় না। তাই কক্সবাজারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা মানে শুধু একটি অঞ্চলকে নয়, দেশের পর্যটনশিল্পকেও ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করা।
ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্ব আছে, ন্যায্য মূল্য, স্বচ্ছতা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে কনটেন্ট নির্মাতাদের দায়িত্ব হলো সত্য যাচাই করে কথা বলা, সমস্যার সমাধান দেখানো এবং জনপ্রিয়তাকে দায়িত্বহীন প্রচারণার হাতিয়ার না বানানো।
মনে রাখতে হবে, সমালোচনা সংশোধনের পথ দেখায়, আর অপপ্রচার অবিশ্বাস তৈরি করে।
আসুন, কক্সবাজারের ভুলগুলো তুলে ধরি, অনিয়মের প্রতিবাদ করি, কিন্তু তা করি যুক্তি, তথ্য ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে। কক্সবাজারকে ছোট করে নয়, বরং তার সমস্যাগুলো সমাধানে ভূমিকা রেখেই আমরা একে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
কক্সবাজারের সমালোচনা হোক, অপপ্রচার নয়। নিন্দা নয়, চাই গঠনমূলক উদ্যোগ।
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক 




















